মঙ্গলবার, নভেম্বর ১২

চাঁদা নয়, বাড়ি বাড়ি ঘুরে পুরনো পোশাক চাইছে বর্ধমানের ফ্রেন্ডস ক্লাব

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান : এক মুহূর্ত সময় আর হাতে নেই। বাড়ি বাড়ি ঘুরছেন ওঁরা। সকাল থেকে রাত। কখনও হেঁটে, কখনও টোটোতে। পুজো দরজায় কড়া নাড়লে এমন ব্যস্ততা তো বাড়ে অনেকেরই। ওঁদের ব্যস্ততাও পুজোকে ঘিরেই। তবে অন্য মাত্রা রয়েছে সেখানে। পাড়ায় পাড়ায় বাড়ি বাড়ি ঘুরে পুরনো পোশাক সংগ্রহ করছেন বর্ধমান বোরহাট ফ্রেণ্ডস ক্লাবে সদস্যরা। রঙ জ্বলে যাওয়া ছেড়া পোশাক নয়, অল্প পুরনো কিন্তু দিব্যি দেখতে এমন। অর্থাৎ মেজেঘসে তা যেন তুলে দেওয়া যায় কারও হাতে।

কেউ স্টেশন চত্বরে থাকেন। বস্তির ঘরে মাথা গুঁজে রয়েছেন কেউ। নুন আনতে পান্তা ফুরনো সংসারে সন্তানদেরও নতুন জামা কিনে দেওয়ার সাধ্য নেই অনেকেরই। উৎসবের আলোর নীচে শতচ্ছিন্ন ছেঁড়া পোশাক পরা তাঁদের সাদা কালো জীবন। উৎসবের রঙ ছুঁয়ে যাক এঁদেরও, চাইছেন ফ্রেন্ডস ক্লাবের সদস্যরা। সেই মানবিক উদ্যোগ নিয়ে মাঠে নেমেছেন তাঁরা।  পুজো করছেন না। তাই চাঁদা চাওয়ার প্রশ্ন নেই। বরং বাড়ি বাড়ি গিয়ে দাঁড়াচ্ছেন পোশাক সংগ্রহের জন্য।

‘এই পুজো হোক মানবতার’, এই বার্তা দিয়ে সারা দিন টোটো নিয়ে ঘুরছেন বিশ্বজিৎ দাস, মৃন্ময় পাল, সুজয় দাস, বিজয় দাস, অভিজিৎ বাগ, সৌরভ দাসরা। বাড়ি বাড়ি গিয়ে চাঁদার বদলে চাইছেন পোশাক। শেষ পুজোয় পরার পরে হয়তো একটু ছোট হয়ে গিয়েছে। অনেকের কাছেই তা অপ্রয়োজনীয়। সেই সব পোশাক সংগ্রহ করে তা ভাল ভাবে পরিষ্কার করে তুলে দেওয়া হবে তাঁদের হাতে, যাঁদের পুজো মানেই নতুন পোশাক নয়।

রথতলা, টিকরহাটের নানা পাড়ায় ঘুরে ইতিমধ্যেই প্রায় পাঁচশো জনের জামাকাপড় জোগাড় করে ফেলেছেন তাঁরা। প্রতিদিন যেগুলি পাচ্ছেন, তা বাছাই করে দেওয়া হচ্ছে লণ্ড্রিতে। পোশাক নতুন না হলেও পুজোয় পরার মতো অবস্থায় রয়েছে এমন পোশাকই তাঁরা দেবেন বলে জানিয়েছেন।

উদ্যোক্তাদের মধ্যে সুজয় দাস বলেন, ‘‘উৎসবের আলো থেকে কেউ যেন বাদ না যায়, সেদিকেই লক্ষ্য থাকবে আমাদের। খুবই ভাল সাড়া পাচ্ছি। অনেকেই পুরনো জামাকাপড়ের সঙ্গে সদ্য কেনা পোশাকও তুলে দিয়েছেন আমাদের ঝুলিতে। কিছু নতুন পোশাক কিনে তা বিলিরও চেষ্টা করব আমরা।’’

Comments are closed.