বুধবার, অক্টোবর ১৬

কৃষকের আত্মহত্যায় এনআরসি গুজবে আরও কাবু ময়নাগুড়ি

দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি : এনআরসি আতঙ্কে আত্মহত্যা করেছেন ময়নাগুড়ির যুবক অন্নদা রায়, এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই গোটা এলাকায় আরও বেশি করে ছড়াচ্ছে গুজব। বাসিন্দাদের মধ্যে ছড়াচ্ছে আতঙ্কও। শুক্রবার ওই ঘটনার পর আজ শনিবার সকাল থেকে রাস্তায়, বাজারে, চায়ের দোকানে একটাই আলোচনা এনআরসি হলে কী কী ক্ষতি হতে পারে?

জলপাইগুড়ি ডেঙ্গুয়াঝাড় বাজার এলাকার কার্তিকদার চায়ের দোকান। সকাল হলে প্রতিদিন হাজির হন দিনমজুরেরা। সকাল সকাল সেখানে পুরি তরকারি, চা খেয়ে চলে যান নিজেদের গন্তব্যে। সেই কার্তিকদার দোকানেও আজ চর্চার অন্যতম বিষয়ই ছিল এনআরসি।

এই ডামাডোলের মধ্যেই আত্মহত্যায় এনআরসি তকমা মুছতে আসরে নামল বিজেপি। দলের কিষান মোর্চা রীতিমতো সাংবাদিক বৈঠক করে দাবি করল, এনআরসির কারণে নয়, অন্নদা রায় আত্মঘাতী হয়েছেন মহাজনী ঋণে জর্জরিত হয়ে। শুক্রবার সকালে বাড়ির কাছে লেভেল ক্রসিং- এর গেটে গলায় গামছার ফাঁস দিয়ে ঝুলতে দেখা যায় অন্নদা রায়কে (৪২)। ওই যুবকের দাদা দক্ষদা রায় জানান, পৈত্রিক জমির কাগজ তাঁর হাতে না থাকায় এনআরসি হলে ভিটেমাটি চলে যাবে সম্প্রতি এমন আতঙ্ক গ্রাস করেছিল বড়কামাত এলাকার বাসিন্দা অন্নদাকে।

যদিও জলপাইগুড়ি পুলিশ সুপার অভিষেক মোদী দাবি করেন, এমন কোনও সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়নি। ওই যুবক মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন ও বছর তিনেক আগে একবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।

ওই ঘটনার পর থেকেই থমথমে পরিবেশ ময়নাগুড়ির বড়কামাত গ্রামে। আজ ময়নাগুড়ির বিধায়ক অনন্তদেব অধিকারীর নেতৃত্বে এক প্রতিনিধি দল অন্নদার বাড়িতে গিয়ে তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। দেখা করেন কামতাপুর মাতৃভূমি সুরক্ষা কমিটির সদস্যরাও। অনন্তদেববাবু জানান, মুখ্যমন্ত্রী এই পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। সেই বার্তা দিতেই পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন তাঁরা। বলেন, ‘‘কৃষক বন্ধু প্রকল্প থেকে যাতে দু’লক্ষ টাকার পাশাপাশি অন্যান্য সরকারি সুযোগসুবিধা তাঁরা পান সেই ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হবে।’’

এ দিকে বিজেপি কিষান মোর্চার রাজ্য সম্পাদক অরুণ মণ্ডল শনিবার বিকেলে জলপাইগুড়ি প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে অভিযোগ করেন, এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মহাজনী ঋণে জেরবার হয়ে কৃষকের আত্মহত্যাকে এনআরসির আতঙ্কে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্ট করছেন।

তবে এই রাজনৈতিক টানাপড়েনকে দূরে সরিয়ে অন্নদার আত্মহত্যার ঘটনা রীতিমতো ভাবিয়ে তুলেছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। হাবুল হোসেন নামে এক ব্যক্তি বলেন, ‘‘হাটে বাজারে যেখানেই যাচ্ছি খালি শুনছি এনআরসি। আমরা সাধারণ লোক। অতশত বুঝি না। বিপদে পড়ে যাব না তো?’’

এক চা দোকানের কর্মী কাল্টু হাজরা বলেন, ‘‘আমিও খুব আতঙ্কিত। সত্যিই কোনও বিপদ হবে না তো?’’

Comments are closed.