মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৭

আলোমাসি আজ খুব কাঁদছেন, সুন্দরী আর মাধুরী হোমে চলে গেল যে

নকিবউদ্দিন গাজি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা:  মা ফেলে গেলেও মাসি পারেননি। তাঁর যত্নেই বেড়ে উঠছিল সুন্দরী ও মাধুরী। ছোটবেলা থেকে শুনতে ও বলতে পারে না পারলেও কথা বুঝতে পারে ১০ বছরের সুন্দরী। আর তিন বছরের মাধুরীর সে ক্ষমতাটুকুও নেই। এই দুই মেয়েকে দেখভাল করতেই কেটে যেত আলোমাসির সারাদিন। কাল থেকে ফুরসত পাবেন। আর তা ভেবেই আজ দিনভর চোখের জলে ভাসছেন আলোমাসি।

জন্মের পরেই হাসপাতালে সন্তানকে ফেলে রেখে চলে গিয়েছিল মা। সুন্দরীর মা। একই পথের পথিক মাধুরীর মা ও। তারপর থেকে গত ১০ বছর ধরে ডায়মন্ডহারবার হাসপাতালই সুন্দরীর ঠিকানা। আর তিন বছরের ঠিকানা মাধুরীর।

জন্মদাত্রী ফেলে গেলেও কাছে টেনে নিয়েছিলেন হাসপাতালের আলো মাসি। তাদের স্নান করানো, খাওয়ানো, বুঝতে শেখানো সবই করেছেন একা হাতে। যে সময়টা বাড়ি যেতেন তিনি সে সময়েও মন পরে থাকতো দুই পড়ে পাওয়া সন্তানের জন্য। জানতেন নার্স দিদিরাও খুব ভালবাসেন দুজনকেই। তিনি না থাকলেও তাদের যত্নে কোনও ঘাটতি হবে না। তাও। আসলে কখন যেন নাড়ির টান কে ছাপিয়ে গিয়েছিল সহজাত মাতৃত্ব।

সেই সুন্দরী আর মাধুরীকেই আজ নিয়ম মেনে চাইল্ড লাইনের হাতে তুলে দিল ডায়মন্ডহারবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের ডেপুটি সুপার সুপ্রতিম সাহা জানান, ওদের মায়েরা শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকাতেই হয়তো ছেড়ে দিয়ে গিয়েছিলেন শিশু দুটিকে। অনেক খোঁজ করে তাঁদের সন্ধান মেলেনি। সেই থেকে হাসপাতালেই বড় হচ্ছিল ওরা। তিনি বলেন, “ওদের নামকরণও হয়েছে এখানে। আলো মাসি খুব যত্ন করতেন দুজনকেই। এরজন্য হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতি থেকে খুব সামান্য কিছু টাকা পেতেন। যে ভালবাসা তিনি দিয়েছেন, টাকা দিয়ে তার মূল্য নির্ধারণ হয় না। কিন্তু আজ নিয়ম মেনেই চাইল্ডলাইনের হাতে তুলে দেওয়া হল দুজনকে।”

আর সে পর্বেই নিজেকে সামলাতে পারেননি আলোমাসি। ১০ বছর ধরে লালন পালন করা সন্তানকে কাছছাড়া করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন। উপস্থিত অন্যরাও তখন চোখ মুছছেন আড়ালে।

 

Comments are closed.