শনিবার, মার্চ ২৩

হারিয়েই গিয়েছিল, কাঠা চাষ করে ফের আত্রেয়ী পাড়ে দেখা মিলল রাইখরের

দ্য ওয়াল ব্যুরো, দক্ষিণ দিনাজপুর: তিস্তার গর্ব যদি হয় বোরোলি। তবে আত্রেয়ীর অবশ্যই রাইখর। জেলার বাসিন্দা, অথবা বেড়াতে গেছেন, অথচ আত্রেয়ীর রাইখরের ঝাল ঝোলের স্বাদ নেননি, এমন বাঙালি খুঁজে মেলা ভার। কিন্তু আত্রেয়ীর জলাভাবে হারিয়ে যেতে বসেছে সেই রাইখরের ঝাঁক।

হাজার বাধা সত্ত্বেও কিছু মৎস্যজীবী নদীতে কাঠা দিয়ে (জল ঘিরে) চাষ করায় বহুদিন পরে চলতি ফেব্রুয়ারিতে ফের বড় আকারের রাইখর মাছের মুখ দেখতে পাচ্ছেন বালুরঘাটবাসী।

শহরের মাছ বাজারগুলিতে প্রমাণ সাইজের রাইখর উঠতে দেখে ভোজনরসিকরাও গুটি গুটি পায়ে ভিড় জমাচ্ছেন মাছের দোকানে। তবে পরিমাণে অল্প বলে দাম চড়া। ৫০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে বড় মাপের রাইখর। ছোট আকারের রাইখর বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৪০০ টাকায়।

বালুরঘাটের খিদিরপুর হালদার পাড়ার মৎস্যজীবী সনাতন হালদার, জ্যোতিশ্বর হালদাররা বলেন,  “আত্রেয়ীর জল একেবারে কমে গেছে। শহরের কংগ্রেসপাড়া ঘাটের দিকে যতটুকু জল আছে সেই নদীর জলে বাঁশ দিয়ে কাঠামো করে ঘিরে রাইখরের পোনা চাষ করে বড় করা হচ্ছে। কিন্তু গভীর জলের অভাবে সর্বত্র এই পদ্ধতিতে রাইখরের চাষ করা যায় না। তাই  চাহিদার তুলনায় রাইখরের আমদানি অনেক কম।”

কয়েক বছর ধরে নাব্যতা কমে যাওয়ায় আত্রেয়ীর ওই নিজস্ব রুপোলি ফসল প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। নদীর পাড়ের মৎস্যজীবীরা জানান,  পূর্বদিকে বাংলাদেশ থেকে এ জেলার কুমারগঞ্জ ব্লক হয়ে বালুরঘাট শহরের মধ্যে দিয়ে দক্ষিণ দিকে গিয়ে ফের বাংলাদেশের চলনবিলে গিয়ে মিশেছে আত্রেয়ী। এক সময় বিশাল ওই বিল থেকে চুনো রাইখরের ঝাঁক দক্ষিণ দিক থেকে বালুরঘাটের আত্রেয়ী নদীতে চলে আসত। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে চুনোরা বড় হয়ে বালুরঘাটে আত্রেয়ী দাপাত। আর সে সময় থেকেই জেলেদের জালে উঠত  প্রমাণ সাইজের রাইখর। তবে সেইদিন আর নেই। নদীতে বাঁধ দেওয়ায় নাব্যতা হারিয়ে এখন আত্রেয়ীর শীর্ণ দশা।

পরিবেশপ্রেমীদের কথায়, বাংলাদেশের দিকে একাধিক বাঁধ দেওয়ার পাশাপাশি ক্রমাগত দূষণের কবলে পড়ে রুগ্ন হয়ে পড়েছে আত্রেয়ী। কুমারগঞ্জ থেকে পতিরামের দিকে আত্রেয়ীতে বিশাল চর পড়েছে। কোথাও শীর্ণ ধারায় বইছে আত্রেয়ী। বালুরঘাটের দিকে কল্যাণী সদরঘাট থেকে কংগ্রেসপাড়া ঘাটের দিকে কিছুটা জল রয়েছে। সেই জলেই কাঠা দিয়ে বড় করে তোলা হচ্ছে রাইখর।

জেলা মৎস্য দফতরের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর অশোককুমার সরকারের কথায়, “গতবছর জেলায় বৃষ্টি কম হওয়ায় সমস্যা বেড়েছে। তবে ওই মাছ বাঁচাতে ডিসেম্বরেই বালুরঘাটে আত্রেয়ী নদীতে রাইখরের পোনা ছাড়া হয়েছিল। নদীতে মশারি জাল ব্যবহার বন্ধেও সচেতনতার প্রচার চলছে। রাইখরকে টিকিয়ে রাখতে সবার মিলিত উদ্যোগ দরকার।”

Shares

Comments are closed.