তথ্য লুকিয়ে অপারেশন, একই হাসপাতালের ৪২ জন স্বাস্থ্যকর্মী করোনা আক্রান্ত! পড়শি দেশে বড় বিপদ

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক হারে করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে পড়শি দেশে। তথ্য বলছে, স্যার সলিমুল্লা মেডিক্যাল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালটি করোনাভাইরাস সংক্রামিত রোগীদের চিকিৎসার জন্য ঘোষিত হয়নি। ফলে এখানে কোনও করোনা রোগী ছিলেনও না। তার পরেও এই হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে ভাইরাসে সংক্রমণের হার বিস্ময়কর ও উদ্বেগজনক।

    এই মুহূর্তে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী-সহ মোট ৪২ জন করোনায় আক্রান্ত। এর মধ্যে ২৩ জন চিকিৎসক, ১০ জন নার্স ও এবং ৯ জন সেবাকর্মী রয়েছেন। তাঁদের সকলকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। কয়েক জনের অবস্থা গুরুতর। ওই ৪২ জনের পরিবারকে কোয়ারেন্টাইন করা হয়েছে। আর কার কার সংস্পর্শে তাঁরা এসেছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    অভিযোগ উঠেছে, দু’জন করোনা রোগীর তথ্য গোপন করে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এবং চিকিৎসকদের পর্যাপ্ত সুরক্ষা সরঞ্জামের অভাবের কারণেই এই একটি হাসপাতালে এত বেশি করোনাভাইরাস সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে, যা স্বাস্থ্যকর্মীদের পরিবারে বা অন্য রোগীদের মধ্যে সহজেই গোষ্ঠী সংক্রমণ ঘটাতে পারে বলে ঝুঁকি রয়েছে। বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি এখন যেখানে দাঁড়িয়ে, তা একলাফে অনেকটা বেড়ে যেতে পারে এই হাসপাতাল থেকে।

    এই মুহূর্তে বাংলাদেশে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৩৩৮২। মারা গেছেন ১১০ জন।

    মিটফোর্ড হাসপাতালের করোনা ইউনিটের প্রধান অধ্যাপক ডঃ শামসুল আলম সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তাঁদের কাছে তথ্য লুকিয়ে দু’জন করোনা রোগী ইচ্ছে করে ভর্তি হয়েছিলেন। তার ফলেই এই মাত্রায় ছড়িয়েছে সংক্রমণ। তবে প্রশ্ন উঠেছে, উপসর্গ দেখেই তো যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষেরই। কী করে ইচ্ছেমতো তথ্য গোপন করলেন দু-দু’জন রোগী!

    চিকিৎসক শামসুল আলম এ বিষয়ে বলেন, “দু’জন রোগীকে জরুরি ভিত্তিতে অপারেশন করতে হয়েছিল আমাদের হাসপাতালে। ওই দু’জনই নারায়ণগঞ্জ থেকে এসেছিলেন। আমরা জানতে পেরেছি, তাঁরা দু’জনই এই হাসপাতালে অপারেশন করাতে আসার কয়েক দিন আগেই কোভিড ১৯ অসুখে আক্রান্ত হয়েছিলেন। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কোয়ারেন্টাইনে না থেকে কয়েক দিন পার করেই অপারেশন করাতে চলে আসেন তাঁরা। ভর্তির সময়ে এই তথ্য কেউই প্রকাশ করেননি।”

    তিনি আরও জানান, ওই রোগীদের এক জন হার্নিয়ার সমস্যা এবং আর এক জন খাদ্যনালীতে প্যাঁচ লেগে যাওয়ার সমস্যা নিয়ে এসেছিলেন। এমন অবস্থাতেই এসেছিলেন, যে দ্রুত অপারেশন করতে হয়। কিন্তু পরে দেখা যায় যে তাঁরা ‘প্লেস অব বার্থ’-এর জায়গায় ইচ্ছাকৃত ভাবে ভুল তথ্য লিখেছেন। ফলে ওই দু’টি অপারেশনে যাঁরা যুক্ত ছিলেন, তাঁদের সংস্পর্শে যাঁরা এসেছেন, সেই সকলেই আক্রান্ত হয়েছেন করোনায়।

    অধ্যাপক আলম এ-ও জানান, রোগীরা তথ্য গোপন করার কারণে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা অপারেশনের সময় সাধারণ রোগীদের ক্ষেত্রে যেমন ব্যবস্থা নেন, তাই করেছেন। বাড়তি সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার করেননি। ফলে সব মিলিয়ে ৪২ জন আক্রান্ত হয়েছেন এখনও পর্যন্ত। এ নিয়ে ডাক্তার এবং সেবাকর্মীদের মধ্যে স্বাভাবিক ভাবেই ক্ষোভ জমেছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সরকারি ভাবে ঘোষিত না হলেও, মিটফোর্ড হাসপাতালে একটি করোনা ইউনিট রয়েছে। কিন্তু সেখানেও পিপিই বা মাস্ক বা গ্লাভস– এই ধরনের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জামের বালাই নেই।

    এই কাণ্ডের আগেও অবশ্য এই হাসপাতালে সুরক্ষা সরঞ্জামের ঘাটতির কথা শোনা গেছিল। জানা গেছে, মার্চ মাসের ২১ তারিখে ওই হাসপাতালে একটি নোটিস জারি করেন খোদ কর্তৃপক্ষ। তাতে লেখা হয় হাসপাতাল কর্মীরা যাতে নিজেদের দায়িত্বে মাস্ক জোগাড় করে নেন। ওই নোটিসে লেখা ছিল, “সম্পদের স্বল্পতার জন্য হাসপাতালের তরফ থেকে সবাইকে মাস্ক সরবরাহ করা যাচ্ছে না। এমতাবস্থায় ঝুঁকি এড়ানোর জন্য সকলকে নিজ উদ্যোগে মাস্ক ব্যবহারের জন্য অনুরোধ করা হলো।”

    এই নোটিসের কথা বাইরে আসতেই ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। ঝামেলার মুখে ওই নোটিস প্রত্যাহার করা হয় হাসপাতালের তরফে। এমনকি অপসারিত করা হয় হাসপাতালের তৎকালীন পরিচালককেও। যদিও ওই নোটিসের সঙ্গে অপসারণের কোনও সম্পর্ক আছে বলে স্বীকার করেননি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More