বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৭

‘এখন আমি কী করব?’ আতঙ্কে কাঁপছেন ইসলামপুরের সেই সংস্কৃত শিক্ষক

  • 1.4K
  •  
  •  
    1.4K
    Shares

দ্য ওয়াল ব্যুরো. কোচবিহার: তাঁকে নিয়েই অশান্তির সূত্রপাত। তাঁর নিয়োগ প্রক্রিয়া রুখতেই ছাত্র আন্দোলন, সেখান থেকেই রক্তাক্ত স্কুল চত্বর। গুলি, কাঁদানে গ্যাস, ছাত্র খুন থেকে বনধ- গত কয়েকদিনে সব কিছুই দেখে ফেলেছে ইসলামপুর। ক্ষতবিক্ষত হয়েছে ইসলামপুরের মাটি, শূন্য হয়েছে মায়ের কোল। কিন্তু, যাঁকে নিয়ে এই যাবতীয় অশান্তি, কেমন আছেন সেই উর্দু শিক্ষক?

ইসলামপুরের দাড়িভিট স্কুলে যে শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার বাধে সেই তৌরাঙ্গ মল্লিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল ‘দ্য ওয়াল’-এর তরফ। তৌরাঙ্গবাবু জানিয়েছেন, এখনও প্রতিটা মুহূর্ত আতঙ্ক আর ভয়ে শিউরে উঠছেন তিনি। গত ২০ সেপ্টেম্বর দাড়িভিট উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক দুপুর ১ টা ১০ মিনিটে হিসেবে যোগদান করেছিলেন তৌরাঙ্গবাবু। নিয়োগপত্র হাতে পেয়েছিলেন তার দিন কয়েক আগে। কিন্তু, স্কুলে তাঁর যোগ দেওয়ার পরেই শুরু হয়ে যায় বিপত্তি। পথ আগলে দাঁড়ায় পড়ুয়ারা। সাফ জানিয়ে দেওয়া হয় যে দু’টি ভাষার জন্য শিক্ষক নিয়োগ করা হচ্ছে অর্থাৎ উর্দু ও সংস্কৃত তার কোনও প্রয়োজনই নেই স্কুলে। তাই তিনি যেন আর না আসেন।

প্রথমে বিষয়টির গুরুত্ব অতটা বুঝতে পারেননি তৌরাঙ্গবাবু। বোঝার কথাও নয়। পড়ুয়াদের বিক্ষোভ যে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের চেহারা নেবে তা ঘুণাক্ষরেও আঁচ করতে পারেননি তিনি। বললেন, “পড়ুয়ারা আমাকে বলল বিদ্যালয়ে ভূগোল, অঙ্ক-সহ একাধিক বিষয়ে শিক্ষকের প্রয়োজন। তাই উর্দু ও সংস্কৃত শিক্ষকের কোনও দরকার নেই। আমি যেন আর না আসি।”  ধীরে ধীরে যখন বিক্ষোভ ভয়াবহ চেহারা নিচ্ছে কোনও রকমে কয়েক জন শিক্ষক ও প্রাক্তন ছাত্রদের সহযোগিতায় বাড়ি চলে আসেন তিনি।

তৌরাঙ্গবাবুর কথায়, “আমি বুঝতেই পেরেছিলাম এই স্কুলে আমার শিক্ষকতা হবে না। কিন্তু, আন্দোলন এতটা ভয়াবহ চেহারা নেবে, ছাত্র মৃত্যু হবে সেটা একেবারেই ভাবিনি।”

কোচবিহারের বড়রাংরস গ্রামের শালমারা এলাকার বাসিন্দা তৌরাঙ্গবাবুর অভাবের সংসার। যাদবপুরের কৃতী ছাত্র দাড়িভিট স্কুলকে শিক্ষকতার জন্য বেছেছিলেন শুধুমাত্র যাতায়াতের সুবিধার জন্য। ওই স্কুলের পাশেই আলুয়াবাড়ি রেল স্টেশন। আর তৌরাঙ্গবাবুর বাড়ি থেকে কিছুটা দূরেই নিউ কোচবিহার রেল স্টেশন। ফলে যাতায়াতের সুবিধা হবে এটা মনে করেই তাঁর ওই স্কুল কে বাছা। বাড়িতে অসুস্থ মা রয়েছেন। পরিবারের তিনিই একমাত্র রোজগেরে।

ঘটনার প্রতিটি মুহূর্ত যেন শেল হয়ে বিঁধছে তাঁর বুকে। গুলিতে লুটিয়ে পড়তে দেখেছেন দু’টো তাজা প্রাণকে। ছাত্র বিক্ষোভের জল গড়িয়েছে রাজনীতির অন্দরমহলে। কিন্তু, অতসত বোঝেন না তৌরাঙ্গবাবু। তাঁর শুধু দরকার একটা চাকরি। হত দরিদ্র পরিবারের কথা ভেবে চোখের জল মুছে তৌরাঙ্গবাবু বললেন, “কী হবে এখন আমার। এসএসসি কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ আমার অন্য স্কুলে একটা চাকরির ব্যবস্থা করুন। চাকরিটা খুবই দরকার আমার।”

Comments are closed.