Breaking News: বড়দিনেই চলে গেলেন ‘কলকাতার যিশু’র স্রষ্টা কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলা সাহিত্যের একটা যুগের অবসান হল। চলে গেলেন কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। মঙ্গলবার বেলা ১২টা ২৫ মিনিট নাগাদ দক্ষিণ কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর।

দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন তিনি। গত ৯ ডিসেম্বর তাঁকে বাইপাস লাগোয়া একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিডনি ও ফুসফুসের সংক্রমণে ভুগছিলেন তিনি।  চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, গত কয়েক দিন ধরেই তাঁর শরীর খারাপ হতে শুরু করেছিল। পা ফুলে গিয়েছিল। তবে লেখা থামাননি। অসুস্থ অবস্থাতেও কবিতা লিখতেন, সকলের সঙ্গে কথাও বলতেন। সোমবার হঠাৎই হৃদরোগে আক্রান্ত হন কবি। সেই ধাক্কা আর সামলাতে পারেননি।

১৯২৪ সালের ১৯ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন অবিভক্ত বাংলার ফরিদপুর জেলায়। তাঁর শৈশবরের পুরোটাই প্রায় কেটেছে তৎকালীন পূর্ববঙ্গে ঠাকুরদা, ঠাকুমার কাছে। তাঁর ঠাকুরদার কর্মজীবন কেটেছে কলকাতায়। তবে কর্মজীবনের শেষে ৫০ বছর বয়সে কলকাতা ছেড়ে তিনি চলে আসেন ফরিদপুরের চান্দ্রা গ্রামে।  কলকাতার একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে সহ-উপাচার্য হিসেবে কাজ করতেন কবির বাবা। কিন্তু কবির মন পড়েছিল বাংলাদেশেই। মা, বাবা কলকাতায় থাকলেও কবির ছেলেবেলা কেটেছে তাই বাংলাদেশেই। ঠাকুরদার মৃত্যুর পর তিনি পাকাপাকি ভাবে চলে আসেন কলকাতায়।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হয়ে তিনি সাংবাদিকতা শুরু করেন দৈনিক  ‘প্রত্যহ’ পত্রিকায়। একসময় যোগ দেন আনন্দবাজার পত্রিকায়। তাঁর হাত ধরেই শুরু হয় ‘আনন্দমেলা’ পত্রিকার পথ চলা। প্রতিষ্ঠানের ‘বানান বিধি’ সংকলনে তাঁর বড় অবদান রয়েছে।

https://www.youtube.com/watch?v=PS2yJsWRzzI

একাধারে কবি, প্রাবন্ধিক, ঔপন্যাসিক, ছোটো গল্পকার ও সম্পাদক নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘নীল নির্জন’ প্রকাশিত হয় ১৯৫৪ সালে। এই বইটির প্রচ্ছদ এঁকেছিলেন স্বয়ং সত্যজিৎ রায়। একে একে প্রকাশিত হয় ‘অন্ধকার বারান্দা’ (১৯৬১), ‘নিরক্ত করবী’ (১৯৬৫), ‘নক্ষত্রজয়ের জন্য’ (১৯৬৯), ‘কলকাতার যিশু’ (১৯৬৯), ‘খোলা মুঠি’ (১৯৭৪), ‘কবিতার বদলে কবিতা’ (১৯৭৬), ‘আজ সকালে’ (১৯৭৮), ‘পাগলা ঘণ্টি’ (১৯৮১), ‘ঘর-দুয়ার’ (১৯৮৩), ‘সময় বড় কম’ (১৯৮৪), ‘ঘুমিয়ে পড়ার আগে’ (১৯৮৭), ‘দেখা হবে’ (২০০২)-সহ অজস্র কবিতার বই। ১৯৭১ সালে লেখা ‘উলঙ্গ রাজা’ তাঁর সেরা রচনাগুলির মধ্যে একটি। এই কাব্যগ্রন্থের জন্য ১৯৭৮ সালে ‘সাহিত্য অকাদেমি’ পুরস্কার পান কবি নীরেন্দ্রনাথ। তা ছাড়াও একগুচ্ছ পুরস্কার রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। ১৯৫৮ সালে ‘উল্টোরথ পুরস্কার’, ১৯৭০ সালে ‘তারাশঙ্কর স্মৃতি’ ও ১৯৭৬ সালে ‘আনন্দ শিরমণি’ পুরস্কার পান কবি। ২০০৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সাম্মানিক ডি. লিট প্রদান করে।

ছোটবেলা থেকেই ছড়া লিখতে ভালোবাসতেন কবি নীরেন্দ্রনাথ। কবিগানের কথা একনাগাড়ে মুখস্থ আওড়ে যেতেন। চার বছর বয়সে কবির কাকিমা বলছিলেন, ‌’তুই তো দেখছি কবিদের মতো কথা বলছিস!’ শিশুদের জন্য তাঁর জনপ্রিয় রচনা ‘শাদা বাঘ’, ‘বিবির ছড়া।’ ‘কবিতার ক্লাস’ ও ‘পিতৃপুরুষ’ নামে কবিতা বিষয়ক তাঁর দু’টি প্রবন্ধগ্রন্থ রয়েছে। কবির লেখা বিখ্যাত কবিতা ‘অমলকান্তি।’ কবির সম্বন্ধে নাট্যকার, সাহিত্যিক ও অনুবাদক শিশিরকুমার দাস তাঁর ‘সাহিত্য সঙ্গী’তে লিখেছেন, ‘‘তাঁর ছন্দনৈপুণ্য প্রতিমা নির্মাণ কুশলতা, শব্দব্যবহারে নিজস্বতা তাঁর কবিতার জনপ্রিয়তার মূলে। প্রকৃতি ও প্রেম, সমকালীন জীবনের ছোট ছোট ঘটনার মধ্যে নাটকীয় সম্ভাবনা এবং গভীর জীবনচেতনার উপলব্ধি তাঁর কবিতার জগত।’’

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More