শনিবার, মার্চ ২৩

অনটনে গঙ্গায় ঝাঁপ বৃদ্ধ দম্পতির , স্ত্রী রক্ষা পেলেও বাঁচানো গেল না স্বামীকে

দ্য ওয়াল ব্যুরো :  বেঁচে থাকার লড়াইটা কঠিন হয়ে যাচ্ছিল ক্রমশ। দেওয়ালে ঠেকে গিয়েছিল পিঠ। তাই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলেন নিজেদের শেষ করে দেওয়ার। আজ সকালে হাওড়া থেকে বাগবাজারগামী লঞ্চ আহিরীটোলা ঘাটের কাছে আসতেই গঙ্গায় ঝাঁপিয়ে পড়েন বৃদ্ধ দম্পতি। আশেপাশে থাকা মানুষজনও গঙ্গায় ঝাঁপিয়ে পড়েন তাঁদের বাঁচাতে। শুক্লা দত্তের প্রাণরক্ষা হলেও বাঁচানো যায়নি তাঁর স্বামী তাপস দত্তকে (৭০)।

সকাল তখন দশটা। ভিড়ে ঠাসা হাওড়া থেকে বাগবাজারগামী লঞ্চ। সেই লঞ্চেই একপাশে দাঁড়িয়েছিলেন তাপসবাবু ও তাঁর স্ত্রী ৬২ বছরের শুক্লা দত্ত। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লঞ্চটি আহিরীটোলা ঘাটের কাছে আসতেই আচমকা জলে ঝাঁপিয়ে পড়েন বৃদ্ধ দম্পতি। তাঁদের বাঁচাতে লঞ্চ থেকেই গঙ্গায় ঝাঁপ দেন কয়েকজন। দুজনকেই জল থেকে টেনে তোলেন তাঁরা। কিন্তু বাঁচানো যায়নি তাপসবাবুকে। হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন শুক্লাদেবী।

শুক্লাদেবী পুলিশকে জানান, তাঁরা দমদমের কাছে দত্তপুকুরের বাসিন্দা। প্রায় দু’বছর ধরে প্রচণ্ড অনটনে দিন কাটছিল তাঁদের। নিকটাত্মীয়রা তাঁদের সব টাকা পয়সা হাতিয়ে নিয়েছিল। বাড়িতে ছেলে ও ছেলের বউও তাঁদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে। তাই তিন দিন আগে বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন তাঁরা।

গত কয়েকদিন হাওড়ার একটি লজে এসে উঠেছিলেন ওই বৃদ্ধ দম্পতি। কিন্তু টাকা দিতে না পারায় আজ সকালে সেখান থেকেও বের করে দেওয়া হয় তাঁদের। কোনও উপায় না পেয়ে এরপরেই আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। পুলিশ জানিয়েছে, ওই বৃদ্ধার দাবি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে তাঁদের পরিবার সম্পর্কে। ওই দম্পতির সন্তানকেও খবর পাঠানো হয়েছে।

Shares

Comments are closed.