বুধবার, মে ২২

হকার তুলতে গিয়ে কান ধরে ওঠবোস করালেন বাঁকুড়ার অতিসক্রিয় পুরপ্রধান

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাঁকুড়া শহরে কি পুলিশ নেই! হকার উচ্ছেদে নেমে খোদ পুর প্রধানই হকারদের ধমকালেন, চমকালেন, কান ধরে ওঠবোসও করালেন। তাঁর ও তাঁর সাঙ্গোপাঙ্গোদের হাবভাব, কথাবার্তা এবং ধমক ভয় পাওয়াই মতো! এবং বুধবার সকাল থেকে সেই ভিডিও ভাইরাল হয়ে গেল গোটা বাংলায়। প্রকাশ্যে না হলেও ঘরোয়া ভাবে এ ঘটনার নিন্দা করেছেন তৃণমূলের শীর্ষ সারির অনেক নেতা ও মন্ত্রী।

পুরপ্রধান মহাপ্রসাদ সেনগুপ্ত অবশ্য দাবি করেছেন, বাঁকুড়া শহরকে যানজট মুক্ত রাখার মহা দায়িত্বেই ব্যস্ত ছিলেন তিনি। বার বার বলা সত্ত্বেও কিছু হকার কথা শুনছে না, তাই তাঁকেই নামতে হয়েছে।

অতীতে কলকাতায় হকার উচ্ছেদের সময় দেখা গিয়েছে, আগে পুলিশের তরফে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। তার পর হকার উচ্ছেদ করে প্রশাসন। সে কাজ মূলত করে পুলিশই।

সেই বালাই অবশ্য দেখা গেল না বাঁকুড়ায়। মঙ্গলবার সকালে বাঁকুড়ার মাচানতলা এলাকায় দেখা যায় অতি সক্রিয় মহাপ্রসাদকে। উপলক্ষ হকার উচ্ছেদ। ওই চত্বরে ৬-৭ জন হকার ফুটপাতে বসেছিলেন। বর্ষার মরসুম। তাই ছাদের ফুটি ফাটা ঢাকার জন্য এ সময়ে প্লাস্টিকের শিট-এর খুব চাহিদা থাকে গ্রামাঞ্চলে। সে জন্যই নানা রঙের প্লাস্টিক শিট নিয়ে বসেছিলেন তাঁরা। এমন সময়ই তাঁর অনুগামীদের নিয়ে অকুস্থলে হানা দেন মহাপ্রসাদ। ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, সাদা পাজামা কুর্তা পরা মহাপ্রসাদ ও তাঁর দলবল একজন হকারকে বেদম বকাবকি করছেন। তাঁর মালপত্র কেড়ে নেওয়ার কথাও বলছেন। এবং সেই হকার অনুনয় করে বলছেন, আমরাও তো মানুষ। আপনার পায়ে ধরছি। উঠে যাচ্ছি, জিনিসপত্র নেবেন না। তার পরেও সেই হকারকে কান ধরে ওঠবোস করতে বলা হয়। গোটা ঘটনাটা একটি ভিডিওতে ধরা আছে।

মহাপ্রসাদের অনুগামীদের বক্তব্য, কয়েক মাস আগে হকারদের উচ্ছেদ করে কিষাণমান্ডিতে জায়গা দেওয়া হয়েছে। তা সত্ত্বেও কয়েক জন হকার রাস্তায় এসে বসছে। যদিও পাল্টা বক্তব্যও আছে হকারদের। তাদের কথায়, নামে কিষাণমাণ্ডি, সেখানে কোনও খদ্দের জোটে না।

তবে এসব চাপানউতোরের উর্ধ্বে যে প্রশ্নের জবাব পাওয়া যায়নি, তা হল যে কাজটা পুলিশের করার কথা সেটাও কি এ বার থেকে মহাপ্রসাদই করবেন!

Shares

Leave A Reply