রবিবার, আগস্ট ২৫

এ বার আর হাতে নয়, মেশিনে তৈরি মিডডে মিল খাবে পড়ুয়ারা

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান : রঙচটা ইতিউতি ঝুলে ভরা অস্বাস্থ্যকর রান্নাঘরে, অপরিষ্কার বাসনে আর নয়, এ বার মিডডে মিলের রান্না হবে মেশিনে। পাইলট প্রজেক্ট শুরু হচ্ছে বর্ধমানের ভাতারে। টেন্ডার প্রক্রিয়া প্রায় শেষ। অগস্ট-সেপ্টেম্বরেই নতুন ব্যবস্থা চালু হবে বলে আশা।

এমনিতেই মিডডে মিল নিয়ে অভিযোগের অন্ত নেই। খাবারের মান, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা নিয়ে হাজারো অভিযোগ, অনুযোগ। পোকাধরা বা নিম্নমানের চাল, ডাল দিয়ে মিডডে মিলের রান্না হচ্ছে কিংবা পড়ুয়াদের পাতে কম খাবার দেওয়া হচ্ছে, অভিভাবকদের এমন অভিযোগ কার্যত নিত্য নৈমিত্তিক। মিডডে মিল নিয়ে এমন অভাব, অভিযোগ থেকে মুক্তি পেতেই নতুন করে পরিকাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেন জেলাশাসক বিজয় ভারতী। পরীক্ষামূলকভাবে ভাতার কিষাণমাণ্ডিতে নতুন এই প্রকল্পের রূপায়ণ হবে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, এই মেশিন বসলে মিডডে মিলের খাবার নিয়ে যে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে তা যেমন রোধ করা যাবে, পাশাপাশি খাবারের মানও আরও উন্নত করা যাবে।

সম্পূর্ণ বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে খাবার তৈরি হয় এই মেশিনে। রান্নার উপকরণে হাত ছোঁয়াতে না হওয়ায় পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যও বজায় থাকে। খুবই কম সময়ে রান্না করা যায় বহু মানুষের খাবার। তাই সব কিছু মাথায় রেখেই এই নয়া ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন তিনি।

জেলা প্রশাসনসূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রাথমিক স্কুলের মিডডে মিলের পড়ুয়াদের জন্য বরাদ্দ (চাল বাদে) মাথাপিছু ৪ টাকা ৪৮ পয়সা এবং উচ্চ প্রাথমিকের জন্য ৬ টাকা ৭১ পয়সা। গোটা জেলায় মিডডে মিলের পরিষেবা পাচ্ছে ৫ লক্ষ ৮৫ হাজার পড়ুয়া। সব কিছু ঠিকঠাক চললে অগষ্ট কিংবা সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই প্রকল্প চালু হয়ে যাবে। তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটুর থেকে আনা হচ্ছে উন্নত ধরণের মেশিন। সেই মেশিনে একসঙ্গে ২ হাজার জনের জন্য প্রয়োজনীয় রান্না করা যাবে।

প্রথম ধাপে পরীক্ষামূলকভাবে এই প্রকল্প চালু হচ্ছে ভাতার গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। ভাতারের কিষানমান্ডিতে বসানো হবে এই মেশিন। জেলাশাসক জানান, এখানে ১৬টি প্রাথমিক স্কুল এবং ৪টি এসএসকের প্রায় ২ হাজার পড়ুয়া এবং গর্ভবতী মহিলার কাছে খাবার পৌঁছানো যাবে। গোটা প্রকল্পই পরিচালনা করবেন স্বয়ম্ভর গোষ্ঠী। যাঁরা এই সমস্ত স্কুলে রান্নার কাজ করতেন তাঁরাই পর্যায়ক্রমে এই মেশিনের মাধ্যমে খাবার তৈরি ও সরবরাহের দায়িত্বে থাকবেন। প্রথম ধাপে ইকো রিক্সার মাধ্যমে ভাতার কিষাণমাণ্ডি থেকে তৈরি হওয়া খাবার টিফিন বাক্সে করে স্কুলে স্কুলে পাঠানো হবে।

গোটা প্রকল্পের জন্য মোট খরচ ধরা হয়েছে ১৫ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা।

Comments are closed.