মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৬

বিপদের নাম ক্রনিক কিডনি ডিসঅর্ডার! সতর্ক থাকুন, মেনে চলুন এই ঘরোয়া টিপস

দ্য ওয়াল ব্যুরো:  পা টিপে টিপে আসে এই রোগ। তার পর থাবা বসায় গোটা শরীরে। এই নিঃশব্দ শত্রুর নাম ক্রনিক কিডনি ডিজিস (Chronic Kidney Disease/CKD) । বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, এই রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতি বছর প্রচুর মানুষের মৃত্যু হয়। ডাক্তারের চেম্বারে ধর্ণা দেওয়ার আগে সতর্ক থাকুন এই রোগের ব্যাপারে। জেনে নিন এর উপসর্গগুলি কী? আর কী ভাবেই বা সতর্ক থাকবেন ?

ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর নেফ্রোলজি এবং ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব কিডনি ফাউন্ডেশনের বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন বিশ্বের ১৪% মহিলা ও ১২% পুরুষ ক্রনিক কিডনির অসুখে ভুগছেন।রোগের প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে।তবে একটু সতর্ক থাকলেই ক্রনিক কিডনির অসুখ প্রতিরোধ করা যায়।

কিডনি হল আমাদের শরীরের ছাঁকনির মতো। বিপাকীয় ক্রিয়ায় তৈরি নানান টক্সিক ও অপ্রয়োজনীয় পদার্থ তৈরি হয়, যা আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। কিডনি রক্ত থেকে এই সব দূষিত পদার্থ রক্ত থেকে ছেঁকে প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে বার করে  দেয়। রক্ত পরিশোধন করার পাশাপাশি শরীরের পিএইচ ব্যালেন্স ও জলের ভারসাম্য রক্ষা করা কিডনির অন্যতম কাজ। তাই কোনওভাবে কিডনির কাজ ব্যহত হলে শরীরে টক্সিন জমে অসুস্থতা বাড়ে।

ক্রনিক কিডনি ডিজিসের উপসর্গগুলি কী কী?

এর কোনও নির্দিষ্ট উপসর্গ থাকে না। কয়েকটি সাধারণ উপসর্গ দেখলে সাবধান হওয়া দরকার।

  • বারে বারে প্রস্রাবের সংক্রমণ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে অবশ্যই ইউরিন পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া উচিত। কোনও ত্রুটি থাকলে অবশ্যই নেফ্রোলজিস্টএর পরামর্শ নেওয়া উচিত।
  • খিদে কমে যায়, বমি বমি ভাব থাকতে পারে, কখনও কখনও বমিও হয়।
  • অল্প পরিশ্রমেই ক্লান্ত হয়ে পড়ে, হাঁপিয়ে ওঠে, নিঃশ্বাসের কষ্ট হয়।
  • ব্লাড প্রেশার ওঠানামা করে। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর চোখ, মুখ, পা ফোলা লাগে।
  • কিডনির কাজ কমে গেলে অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতার ঝুঁকি বাড়ে।

কী ভাবে মোকাবিলা করবেন এই রোগের? সতর্ক থাকতেন দেখে নিন কিছু টিপস

ক্রনিক কিডনির অসুখে ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ নিয়ে নির্দিষ্ট সময় অন্তর খাবার খেতে হবে। বেশি নুন বা জলীয় খাবার খেলেও কিডনির ধকল বাড়ে। পা ও মুখে জল জমে ফুলে যায়। তাই কম নুন দিয়ে রান্না করা বাড়ির খাবার খাওয়াই শ্রেয়।

আমাদের দেশে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ক্রনিক কিডনির অসুখের কারণ উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়বিটিস। ওষুধের সাহায্যে প্রেশার ও সুগার নিয়ন্ত্রণ না করলে কিডনির কর্মক্ষমতা কমতে শুরু করে। বছরে অন্তত একবার রুটিন ইউরিন টেস্ট, ইউরিয়া ক্রিয়েটিনিন ও অ্যালবুমিন পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া উচিত।

নিয়মিত শরীরচর্চা ওজনকে বশে রাখে। রক্তচাপ বাড়তে দেয় না। পাশাপাশি ধূমপান ও অ্যালকোহল থেকেও দূরে থাকা প্রয়োজন।

Shares

Comments are closed.