বারের আড়ালে নারী পাচার, ট্যাংরা থেকে গ্রেফতার জলপাইগুড়ির হোটেল মালিক

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি : সিঙ্গিং বারের আড়ালে নারী পাচার চক্র চালানোর অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে গা ঢাকা দিয়েছিলেন অভিযুক্ত হোটেল মালিক ধরম পাসোয়ান। অবশেষে বুধবার কলকাতার ট্যাংরা থেকে গ্রেফতার করা হল তাঁকে। আজ জলপাইগুড়ি আদালতে তোলা হলে তাঁকে দেখতে ভিড় উপচে পড়ে সেখানে।

    পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তকে কলকাতার ট্যাংরা অঞ্চলের এক ফ্ল্যাট বাড়ি থেকে গতকাল গ্রেফতার করে জলপাইগুড়ি জেলা পুলিশের একটি বিশেষ দল। রাতেই জলপাইগুড়ি নিয়ে আসা হয় তাঁকে। জলপাইগুড়ি পুলিশ সুপার অভিশেখ মোদী জানান ধৃতকে আদালতে তুলে পুলিশ রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।

    গত ১৭ জুলাই আচমকাই খদ্দের সেজে ঢুকে জলপাইগুড়ির এক বিলাসবহুল হোটেলের বার থেকে ১৩ জন মেয়েকে উদ্ধার করে পুলিশ। এই ১৩ জনের সঙ্গেই সেই মুহূর্তে সেখানে উপস্থিত মোট ৬২ জনকে পাকড়াও করে থানায় নিয়ে আসা হয়। রাতে ৩৪ জনকে থানা থেকে জামিন দেওয়া হলেও ছাড়া হয়নি ২৮ জনকে। এঁদের মধ্যে যেমন ছিলেন হোটেলের কুক এবং ওয়েটার, পাশাপাশি ছিলেন সঙ্গীতশিল্পী ও বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র শিল্পীরা। আদালতে তোলা হলে পুলিশের আবেদনের ভিত্তিতে এঁদের মধ্যে পাঁচজনকে পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়। বাকি ২৩ জনকে পাঠানো হয় জেল হেফাজতে। আর এই নিয়ে তখন প্রতিবাদে সরগরম হয়ে ওঠে গোটা জলপাইগুড়ি।

    পানশালা কাণ্ডে গ্রেফতার হওয়া শিল্পীদের মুক্তির দাবিতে মুখে কালো কাপড় বেধে কোতোয়ালি থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান শহরের অন্যান্য শিল্পী ও কলাকুশলীরা। তাঁরা অভিযোগ করেন, ওই রাতে সাতজন সঙ্গীত শিল্পীকে পুলিশ অন্যাায়ভাবে গ্রেফতার করেছে। এরা নিরাপরাধ বলে দাবি করে অবিলম্বে এঁদের নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন তাঁরা।

    পুলিশ জানিয়েছিল, ওই হোটেলে দেহ ব্যবসা ও নারী পাচার চক্রের ফাঁদে পড়ে যাওয়া এক তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতেই অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে ১৩ জন তরুণীকে উদ্ধারও করা হয়। যাদের ধরে আনা হয়েছিল থানায় আনার পর কথা বলে তাঁদের অনেককেই সঙ্গে সঙ্গে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। যে পাঁচজনকে পুলিশ হেফাজতে রাখার আর্জি জানানো হয়েছে তাদের নাম ওই তরুণীর দায়ের করা এফআইআরে ছিল। তবে বাকি ২৩ জনের বিরুদ্ধেও একই ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে।

    হোটেলের মালিক ধরম পাসোয়ান প্রাথমিকভাবে তাঁর হোটেলের বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে গা ঢাকা দেন। একমাসেরও বেশি সময় ধরে তাঁর খোঁজ চালাচ্ছিল জলপাইগুড়ি জেলা পুলিশ। অবশেষে কলকাতা থেকে পাকড়াও করা হয় তাঁকে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More