রবিবার, আগস্ট ২৫

নীল জল উধাও, দিঘার সমুদ্রে নামতেই কাদায় মাখামাখি শরীর, কেন?

কিরণ মান্না, পূর্ব মেদিনীপুর: পুরোপুরি পাল্টে গেছে জলের রঙ। আজ সকাল থেকেই। সমুদ্রে নামলেই কাদায় মাখামাখি হয়ে যাচ্ছে শরীর, পোশাক। আর এতেই হইচই পড়ে গেছে দিঘায়। আতঙ্ক, উদ্বেগ, কৌতূহল, সব মিলেমিশে একাকার। এই অবস্থায় সমুদ্রে নামতে ভরসা পাচ্ছেন না অনেকে। কেউ আবার কাদা মেখে বেজায় খুশি।

এরই মধ্যে আগামি ২৪ ঘণ্টায় ঘূর্ণিঝড়ের পুর্বাভাস জানিয়ে দিঘার সৈকতে মাইকে প্রচার শুরু করেছে পুলিশ। পর্যটকদের সমুদ্রে নামতে বারণ করা হচ্ছে। সব কিছু মিলিয়েই বৃহস্পতিবার দিঘার ছবিটা বেশ অন্যরকম।

আজ ভোর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পাল্টাতে শুরু করে সমুদ্রের রঙ। বেলা গড়িয়েছে যত, ততই কাদা মাখা ঘোলা রঙ হয়েছে সমুদ্রের জলের। সকাল সকাল স্নান করতে এসে রীতিমতো বিড়ম্বনায় পড়েন পর্যটকরা। তাঁরা জানান, সমুদ্রে নামতেই সারা গা কাদায় মাখামাখি হয় যাচ্ছে। স্নান করে সেই কাদা ধুয়ে ফেলা সম্ভব হয়নি। এই অবস্থায় বেড়াতে এসে সমুদ্রে নামা হয়নি মধ্যবয়স্কা শিউলি ভদ্রের। বলছিলেন, এতবছর ধরে দিঘায় আসি, এমন কখনও দেখিনি। যাঁরা সমুদ্রে নামছেন সবাই উঠে আসছেন কাদায় মাখামাখি হয়ে।

সমুদ্রের পাড়ে ডাব বিক্রি করেন উত্তম গিরি। বহু বছর ধরে। তাঁর কথায়, সমুদ্রে এমন কাদাজল আমি আগে কখনও দেখিনি। যারা সমুদ্রে নামছেন, উঠে আসছেন যখন, মনে হচ্ছে কাদা থেকে উঠছেন।

আরেক পর্যটক সেখ সাত্তার বলেন, গতকালও দিঘার সমুদ্রে স্নান করেছি। জলের রঙ এমন ঘোলাটে ছিল না। বুধবার হঠাৎ করে রং পরিবর্তনের কারণ কী, তা বুঝতে পারলাম না। তবে জামা কাপড় কাদা হয়ে যাওয়ার ভয়ে এ দিন স্নানে নামিনি। জলের রং পরিবর্তনটা খুব চোখে লাগছে। এর আগে বহুবার দিঘা এসেছি। এমন ঘোলাটে জল কখনও দেখিনি। তাই সমুদ্রে স্নান না করে আজ হোটেলে স্নান করলাম।

তবে পরিবেশবিজ্ঞানীরা কিন্তু বিষয়টিকে ততটা উদ্বেগের বলে মনে করছেন না। সমুদ্র বিজ্ঞানী আনন্দদেব মুখোপাধ্যায় বলেন, “এটা ওশান ডায়নামিকসের একটা পর্ব। সেরিমেন্ট লোড বেড়ে গেছে সমুদ্রে। তাই ঘোলা হয়ে গেছে জল। বেড়েছে বালির ও কাদার পরিমাণ। এটা খুব একটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। আবার স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে। সুবর্ণরেখায় বাঁধ দেওয়ার জন্যেও এমনটা ঘটতে পারে।

রামনগর ১ এর বিডিও আশিস কুমার রায় বলেন, সমুদ্র বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। বৃষ্টি না হওয়ার কারণে সমুদ্রে সেরিমেন্ট লোড বেড়ে গিয়ে এমনটা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁরা। উদ্বেগের কিছু নেই। তবুও তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

প্রশাসনের তরফে এবং বিজ্ঞানীরা আশ্বস্ত করলেও হতাশা কিন্তু পিছু ছাড়ছে না। কখন পুরনো চেহারা ফিরে পাবে দিঘার সমুদ্র, সেদিকেই এখন তাকিয়ে ঘুরতে আসা পর্যটকরা।

Comments are closed.