রবিবার, আগস্ট ২৫

একুশের সমাবেশে যোগ দেওয়ায় তৃণমূল কর্মীকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ

দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি :  ২১ এর সমাবেশে যোগ দেওয়ায় এক তৃণমূল কর্মীকে পিটিয়ে মারার অভিযোগ উঠল হুগলির গোঘাটে। মৃত তৃণমুল কর্মীর নাম লালচাঁদ বাগ (৩০)। সোমবার রাত এগারোটা নাগাদ বাড়ি ফেরার পথে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাঁকে রাস্তা থেকে টেনে নিয়ে গিয়ে একটি গোয়াল ঘরে ঢুকিয়ে অমানবিক ও নৃশংস ভাবে মারধর করে বলে অভিযোগ। সংজ্ঞাহীন অবস্থায় তাকে রাস্তায় ফেলে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। পরে আরামবাগ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর।

অভিযোগ, লাল চাঁদ ও তাঁর তিন ভাই ২১ জুলাই ধর্মতলায় শহিদ দিবসের সভায় গিয়েছিলেন। সেই অপরাধেই বিজেপির বেশ কিছু কর্মী তাঁকে পিটিয়ে খুন করে।  গোয়ালঘরে ঢুকিয়ে মারধরের পর সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লে তাকে ফেলে যায় দুষ্কৃতীরা। এই সময় স্থানীয় এক তৃণমূল কর্মী তাঁকে পড়ে থাকতে দেখে খবর দেন লালচাঁদের বাড়িতে। আরামবাগ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর।

খবর পেয়েই তৃণমূলের নেতারাও আরামবাগে আসেন। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে শাস্তির দাবি জানান তাঁরা।

মৃত স্ত্রী রিনা বাগ বলেন, “আমার স্বামী কলকাতায় সভায় গিয়েছিল বলে হুমকি দিয়েছিল। গতকাল রাতে এলাকার বেশ কয়েক জন ওঁকে তুলে নিয়ে গিয়ে মেরে দিয়েছে। এরা সবাই আগে সিপিএম করতো। এখন বিজেপি করে।”
গোঘাট ব্লক তৃণমূল সভাপতি নারায়ণ পাঁজা বলেন, “২১ জুলাই কলকাতায় শহিদ দিবস থেকে ফেরার পরই লালচাঁদের বাড়িতে বোম মারা হয়েছিল। হুমকিও দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। গত কাল রাত দশটা নাগাদ এলাকার একটি দোকান থেকে ফেরার পথে তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয়। হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে মৃত ঘোষণা করা হয় তাঁকে। যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তাঁরা আগে সিপিএমের হার্মাদ ছিল। এখন জামা বদলে বিজেপি করছে।”

তবে বিজেপির আরামবাগ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি বিমান ঘোষ বলেন, “এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই। এটা তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল। এর আগেও তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে অনেকে খুন হয়েছেন। বিজেপির শক্তি বৃদ্ধির জন্যই বিজেপিকে বদনাম করার চক্রান্ত চলছে।”

তিনি প্রশ্ন তোলেন, যেখানে সাড়ে দশটায় মারধোর করা হয়েছে সেখানে বারোটায় কেন হাসপাতালে নিয়ে আসা হল ? তাঁর কথায়, “ নিরপেক্ষ তদন্ত হোক। মিথ্যে কেসে বিজেপিকে যেন না ফাঁসানো হয়।”

Comments are closed.