শনিবার, মার্চ ২৩

চোলাই খেয়ে মাতাল হাতির পাল, তাণ্ডবে দিশেহারা বনবস্তির বাসিন্দারা

দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি :  মাতাল হাতির তাণ্ডবে ঘুম ছুটেছে বৈকুণ্ঠপুর জঙ্গলের ললিতাবাড়ি বনবস্তির বাসিন্দাদের। খেত তোলপাড় করে ফসলের ক্ষতি, যখন তখন এসে বাড়ি ঘর ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া, এ সব তো আছেই, ঘটছে প্রাণহানির ঘটনাও। বৃহস্পতিবার রাতেও প্রেমানন্দ রায় নামে মালিভিটা গ্রামের এক বাসিন্দাকে শুঁড়ে জড়িয়ে আছড়ে মারে হাতি।

স্থানীয় সুত্রে জানা গিয়েছে, সন্ধের পর বাজার করে বাড়ি ফিরছিলেন পেশায় দিনমজুর প্রেমানন্দবাবু। আচমকাই হাতির সামনে পড়ে যান তিনি। পালাতে গেলে বুনো দাঁতালটি তাকে শুঁড় দিয়ে পেচিয়ে ধরে মাটিতে আছাড় মারে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার।  খবর পেয়ে বনকর্মীরা আসতেই তাঁদের গাড়ি ঘিরে ফেলে এলাকাবাসী। ক্ষোভের সাথে জানাতে থাকে মাতাল হাতির হানায় তাঁদের দিশেহারা অবস্থার কথা।

বাসিন্দাদের অভিযোগ, জঙ্গল ও সংলগ্ন এলাকায় রমরমিয়ে চলছে চোলাই মদের ঠেক। মদ বানানোর পর অবশিষ্টাংশ জঙ্গলে ফেলে দেয় প্রস্তুতকারীরা। আর এরই লোভে রোজ হানা দিচ্ছে হাতির পাল। চোলাইয়ের অবশিষ্ট খেয়ে মত্ত হয়ে এরপর তাণ্ডব চালাচ্ছে জঙ্গল লাগোয়া গ্রামগুলিতে। বন দফতরকে বারবার জানিয়েও ফল মেলেনি কোনও।

শ্যামল রায় নামে ললিতাবাড়ি গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, “গতকাল রাতে আমরা ঘুমিয়ে ছিলাম। সেই সময় বৈকন্ঠপুর জঙ্গল থেকে একটি মত্ত হাতি এসে আমাদের গ্রামে তাণ্ডব চালায়। কোনওরকমে পালিয়ে জীবন বাঁচিয়েছেন এলাকার মানুষ।”

সঞ্জীব রায় নামে অন্য এক বাসিন্দার কথায়, “জঙ্গলের ভিতরে অবৈধভাবে তৈরি হচ্ছে চোলাই মদ। সেই মদ তৈরির পর যে অংশ ফেলে দেওয়া হচ্ছে তা খেয়ে বেসামাল হয়ে যাচ্ছে হাতির পাল। তারপরে তাণ্ডব চালাচ্ছে গ্রামে গ্রামে। বনদফতরকে বারবার বলছি আমরা। কিন্তু লাভ হচ্ছে না কোনও।”

বেলাকোবার রেঞ্জ অফিসার সঞ্জয় দত্ত অবশ্য জানান, তাঁরা জঙ্গলের ভেতরে থাকা চোলাই মদের ভাটিগুলিতে মাঝে মাঝেই অভিযান চালান। তাঁর কথায়, “ভাঁটিগুলি মাঝেমধ্যেই ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হয়। আবারও জঙ্গলে অভিযান চালানো হবে। হাতির তাণ্ডবে যে সমস্ত পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁরাও খুব শীঘ্রই ক্ষতিপূরণ পেয়ে যাবেন।”

তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বনকর্মীরা এসে শুধু আশ্বাস দেন যে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। কিন্তু কবে তা পাওয়া যাবে তা সঠিক জানা যায় না। তাঁদের কথায়, “আমরা চাই বনকর্মীদের টহল বাড়ানো হোক। এলাকায় লাইট লাগানো হোক। আর অবৈধভাবে জঙ্গলে যে চোলাই মদ তৈরি হয় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”

Shares

Comments are closed.