এলেন, দেখলেন, জয় করলেন, কী করে পারলেন সুরিন্দার

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো, বর্ধমান : ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টারে এখন তাঁর ছবিতেই চোখ বর্ধমানবাসীর। ঠিক কতটা চওড়া তাঁর কপাল, সেই মাপ নেওয়ার প্রতিযোগিতা চলছে যেন। অনেকে আবার তলিয়ে দেখছেন তাঁর এমন এলাম, দেখলাম, জয় করলামের রসায়ন। শুধুই কি গেড়ুয়া ঝড়, নাকি লুকিয়ে আছে অন্য কোনও কারণ, শুরু হয়ে গেছে কাটাছেঁড়া। বর্ধমান দুর্গাপুরের ফলে যে সত্যিই চমকে গিয়েছেন জেলার মানুষ।

    তখন মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার জন্য হাতে গোনা আর দুদিন বাকি। অন্য প্রার্থীদের প্রচার প্রায় শেষ লগ্নে। তখন বর্ধমান দুর্গাপুর কেন্দ্রে ঘোষণা হল তাঁর নাম। যে দিন বিকেলে নাম ঘোষণা হল, তার পরের দিনই অর্থাৎ ৯ এপ্রিল অন্ডাল এয়ারপোর্টে নামেন সুরেন্দ্র সিং আলুওয়ালিয়া। রাস্তার ধারের ধাবায় প্রাতরাশ সেরে প্রথমেই যান বর্ধমানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী সর্বমঙ্গলার মন্দিরে পুজো দিতে। এরপর গুরুদ্বারে প্রার্থনা সেরে সোজা বর্ধমান রাজবাড়ির উত্তর ফটকে। সেখান থেকে টাউন হল পর্যন্ত বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। হুডখোলা জিপে চেপে আগাগোড়া মিছিলের নেতৃত্ব দিলেন তিনি। পাহাড়ের পাঁচ বছরের সাংসদ সুরেন্দ্র সিংহ আলুওয়ালিয়ার সঙ্গে সেই পরিচয় বর্ধমান দুর্গাপুর কেন্দ্রের মানুষের।

    বারবেলা পড়ে যাওয়ায় সে দিন আর মনোনয়ন জমা দেননি তিনি। জমা দেন পরের দিন। তারপর প্রচারে বেরিয়ে একেবারে ছোট ছোট স্টেপ। কিন্তু তাতেই মাস্টারস্ট্রোক। কখনও আদালত চত্বরে আইনজীবীদের আড্ডায়। কখনও ঘোড়দৌড়চটির গ্রামীণ এলাকায়। কখনও শহরের নিউক্লিয়াস টাউনহলে উপস্থিত হয়ে বাসিন্দাদের সঙ্গে একেবারে ব্যক্তিগত কথা।

    ভোটের দিনও অন্য প্রার্থীদের মতো ছুটোছুটি করেননি লোকসভা কেন্দ্রের এ মাথা ও মাথা। ঘোড়দৌড় চটির পার্টি অফিসে কাটিয়ে দেন সারা দিন। বিভিন্ন জায়গা থেকে খবর আসতে শুরু করে দলের এজেন্টদের বসতে দেওয়া হচ্ছে না। তাতেও বিশেষ বিচলিত হতে দেখা যায়নি তাঁকে। প্রায় আশি শতাংশ বুথে এজেন্ট বসতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে তাঁর দলে। বর্ধমান শহরে মাত্র পাঁচ ছটি ওয়ার্ডে বিজেপির এজেন্ট ছিল বলে দাবি করেছেন বিজেপির কর্মী সমর্থকরা। এর ফলে একসময় ক্ষুব্ধও হয়ে ওঠেন তাঁরা।

    এই পরিস্থিতিতেই আজ আলুওয়ালিয়ার এই এগিয়ে যাওয়াকে রীতিমতো মিরাকল বলে মনে করছেন বর্ধমানের মানুষ। আর কীভাবে সম্ভব হল তা, চলছে চর্চা। একটা অংশের মত, এ বার গেরুয়া হাওয়া তীব্র ছিল গোটা বাংলায়। বর্ধমান-দুর্গাপুরের ফলে তারই প্রভাব পড়েছে। আবার গত পাঁচ বছরে তৃণমূলের বিদায়ী সাংসদ মমতাজ সঙ্ঘমিতাকে প্রয়োজনে পাশে পাওয়া যায়নি বলেও অভিযোগ। তাই বিকল্প হিসেবে আলুওয়ালিয়াকেই বেছে নিয়েছেন তাঁরা। একসময় বামেদের শক্ত ঘাঁটি বর্ধমানে এ বার লড়াইয়ে ছিলেন সিপিএম নেতা আভাস রায়চৌধুরী। এই কেন্দ্রে লড়াইটা অন্তত সিপিএম- তৃণমূলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে বলে মনে করছিল জেলার রাজনৈতিক মহল।

    কিন্তু শেষবেলায় লড়াইয়ে নেমে মাস্টার স্ট্রোক খেলে শেষ হাসিটা হাসলেন আলুওয়ালিয়াই।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More