রেট্রো কলকাতার আমেজে জার্মান বিয়ারের চমক! ‘চ্যাপ্টার টু’-এ রমরমিয়ে চলছে অক্টোবর ফেস্ট

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    চৈতালী চক্রবর্তী

    কেমন হয় যদি জার্মান বিয়ারে চুমুক দিয়ে, স্টেক হাতে বলে ওঠেন চিয়ার্স!!

    মিউনিখে তো রমরমিয়ে চলছে অক্টোবর ফেস্ট। গোটা বিশ্ব এক কথায় যাকে চেনে ‘বিয়ার উৎসব’ নামে। মিউনিখে গিয়ে জার্মান বিয়ারের স্বাদ নেননি তো কী হয়েছে, হাতের কাছেই তো রয়েছে ‘চ্যাপ্টার টু’। অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান ফ্লেভারে বাঙালির রসনাকে তৃপ্ত করে চলেছে এই রোস্তোরাঁ। এর আনাচ কানাচে বিশ শতকের মাঝপর্ব থেকে ৬০-৭০ এর দশকের পার্ক স্ট্রিটের আবহ। রেট্রো ঘরানাকে বাঁচিয়ে রাখতে রেস্তোরাঁর অন্দরে সুখাদ্যের সঙ্গে সঙ্গীতের মেলবন্ধন। রসনার সঙ্গে সুরের এমন আশ্চর্য মিলমিশ তো ‘চ্যাপ্টার টু’-এরই বৈশিষ্ট্য।

    স্বাধীনতা দিবস থেকে প্রাক-পুজো— নিত্য নতুন চমকে ‘চ্যাপ্টার টু’ লা জবাব। দেশি খানার সঙ্গেই কন্টিনেন্টালের হাতছানি। এক কথায় সাহেবিয়ানার সেরা ঠিকানাই হল ‘চ্যাপ্টার টু’। অক্টোবর ফেস্টই বা সেখানে বাদ যায় কেন! কলকাত্তাইয়া বাঙালিকে সুদূর জার্মানির স্বাদ দিতে তাই হই হই করে গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ‘চ্যাপ্টার টু’তে শুরু হয়েছে বিয়ার উৎসব। শেষ হবে আগামী ৭ অক্টোবর। পুরোপুরিই জার্মানির ঘড়ির কাঁটা মিলিয়ে।

    তিলোত্তমার আর কোথাও থাক না থাক এই সময় রেস্তোরাঁর অন্দরে পা দিলে জার্মান ফ্লেভারে বাঙালি যে একেবারে মাখোমাখো হয়ে উঠবে সে বিষয়ে কোনও সন্দেহই নেই। উপড়ি পাওয়া ব্যান্ডের গান। গ্লাসে যখন বুদবুদ কাটবে কিংফিশার প্রিমিয়াম, কানে আসবে এলভিস প্রেস্টলি বা জন লেনন। জার্মান ফেভারিট প্রেৎজেলে কামড় বসিয়ে সমুদ্রনীল কোনও ককটেলে চুমুক দিয়ে মনে হতেই পারে সার্থক জনম আমার। সব্জির ঘেরাটোপে রোস্টেট ল্যাম্ব ফর্ক দিয়ে কাটতে কাটতে, বিয়ার বিফ স্টু’তে একটা আলতো চুমুক— মন আর জিভ দুইই মজে যাবে।

    আরও পড়ুন: স্বাদে-গন্ধে ৭৫ বছর পার, ‘সিরাজ গোল্ডেন রেস্তোরাঁ‘র আনাচ-কানাচে লখনউ সূর্যাস্তের আভা

    মিউনিখেও গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে গেছে অক্টোবর ফেস্ট। চলবে অক্টোবরের ৭ তারিখ পর্যন্ত। জার্মানির অন্যতম ঐতিহ্য এই উৎসব পা দিল ১৮৫ বছরে। মিউনিখের ‘খেরেসিয়েনওয়েজ’ বা থেরেসার মাঠে অনুষ্ঠিত হয় এই উৎসব। এ বছর বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে উৎসব প্রাঙ্গনে হাজির হয়েছেন ৬০ লক্ষেরও বেশি মানুষ। নাচ-গান-খানা-পিনায় গোটা মিউনিখ জুড়ে যেন আনন্দের হাট বসেছে।

