সোমবার, অক্টোবর ১৪

পুলিশের চোখে ফেরার, সরকারি অনুষ্ঠানে মঞ্চ আলো করে বাবু মাস্টার

দ্য ওয়াল ব্যুরো, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: তিনি ফেরার। অন্তত এমনটাই দাবি পুলিশের। আদালতকে তা লিখিত ভাবেও জানিয়ে দিয়েছে পুলিশ। সেই অভিযুক্ত বাবু মাস্টারকেই আজ দেখা গেল সরকারি অনুষ্ঠান মঞ্চে। এমনকী অনুষ্ঠান শেষের পর পুলিশি নিরাপত্তাতেই বেরিয়ে গেলেন তিনি।

সন্দেশখালিতে দুই বিজেপি কর্মী খুন ও পাঁচজন নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় যে দুজনের নাম অভিযুক্তদের তালিকায় জ্বলজ্বল করছে, তাদের একজনের নাম সেখ শাহজাহান। অন্যজন বাবু মাস্টার। সন্দেশখালি কাণ্ডে এদের নামে এফআইআর দায়ের হলেও তারা দুজনেই ফেরার বলে দাবি করে পুলিশ। সেই বাবু মাস্টারকেই আজ দেখা গেল উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা পরিষদের তেত্রিশতম প্রতিষ্ঠাতা দিবসের অনুষ্ঠানে। জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ যে তিনি।  বুক বাজিয়ে পুলিশের সামনেই তিনি জানিয়ে দিলেন তিনি ফেরার নন, কিন্তু সন্দেশখালির ঘটনার সঙ্গে কোনও যোগ নেই তাঁর। জেলা শাসক চৈতালী চক্রবর্তী সব কিছুই দেখলেন তবে কোনও মন্তব্য না করে বুঝিয়ে দিলেন কিছু ক্ষেত্রে কার্যত মূক বধির থাকাই শ্রেয় মনে করছে প্রশাসন।

বাম আমলে তার বিরুদ্ধে বহু তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী ও সমর্থকদের খুন, জখম, লুঠপাট, ধর্ষণ ও তোলাবাজির অভিযোগ ছিল বাবু মাস্টার ওরফে ফিরোজ কামাল গাজির বিরুদ্ধে। বছর কয়েক আগেও উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা মন্ত্রীরা প্রকাশ্যে মঞ্চে দাঁড়িয়েই বহু বার বসিরহাটের হিঙ্গলগঞ্জ ও সন্দেশখালির ত্রাস শেখ শাজাহান ও বাবু মাষ্টারের অত্যাচারের বিরুদ্ধে গলা ফাটিয়েছেন। কয়েকবছর আগে এক সময় ন্যাজাটে প্রশাসনিক সভা করতে এসে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিপিআইএম আশ্রিত এই দুই দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে নাম করেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। আবার সন্দেশখালির হাটগাছি গ্রামে রাজনৈতিক সংঘর্ষের পর স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী কী করে এই দুই কুখ্যাত দুষ্কৃতীকে সমাজসেবক ও ভালো সংগঠক বলে আখ্যা দেন তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন এলাকার মানুষ। সিপিএম থেকে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করার ফলেই কি রাতারাতি যাদুকাঠির বলে সমাজসেবী হয়ে গেলেন তারা?

আজ জেলা পরিষদের অনুষ্ঠানে বাবু মাস্টারকে উপস্থিত দেখে সাংবাদিকরা জানতে চান, তিনি কি জামিন নিয়ে এসেছেন? উত্তরে বাবু মাস্টার বলেন, “জামিন নেওয়ার প্রশ্ন নেই। ওই দিনের ঘটনার সঙ্গে আমার কোনও যোগই নেই। আমি যেখানে থাকি সেখান থেকে অনেক দূরে ওই ঘটনা ঘটেছে। সমস্ত মিথ্যে।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত জেলাশাসক চৈতালি চক্রবর্তীকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে, তিনি কোনও মন্তব্য না করেই গাড়িতে উঠে যান।

Comments are closed.