‘মোমো সুইসাইড চ্যালেঞ্জ’-এর খপ্পরে জলপাইগুড়ির ছাত্রী! মারণ খেলা কি ছড়াচ্ছে বাংলাতেও?

0

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: দক্ষিণ আমেরিকা থেকে মারণ খেলা ‘মোমো সুইসাইড চ্যালেঞ্জ’ কি তবে হানা দিল বাংলাতেও? বিদেশি খেলা ব্লু হোয়েল গেম একসময় মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়েছিল গোটা দেশে, বাদ যায়নি পশ্চিমবঙ্গও। তাতে মৃত্যু হয়েছিল অনেক কিশোর-কিশোরীর। অ্যাডমিনদের পাকড়াও করতে নাস্তানাবুদ হতে হয়েছিল প্রশাসনিক কর্তাদের। সোমবার জলপাইগুড়ির এক কিশোরীর মোবাইলে ‘মোমো সুইসাইড চ্যালেঞ্জ’-এর নম্বর ফুটে উঠতেই কার্যত ঘুম উড়ে গিয়েছে পুলিশের।

    জলপাইগুড়ি পি ডি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী কবিতা রায়ের মোবাইলে একটা অজানা নম্বর থেকে মেসেজ পাঠায় ওই গেমেরই কোনও অ্যাডমিন। তাতে লেখা ছিল ‘হাই আই অ্যাম মোমো’। খেলার জন্য অনুরোধও করা হয় ছাত্রীটিকে। আতঙ্কিত ছাত্রী প্রথমে বাড়ির লোকজনকে বিষয়টি জানায়। পরে মোবাইলের স্ক্রিনশট-সহ অজানা নম্বরটি পৌঁছে দেওয়া হয় পুলিশের কাছে।

    ‘দ্য ওয়াল’-এর তরফে কবিতাকে ফোন করে জানা গিয়েছে, গতকাল তাঁর বোনের সঙ্গে ঝগড়া হওয়ার পর মনমরা ছিল সে। তার উপর সবার সামনে তার মাও তাকে চড় মারেন। মায়ের উপর অভিমান করে ঘরের দরজা বন্ধ করে বেশ কিছুক্ষণ একা সময় কাটায় সে। সেই সময় হোয়াটাস্অ্যাপের স্টেটাস বদলে দেয় কবিতা। নতুন স্টেটাসে রোমান হরফে সে লেখে ‘আমি মরে যাবো’ (Ami More Jabo)। এর তিন মিনিট পরেই +1(251)999-5451 থেকে কবিতার হোয়াটস্অ্যাপ নম্বরে একটি মেসেজ ফুটে ওঠে। সেখানেই মোমো খেলার জন্য তাকে অনুরোধ করা হয়।

    কবিতা জানিয়েছে, মোমো খেলার বিষয়ে আগেই জানত সে। এটাও জানত ‘ব্লু হোয়েল গেম’-এর মতো এটাও একটা মারণ খেলা। যেখানে নানা শর্ত এবং শেষে হুমকি দিয়ে আত্মহত্যার পথে নিয়ে যাবে গেমের অ্যাডমিন। জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার শীর্ষ আধিকারিক বিশ্বাশ্রয় সরকার বলেছেন, ‘‘আমরা অভিযোগ পেয়েছি। এর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে।’’

    তবে, ঘটনার শেষ এখানেই নয়। ‘মোমো সুইসাইড চ্যালেঞ্জ’ খেলাটি প্রথম হানা দেয় আর্জেন্টিনায়। একটি বারো বছরের মেয়ের আত্মহত্যা এবং তার সুইসাইড নোটে মোমো চ্যালেঞ্জের উল্লেখ দেখেই প্রথম খোঁজ শুরু করেন তদন্তকারী অফিসারেরা। জানা যায়, মৃত্যুর আগে এই মারণ খেলায় মেতে ওঠে মেয়েটি। মৃত্যুর আগে একটি ভিডিও বানিয়ে সে তার মা, বাবাকে সতর্কও থাকতেও বলে গিয়েছিল। আর্জেন্টিনার ওই ঘটনার পর ক্রমশ মেক্সিকো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জার্মানি-সহ একাধিক দেশে মোমো গেমের কথা সামনে আসে। সতর্কতা বাড়িয়ে দেয় সে সব দেশের প্রশাসন।

    আরও পড়ুন: ফের মারণ খেলা ইন্টারনেটে, ভয়াল চেহারায় হাজির ‘মোমো সুইসাইড চ্যালেঞ্জ গেম