    ঐতিহ্যশালী এই উৎসব জুড়ে গিয়েছে জার্মানির সংস্কৃতির সঙ্গেও। সুপ্রাচীন এই উৎসবের সূচনা হয় ১৮১০ সালে জার্মান যুবরাজ লুডভিগ, স্যাক্সন রাজকন্যা থেরেসার বিয়েকে উপলক্ষ্য করে। রাজকীয় এই বিয়ের আয়োজন শুধু রাজ পরিবারের চৌহদ্দির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বরং রাজ দরবারের দরজা খুলে দেওয়া হয়েছিল জন সাধারণের জন্যও। রাজ মহলের প্রাঙ্গনে নেচে, গেয়ে উৎসবের সূচনা করেছিলেন ব্যাভ্যারিয়ানরা। আয়োজন করা হয়েছিল ঘোড়দৌড় এবং পানীয় উৎসবের। তার পর থেকেই বছরের ওই নির্দিষ্ট সময় এই উৎসব পালন করাটা একটা ট্রাডিশন হয়ে দাঁড়ায়। ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশে যায় সংস্কৃতিও।

    এ তো গেল অক্টোবর ফেস্টের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস। এখন গুগলের দৌলতে বা ম্যাগাজিনের পাতা উল্টিয়ে যাঁরা এই ফেস্টের সঙ্গে পূর্ব পরিচিত তাঁরা আন্দাজ করতেই পারবেন জার্মান ঐতিহ্যের সেই ফ্লেভারটা খাস মহানগরীর বুকে ফুটিয়ে তোলাটা কতটা দুঃসাধ্য কাজ। তবে, এই অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন দুই কর্ণধান ভাই শিলাদিত্য ও দেবাদিত্য চৌধুরী। মণিস্কোয়ারের ‘চ্যাপ্টার টু’-এর গোড়াপত্তন তাঁদের হাত ধরেই। ষাটের দশকের পুরনো পার্ক স্ট্রিটকে টাইম মেশিনে চাপিয়ে তাঁরাই প্রথম এই রেস্তোরাঁর অন্দরে এনে ফেলেছিলেন। ডাল-ভাতের বাঙালিকে বিফ স্টেক-পর্কে বাঁচতে শিখিয়েছিলেন। যে বং কালচার নিঃশব্দে, ঘাপটি মেরে বাঙালির ভিতর লুকিয়ে ছিল, তাকেই প্রথম আস্কারা দেয় ‘চ্যাপ্টার টু’। কাজেই বিদেশি উৎসবও যে বাঙালির হাত ধরে একটা অন্য মাত্রা পাবে সেটা বলাই বাহুল্য।

    আরও পড়ুন: পাতে স্টেক, গ্লাসে ককটেল, কানে গান..ফুড-ফান-মিউজিকে ‘চ্যাপ্টার টু’..চিয়ার্স!

    তবে, ভোসনরসিক বাঙালি তো শুধু পানীয়তে মজে না, চর্ব-চোষ্য ভুরিভোজের শেষে চর্বি চর্চিত ভুঁড়িতে হাত না বোলালে বাঙালির ঠিক রসনা তৃপ্ত হয় না। তাই অক্টোবর ফেস্টকে আপাদমস্তক বাঙালি ঘরানায় পারফেক্ট করে তুলতে খাবারেরও ঢালাও আয়োজন রয়েছে রেস্তোরাঁয়। গ্রিলড ব্রাটওয়ার্সট সসেজের সঙ্গে প্রেৎজিল, ওয়াইনার স্কিনৎজেলের স্বাদ নিতে নিতে বেকন ও অ্যাসপারাগাসে মোড়া প্রেৎজিল, টেন্ডারলয়েন স্টেক, পোচড্ বেকটির সঙ্গে চিকেন রউলেড। খাবারের প্রাচুর্যে জার্মানি, অস্ট্রিয়া, অস্ট্রেলিয়া সব মিলেমিশে যাবে।

    ট্রাভেল চ্যানেলে বিদেশি উৎসব দেখে আফশোস করেন যে সব ক্যালকাটানরা, তাঁরা এই সময় একবার ঢুঁ মারতেই পারেন ‘চ্যাপ্টার টু’তে। বিয়ার না-পসন্দ যাঁদের বা অ্যালকোহলে আপত্তি রয়েছে, সুস্বাদু খাবারের টানে তাঁরাও ঘুরে আসতে পারেন এই রেস্তোরাঁতে। জ্যাজ বা ব্লুজ শুনতে শুনতে ককটেল না হোক, মকটেলের লম্বা চুমুক দিয়ে জার্মান স্টাইলে বলতেই পারেন…Prost থুড়ি Cheers!!

    আরও পড়ুন: স্বাধীনতা দিবসে ভোজের থালায় দেশি-ফিউশন-ককটেল

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More