চাঁদের পিঠে জমে রয়েছে বরফ, অবিশ্বাস্য খোঁজ পেল চন্দ্রযান-১

0 ২৪

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: চাঁদের পিঠে জমে রয়েছে ‘ওয়াটার আইস’ বা বরফ। মূলত চাঁদের উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর বেশ কিছুটা জায়গা জুড়ে জমে রয়েছে ওই হিমায়িত জল। পরবর্তীকালে ওই বরফ গলে জল তৈরির সম্ভাবনাও রয়েছে। এমনটাই জানালেন বিজ্ঞানীরা। ভারতের পাঠানো মহাকাশযান চন্দ্রযান-১-এর তোলা ছবি থেকে চাঁদের পিঠে বরফের অস্তিত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত নাসার মহাকাশবিজ্ঞানীরা।

চাঁদের মাটি থেকে কয়েক মিলিমিটার উচ্চতায় জমে রয়েছে ওই বরফ। এবং সেটা ছড়িয়ে রয়েছে ইতস্তত ভাবে। এমন তথ্যই সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে বিজ্ঞানপত্রিকা ‘প্রসেডিংস অব দ্য ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেস’(PNAS)-এ। আগামী দিনে এই বরফ গলে জল তৈরি হওয়াও বিচিত্র নয়। আর এমনটা হলে নিঃসন্দেহে এই খোঁজ চন্দ্রযান-১-এর সবচেয়ে বড় সাফল্য হবে বলেই মত মহাকাশবিজ্ঞানীদের। ওই জলের সূত্র ধরেই চাঁদের মাটিতে গবেষণা এবং নিত্য নতুন পর্যবেক্ষণও অনেক বেশি গতি পাবে। খুলে যাবে অনেক অজানা রহস্য।

চন্দ্রযান-১-এর পাঠানো ছবি থেকে দেখা গিয়েছে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে ওই বরফ অনেকটা জমাট বেঁধে রয়েছে, কিন্তু উত্তর মেরুতে সেটাই ছড়িয়ে রয়েছে বিক্ষিপ্তভাবে। আর এই বরফ রয়েছে চাঁদের অপেক্ষাকৃত অন্ধকার এবং শীতল জায়গায়। ওই জায়গার তাপমাত্রা মাইনাস ১৫৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপর কখনওই ওঠে না।

নিজের কক্ষপথে পাক খাওয়ার একটি বিশেষ ধরনের জন্যই চাঁদের ওই অংশে কখনও সূর্যের আলো পৌঁছয় না। তাই অন্ধকার স্থানটিতে তাপমাত্রাও সব সময় হিমাঙ্কের নীচেই থাকে। এর আগের পর্যবেক্ষণগুলিতেও মহাকাশবিজ্ঞানীরা চাঁদের উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর ওই অংশগুলিতে বরফ থাকার সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন। তবে সে বিষয় নিশ্চিত ছিলেন না। চন্দ্রযান-১-এর পাঠানো ছবি সেই ধারণাকেই স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে দিল।

আজ থেকে ১০ বছর আগে ২০০৮ সালে চাঁদের মাটিতে চন্দ্রযান-১ প্রেরণ করেন ‘ইন্ডিয়ান স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজেশন’ (ISRO)-র মহাকাশবিজ্ঞানীরা। তার পর থেকেই চাঁদের থেকে অন্তত ২০০ মিটার দূরত্বে পাক খাচ্ছে চন্দ্রযান-১। চাঁদে বরফ রয়েছে, প্রথম এই তথ্য ধরা পড়ে চন্দ্রযান-১-এর ‘দ্য মুন মিনারোলজি ম্যাপার’ যন্ত্রে। এই যন্ত্রটি বানানো হয়েছে নাসার ‘জেট প্রপালসন ল্যাবোরেটরি’তে (Jet Propulsion Laboratory)।

নাসা সূত্রে খবর, চন্দ্রযান একসময় যান্ত্রিক গোলযোগে ভুগছিল। ২০০৯ সালের ২৮ অগস্ট রেডিও সিগন্যাল পাঠানো বন্ধ করে দেয় চন্দ্রযান-১। তার পরই চন্দ্রযান-১-এর অভিযান সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে বলে ঘোষণা করে দেয় ইসরো। আশ্চর্যজনক ভাবে ২০১৬ সালে নাসার রেডিও সিগন্যালে ধরা পড়ে চন্দ্রযান-১-এর পাঠানো তথ্য। তিন মাস লাগাতার পর্যবেক্ষণ চালিয়ে ওই তথ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হন নাসার মহাকাশবিজ্ঞানীরা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Leave A Reply

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More