    তবে এতদিন পর্যন্ত বিদেশেই এই খেলার কথা শোনা যাচ্ছিল। জলপাইগুড়ির কবিতার কাছে মোমো চ্যালেঞ্জের নিমন্ত্রণ আসার পর নতুন করে জল্পনা উস্কে দিয়েছে। যদিও পুলিশ এখনও পর্যন্ত ওই নম্বরের বৈধতা সম্পর্কে কিছু জানায়নি, তবে বিষয়টি যদি সত্যি হয় তাহলে ভয়ের বিস্তর কারণ আছে বলেই মনে করছে পুলিশ।

    এই ঘটনা জন্ম দিয়েছে অনেকগুলি প্রশ্নের—

    প্রথমত, কবিতা রোমান হরফে মেসেজটি টাইপ করেছিল। যার অর্থ বাংলা পড়তে পারে বা পড়তে না পারলেও মানে বুঝতে পারে এমন কোনও অ্যাডমিন কবিতাকে খেলার জন্য ইনভাইট করেছে।

    দ্বিতীয়ত, কোনও গ্রুপ সর্বক্ষণ হোয়াটস্অ্যাপ ব্যবহারকারীদের স্টেটাসের উপর নজর রেখে চলেছে। সেটা যে কোনও ভাষাতেই হোক।

    তৃতীয়ত, সম্ভাবনা রয়েছে, এ রাজ্যেই নতুন করে অ্যাডমিন তৈরি করছে এই গেমের সঙ্গে জড়িত গ্রুপেরা। যার লক্ষ্য খুব দ্রুত এই খেলা হোয়াটস্অ্যাপের মারফত চারদিকে ছড়িয়ে দেওয়া।

    চতুর্থত, ব্লু হোয়েল গেম একসময় বন্যার জলের মতো আছড়ে পড়েছিল গোটা বাংলায়। কলকাতাতেও এই খেলার ফাঁদে পড়ে মৃত্যু হয়েছিল অনেক স্কুল পড়ুয়ার। সেই ভাবেই এ বার ‘মোমো সুইসাইড চ্যালেঞ্জ’ ছড়িয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা শুরু হয়ে গিয়েছে। যার টার্গেট স্কুল বা কলেজ পড়ুয়ারা।

    মোমো সুইসাইড চ্যালেঞ্জ’ আসলে কী?

    সাইবার বিশেষজ্ঞ এবং পুলিশ জানিয়েছে, প্রথমে ফেসবুকে এই গেমটি ছড়িয়েছিল। লিঙ্কটা যারা ওপেন করত তাদের কাছে একটা অজানা নম্বর থেকে ফোন আসত।  সেখানেই যাবতীয় নির্দেশ আদান-প্রদানের কাজ চলত। পরে ফেসবুক থেকে খেলাটি ছড়ায় হোয়াটসঅ্যাপ এবং ইউটিউবেও।

    মোমোর লিঙ্ক খুললেই ভেসে উঠবে একটি ভয়ঙ্কর মেয়ের মুখ। যাবতীয় নির্দেশ সেই দেবে। নানা ভাবে নিজেকে আঘাত করার জন্য চাপ দেওয়া হবে। নির্দেশ না মানলে বলা হবে, এই খেলা থেকে বেরিয়ে গেলে পরিবারের উপর নেমে আসবে ভয়ঙ্কর অভিশাপ বা খুন করা হবে পরিবারের সদস্যদের। ধীরে ধীরে খেলাটি নিয়ে যাবে মৃত্যুর দিকে। পুলিশ তদন্ত করে দেখেছে, আর্জেন্তিনার কিশোরীকে একটি ক্ষতবিক্ষত, রক্তমাখা পুতুল দেখিয়ে বলা হয়েছিল তাকেও নিজের সঙ্গে ঠিক এই রকম করতে হবে।

    মোমো গেমের সূত্রপাত হয়েছে কোন দেশে সেটা এখনও অজানা। তবে ভয়ঙ্কর মুখের মেয়েটি আসলে জাপানি শিল্পী মিদোরি হায়াশির একটি শিল্পকর্ম থেকে নেওয়া হয়েছে। ‘লিঙ্ক ফ্যাক্টরি’ নামে জাপানের একটি  স্পেশাল এফেক্ট সংস্থা ওই রকম একটি পুতুল তৈরি করে যার মুখ এবং শরীরের উপরের অংশ মেয়ের মতো এবং বাকিটা পাখির আদলের। তবে, এই খেলার সঙ্গে তিনি এবং তাঁর সংস্থার কোনও সম্পর্ক নেই বলেই জানিয়েছেন মিদোরি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Leave A Reply

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More