জেলা সভাধিপতির বাংলোর হাতায় এডিস লার্ভা, দেখেই ফোন পুরপ্রধানকে, তাই নিয়ে টানাপড়েন

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো, পুরুলিয়া : বাংলোর হাতায় ডেঙ্গির জীবাণুবাহী এডিস মশার লার্ভা। জানতে পেরেই পুরসভাকে খবর দেন আতঙ্কিত জেলা সভাধিপতি। কিন্তু পুরসভা ব্যবস্থা নিতে দেরি করেছে বলেই অভিযোগ তাঁর। তা আবার মানতে নারাজ পুর চেয়ারম্যান। এই নিয়ে রীতিমতো মান অভিমান চলল দুজনের। যদিও জেলা সভাধিপতি বললেন, “উনি হয়তো ভুলে গেছিলেন, কিন্তু কর্মীদের তো দেখা উচিত।” আর পুর চেয়ারম্যান বললেন, “কাজ হয়ে গেছিল। উনি জানতে পারেননি। তাই ভুল বোঝাবুঝি।”

    গত বছর জেলায় ১১৭ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন ডেঙ্গিতে। এ বার বর্ষার মরসুম আসতেই এ পর্যন্ত ১৪ জনের শরীরে মিলেছে ডেঙ্গির জীবাণু। তার মধ্যে পাঁচ জন পুরুলিয়া শহরের বাসিন্দা। তাই ডেঙ্গি নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে গোটা জেলায়। তারই মধ্যে খোদ জেলা সভাধিপতির বাংলোতে ডেঙ্গির জীবাণুবাহী এডিস মশার লার্ভা মিলতেই সাড়া পড়ে যায়। আর তা নিয়েই পুরসভার সঙ্গে টানাপড়েন।

    পুরুলিয়া- রাঁচি রোডের ওপরে বাংলো জেলা সভাধিপতির। এই বাংলোর একদিকে যুব দফতর। পূর্ত দফতরের ইঞ্জিনিয়ারদের দফতরও সেখানে। সামনেই সার্কিট হাউস। ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটির অফিস। এমনই গুরুত্বপূর্ণ এলাকা কিন্তু ঢাকা ঝোপ জঙ্গলে। দিন রাত সর্বক্ষণ মশার গুঞ্জন সেখানে। মশার উৎপাতে থাকতে না পেরে স্বাস্থ্য দফতরকে জানান জেলা সভাধিপতি। গত ৮ তারিখ জেলা স্বাস্থ্য দফতরের একটি দল সভাধিপতির বাংলোতে যান। ওই চত্বরে একটি গেস্টহাউস নির্মাণের কাজ চলছে। স্বাস্থ্য দফতরের প্রতিনিধিরা সেখানে জমা জলে এডিস মশার লার্ভা দেখতে পান। জানানো হয় সভাধিপতি সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়কে। নিজের বাংলোর হাতায় জমে থাকা জলে ডেঙ্গির জীবাণুবাহী মশার লার্ভা রয়েছে জানতে পেরে পুরসভাকে খবর দেন আতঙ্কিত সভাধিপতি সুজয়বাবু।

    কিন্তু তাঁর অভিযোগ, খবর পেলেও দেরিতে এসেছে পুরসভা। তিনি বলেন, “আমার বাংলোয় সব কর্মীরা আছেন। বাইরে থেকেও বহু মানুষ আসেন দেখা করতে। তাঁদের তো বিপদের মধ্যে ফেলা। পুর চেয়ারম্যান হয়তো কাজের চাপে ভুলে গেছিলেন। কিন্তু কাজের লোকগুলোর তৎপরতা থাকা দরকার।”

    পুরপ্রধান শামিম দাদ খান সভাধিপতির ফোন পেয়ে অসন্তুষ্ট। তিনি বলেন, “গোটা বাংলো ঝোপ জঙ্গলে ভর্তি। না পরিষ্কার করা হলে মশার উপদ্রব কমানো সম্ভব নয়। আমরা মশা মারার তেল স্প্রে করেছি। ব্লিচিং দেওয়া হয়েছে। কাজটা যে হয়ে গেছে সেটা পরে জেনেছেন উনি।”

    পরে অবশ্য দুজনেই জানান, ভুল বোঝাবুঝি মিটে গেছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More