মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৫

সন্তান হয়নি, তাই সমাজে ব্রাত্য বধূ, বাধ্য হয়ে হোমে পাঠাল পুলিশ

দ্য ওয়াল ব্যুরো, বর্ধমান : সন্তান হয়নি। তাই আদিবাসী বধূকে ত্যাগ করেছেন স্বামী। ঘরে ফিরিয়ে নিল না বাপের বাড়ির লোকও। মানসিক ভারসাম্য হারানো সেই বধূকে তাই বাধ্য হয়ে হোমে পাঠালো পুলিশ।

রবিবার রাতে ভাতারের ৬ মাইল বাসস্ট্যান্ড থেকে মানসিক ভারসাম্যহীন এক মহিলাকে উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিক ভাবে ভাতার গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয় তাঁর। পরে বর্ধমান আদালতের নির্দেশে চিকিৎসার জন্য তাঁকে পাঠানো হয় বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেদের কাছে। দিন তিনেকের চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ হন তিনি। চিকিৎসকরা তাঁর সঙ্গে কথা বলে নাম পরিচয় জানতে পারেন। জানতে পারেন, ওই মহিলার বাড়ি ঝাড়গ্রামের বিনপুরে। তিনি তাঁদের এও জানান, সন্তান না হওয়ার কারণেই স্বামী তাঁকে ছেড়ে দিয়ে তাঁর বোনকে বিয়ে করেছে।

এরপরেই তাঁকে ঘরে ফেরাতে উদ্যোগী হন বর্ধমানের পুলিশ আধিকারিকরা। বিনপুর থানার মাধ্যমে যোগাযোগ করেন  পরিবারের সঙ্গে। কিন্তু সেখানে ওই মহিলার স্বামী মনুরাম টুডু স্ত্রীকে বাড়িতে ফিরিয়ে নেবেন না বলে পরিষ্কার জানিয়ে দেন। ওই গ্রামেই থাকেন তাঁর ভাই অর্জুন টুডু। তিনিও জানিয়ে দেন, দিদিকে পরিবারে ফেরত নেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।

ওই মহিলা ডাক্তারদের জানিয়েছেন, ১৪ বছর আগে মনুরাম টুডুর সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল তাঁর। সন্তান হয়নি বলে সারাক্ষণ তাঁকে নির্যাতন করত মনুরাম। মাস দুয়েক আগে তাঁকে বাড়ি থেকে বার করে দিয়ে তাঁর বোনকে বিয়ে করেন মনুরাম। স্বামী ছেড়ে দেওয়ার পরে বাপের বাড়িতেও ঠাঁই হয়নি আর। এরপর পেটের দায়ে কয়েকজনের সঙ্গে নর্জায় একটি কাগজকলে কাজে এসেছিলেন। বাকিটা অবশ্য আর স্মৃতিতে নেই।

চিকিৎসকদের ধারণা, সন্তানের আশায় হয়তো ওঝাদের কাছে কোনও জড়িবুটি খেয়েছিলেন । তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেই মানসিক ভারসাম্য হারান। তবে চিকিৎসায় সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যাবেন তিনি।

মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলাদের জন্য পূর্ব বর্ধমানে কোনও হোম না থাকায় মুর্শিদাবাদের একটি হোমে পাঠানো হয়েছে তাঁকে।

 

Comments are closed.