বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৭

বয়স মাত্র ২৪, ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে মুম্বই দাপাচ্ছেন প্রথম মহিলা বাসচালক প্রতীক্ষা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাস্তাঘাটে এখন আকছারই দেখা যায়, গাড়ির স্টিয়ারিংয়ে রাজত্ব করছেন মহিলারা। কয়েক বছর আগে পর্যন্তও মহিলাদের এই ভূমিকায় খুব বেশি দেখা যেত না। দেখা গেলেও, পেশাগত ভাবে কখনওই নয়। কিন্তু ইদানীং সেই ধারণাকে ভেঙে খানখান করে দিয়ে অটো, টোটো, ট্যক্সি চালিয়ে রোজগারের পথে নেমেছেন বহু মহিলা। দক্ষিণ ভারতের কোনও কোনও শহরে বাস চালাতেও দেখা গিয়েছে তাঁদের। যদিও বাস-ট্রাকের মতো ভারী যানবাহনে চালকের আসনে পুরুষদেরই দেখতে অভ্যস্ত আমাদের চোখ। সেই অভ্যেসের পরোয়া না করেই এ বার বাসের চালকের আসনে বসলেন তরুণী প্রতীক্ষা দাস৷ তা-ও আবার মুম্বইয়ের ব্যস্ত রাস্তা দাপিয়ে বেড়ানোর অঙ্গীকার ও দায়িত্ব হাতে নিয়ে।

তবে আর পাঁচটা ব্যতিক্রমী গল্পের মতো নেহাৎ বাধ্য হয়ে কিংবা রোজগারের তাড়নায় এই সিদ্ধান্ত নেননি ২৪ বছরের প্রতীক্ষা। নিজের প্যাশনকে রীতিমতো তাড়া করে এই পেশায় পৌঁছেছেন তিনি। মালাডের ঠাকুর কলেজ থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করার পরেই এই পেশায় যোগ দিতে এসেছেন তিনি৷

কিন্তু ইঞ্জিনিয়ার না হয়ে বাসচালক! কেন? এই প্রশ্নটাই ঘোরাফেরা করছে প্রতীক্ষার আশপাশে। তিনি জানিয়েছেন, পড়াশোনা শেষ করে, মোটা মাইনের চাকরি খুঁজে, প্রথামাফিক জীবন কাটাতে মোটেই স্বচ্ছন্দ নন তিনি। তাই গত ছ’বছর ধরে ড্রাইভার হওয়ার স্বপ্নই দেখেছেন। তবে মোটেই ছোট-খাটো গাড়ি নয়, হেভি ভেহিক্যাল।

এই কারণেই, বাইক দিয়ে শুরু করে, তিন চাকা, চার চাকা– সব কিছু চালালেও তাঁকে আকর্ষণ করেছে বাস এবং ট্রাক৷ যা চালিয়ে রীতিমতো উচ্ছ্বসিত প্রতীক্ষা৷ সেই উচ্ছ্বাসেই নিজের পছন্দের পেশাও খুঁজে নিয়েছেন এবার। শুধু তা-ই নয়, সকলে বলছেন, একেবারে পাকা চালকের মতো বাস চালাচ্ছেন প্রতীক্ষা। মেয়ে হয়েও বাস চালানো নিয়ে কাউকে কোনও প্রশ্ন করার সুযোগই রাখছেন না!

স্কুলে পড়ার সময়ে রচনা লেখার সময়ে, ‘জীবনে কী হতে চাও’ প্রসঙ্গে সকলেই শিক্ষক বা চিকিৎসক বা পাইলট হতে চায়। কেউ কেউ অবশ্য চেয়েছে, বাস কনডাকটর হবে। ছোটবেলায় কখনও না কখনও হাতে টিকিট নিয়ে বাসের কনডাকটর হিসেবে খেলেনি, এরকম বাচ্চা হয়তো খুব কমই আছে। কিন্তু বাসের ড্রাইভার হওয়ার কথা কেউ কখনও লিখেছে বা বলেছে বলে মনে করা বেশ কষ্টকর৷ ব্যতিক্রমী পদক্ষেপে এমনটাই করে দেখালেন প্রতীক্ষা দাস৷

প্রতীক্ষা আরও জানিয়েছেন, ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি অর্জন করার পরে তিনি আরটিও অফিসার হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন৷ সে জন্য হেভি ভেহিকেলস চালানোর লাইসেন্সের প্রয়োজন ছিল তাঁর৷ সেই লাইসেন্স জোগাড় করার জন্য বড় গাড়ি চালানো শিখতে গিয়েই আরও ডানা মেলে স্বপ্ন। সেই স্বপ্নকে ছুঁতেই ছ’টনের ইয়াব্বড় রঙিন বাস নিয়ে যানবাহনে গিজগিজ করে মুম্বইয়ের পথে নেমেছেন প্রতীক্ষা।

আরও পড়ুন…

রাস্তা কারও একার নয়, পেশাও কারও বাঁধা নয়! ১৪ চাকার ট্রাক হাঁকিয়ে নারীমুক্তির সড়কে ছুটছেন যোগিতা

Comments are closed.