রবিবার, আগস্ট ২৫

#BREAKING: স্বামীকে খুনে দোষী সাব্যস্ত বারাসতের মনুয়া ও তার প্রেমিক, কাল সাজা

দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর ২৪ পরগনা : বারাসতের মনুয়া কাণ্ডে রায় ঘোষণা করল আদালত। অনুপম সিংহ হত্যা মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলেন তাঁর স্ত্রী মনুয়া মজুমদার ও মনুয়ার প্রেমিক অজিত রায়। আজ বারাসত আদালতের ফার্স্ট ট্র্যাক ফোর্থ কোর্টের বিচারক এই রায় দেন।

খুনের ২৬ মাস পরে গত ১৫ জুলাই এই মামলার রায়দান হওয়ার কথা ছিল। তবে সে দিন রায় দান পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। স্বামীকে খুনের অভিযোগে সম্প্রতি বিচার শেষ হয়েছে অনুপমের  স্ত্রী মনুয়া মজুমদার ও তার প্রেমিক অজিত রায়ের ।

২০১৭ সালের ২ মে পরকীয়ার জেরে এই খুনের অভিযোগ হতচকিত করেছিল রাজ্যবাসীকে। অভিযোগ ওঠে প্রণয়ঘটিত কারণে প্রেমিকের সঙ্গে চক্রান্ত করে স্বামী অনুপম সিংহকে খুন করে মনুয়া। খুনের ১৩ দিনের মাথায় প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা পুলিশ বারাসত থেকে মনুয়া মজুমদার ও তাঁর প্রেমিক অজিত ওরফে বুবাইকে গ্রেফতার করে।

২০১৭ সালে মে মাসের তিন তারিখ সকালে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন সংস্থায় কর্মরত অনুপম সিংহকে (৩৪) তাঁর বাড়িতেই নৃশংস ভাবে খুন হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। তদন্তে জানা যায়, তাঁর মাথায় ভারী অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে খুন করা হয়েছিল আগের রাতেই।

পুলিশ প্রথমে এই খুনের সঙ্গে আর্থিক লেন‌দেন সংক্রান্ত গোলমাল সন্দেহ করেছিল। পরে অবস্থাপন্ন অনুপমের খুনের পিছনে টাকাপয়সার প্রত্যক্ষ সংযোগ পুলিশ খুঁজে পায়নি । নোটবাতিলের সময়ে হুন্ডির সঙ্গে অনুপমের সংস্থার প্রত্যক্ষ যোগাযোগ ছিল বলে জানা গেলেও খুনের সঙ্গে এই বিষয়ে কোনও যোগ পাওয়া যায়নি।

যে দিন গভীর রাতে খুন হয়েছিলেন অনুপম, সে দিন তাঁর স্ত্রী বাপের বাড়িতে ছিলেন বলে দাবি করলেও ঘটনার দিন দুপুরে হৃদয়পুরে অনুপমের বাড়িতে অনুপমের অগোচরে অজিত, মনুয়ার উপস্থিতি টের পায় পুলিশ। তদন্তে জানা যায়, মনুয়া ওই বাড়ি থেকে বারাসতে বাপের বাড়ি ফিরলেও থেকে গিয়েছিল অজিত। পুলিশ এই সূত্র ধরেই তদন্তের জাল গুটিয়ে আনতে থাকে।

এই হত্যাকাণ্ডের ৮৬ দিন পরে চার্জশিট জমা দেয় বারাসত থানার পুলিশ। এর মধ্যে ফিংগারপ্রিন্ট ও ফরেনসিক রিপোর্টও ছিল । ৩০২ ও ১২০বি ধারায় খুন ও ষড়যন্ত্রের মামলা চলে। ২৭ জন সাক্ষী ছিলেন।  নিহত অনুপমের পরিবার ও বন্ধুরা অভিযুক্ত দু’জনের মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছে।

অনুপমের বাবা জগদীশ সিংহ ও মা কল্পনা সিংহ এ দিন সকাল সকালই চলে এসেছিলেন আদালতে। রায় বেরোনোর পরে তারা বলেন, “আমাদের চোখের জল বৃথা যাবে না। ওদের ফাঁসির সাজা হলে তবেই শান্তি পাবে আমাদের সন্তানের আত্মা।”

Comments are closed.