সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৩

তৃণমূলী নয়, ওরা তোলামূলী, ‘নব্যদের’ বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন এক আদি নেতা  

দ্য ওয়াল ব্যুরো : ক্ষোভ ছিল। তবে শৃঙ্খলার স্বার্থে মুখ খোলেননি এতদিন। আজ দলের বিপর্যয়ে যেন বাঁধ ভাঙলো। খারাপ ফলের কাঁটাছেড়া করতে বসে দলের নব্য নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একসময়ের সেনাপতিরা।

আলিপুরদুয়ার লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস বিপুল ভোটে হারার পর মুখ খুললেন প্রদেশ তৃণমূল কংগ্রেসের সহ সভাপতি জহর মজুমদার। চাঁছাছোলা ভাষায় বিঁধলেন নব্য তৃণমূলের নেতাদের। আজ আলিপুরদুয়ারে সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি বলেন, আমরা যাঁরা প্রথম দিন থেকে তৃণমূলের সাথে ছিলাম তাঁরা আজ ব্রাত্য। অথচ ২০১১র বিধানসভা নির্বাচনে দল ক্ষমতায় আসার পর যাঁরা তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছে তাঁরা বিভিন্ন ক্ষমতা দখল করে বসে আছে। তাঁদের জন্যই আজকের এই হার আলিপুরদুয়ারে।

বিরক্তি গোপন করতে পারেননি দক্ষিণ দিনাজপুরের তৃণমূল জেলা সভাপতি বিপ্লব মিত্রও। তাঁর কথায়, “দুটো লোক জড়ো করার ক্ষমতা নেই যাঁদের, তাঁরাই বড় বড় পদ নিয়ে দলে মাতব্বরি করছে। দলের আজ এমন পরিস্থিতি যে তাঁদের জন্যই তা বলার অপেক্ষা রাখে কি?”

এমনকী দলের নেতাদের একাংশকে এ দিন তোলাবাজ বলেও চিহ্নিত করেন জহরবাবু। বলেন, “নব্য তৃণমূলীদের সবাইকে তোলামূলী বলা যায়। কারণ এরা সবাই তোলাবাজি করতে এই দলে যোগদান করেছে। কিছু ঠিকাদার আগে বামপন্থীদের তোষামোদ করতো, এখন তৃণমূলের নেতা হয়ে দলটিকে নষ্ট করছে। আর যারা পরে এসে দলটিকে নষ্ট করে দিচ্ছে তাদের কোনও অধিকার নেই তৃণমূল দলটা করার। ক্ষমতায় থাকা ওইসব নেতাদের বলবো তোমরা আগে পার্টি অফিসে গিয়ে ঝাড়ু দেওয়া অভ্যাস করো। দলের পোস্টার লাগাও। দয়া করে দলের নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়াও।”

ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আমি জানাবো, সোনার চেন আর স্করপিও গাড়ি ছাড়া যাঁরা চলতে পারে না, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। জেলা নেতৃত্বে যারা আছে তাদের আমরা মানি না। সাত দিনের মধ্যে পদত্যাগ না করলে জেলা অফিস থেকে তাঁদের বের করে দেব।”

সুর এতটা চড়া না হলেও তাঁর সঙ্গে গলা মিলিয়েই এ দিন বিপ্লব মিত্রও নিজের বিরক্তি প্রকাশ করলেন নিজের মতো করে। দক্ষিণ দিনাজপুরে তৃণমূলের কোন্দল নতুন নয়। এরআগেও একাধিকবার দলের নব্য নেতাদের সঙ্গে বিপ্লববাবুর সংঘাত প্রকাশ্যে এসেছে। এ দিন বিপ্লববাবু বলেন, “দলের এমন ফলের কারণ পর্যালোচনা করা হবে। তবে এটাও ঠিক, এক জন্য তৃণমূলে নতুন আসা কিছু তথাকথিত নেতার দাপটকেও আমরা অস্বীকার করতে পারি না।”

Comments are closed.