মিষ্টির দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরা হল না ইসলামপুর কলেজের ছাত্র তাপসেরও

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো:  দাড়িভিটা স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র ছিলেন তিনি। পরে ইসলামপুর কলেজের ছাত্র। তৃতীয় বর্ষের পড়ছিলেন। স্কুলের সঙ্গে আর কোনও যোগাযোগ ছিল না। তাই আন্দোলনটা ঠিক কী নিয়ে অতশত জানারও প্রয়োজন পড়েনি। প্রতিদিনের মতোই এক ফাঁকে এসে স্কুলের সামনে নিজেদের মিষ্টির দোকান সামলাচ্ছিলেন বছর কুড়ির তরুণ।

    বৃহস্পতিবার বেলা গড়াতেই যখন রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে গোটা এলাকা, তখন তাড়াতাড়ি দোকান বন্ধ করে এলাকা ছাড়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। ছুটে আসা পুলিশের গুলি শরীর ভেদ করে ঢুকে যায়।  উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে শনিবার ভোরে মৃত্যু হয় তাপস বর্মনের।

    বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান ছিলেন তাপস। প্রতিদিন কলেজের ফাঁকে কিছুটা সময় বাবার মিষ্টির দোকান সামলাতেন তিনি। বৃহস্পতিবারও তার অন্যথা হয়নি। স্কুলে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পরেও দোকানেই বসে ছিলেন। কিন্তু দুপুর গড়াতেই যখন এলাকা তেতে ওঠে ,পুলিশের রণংদেহী রূপ দেখে আর বসে থাকার সাহস পাননি। তাড়াতাড়ি করে দোকান বন্ধ করছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, এ সময়ই পুলিশের গুলিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি।

    প্রথমে ইসলামপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় পাঠানো হয় উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে। জানা গিয়েছে সেখানেও রাতভর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয় তাঁর। হাসপাতালের চিকিৎসকদের একটি টিম জরুরি অস্ত্রোপচার করেও অবস্থা সামাল দিতে পারেননি।  ভোরের দিকে মৃত্যু হয় ওই তরুণের।

    একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বাড়িতে জ্ঞান হারিয়েছেন মা। বাবা অন্য আত্মীয়দের কাঁধে ভর রেখে বসে আছেন হাসপাতালে। ছেলের দেহ ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায়। হাহাকার করে উঠছেন মাঝেমধ্যেই, ’’ওই স্কুলের সঙ্গে কোনওভাবেই তো কোনও যোগ ছিল না ওর। শুধু শুধু প্রাণটা চলে গেল।’’

     

     

     

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More