ঝিঁঝি পোকার পাঁউরুটি! খেতে ইচ্ছে করছে? জেনে নিন কোন বেকারি বানায়

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পোকায় ধরা পাঁউরুটি চেখেছেন কখনও? না বাসি বা পোকায় কাটা নয়, সাজিয়ে গুছিয়ে টাটকা তাজা ঝিঁঝি পোকা দিয়েই বানানো হয় এই পাঁউরুটি। তাই চেটেপুটে সাফ করে দেন পাঁউরুটি-প্রেমীরা।

ফিনল্যান্ডে বেশ রমিরমিয়ে ঝিঁঝি পোকার পাঁউরুটি বেচছে ফেজার বেকারি। ফিনিশ ব্র্যান্ডের এই পাঁউরুটি নাকি বেশ সুস্বাদু ও মুখরোচকও। বেকারি জানাচ্ছে, প্রোটিনে ভরপুর। মুচমুচে, খাস্তা পাঁউরুটি জিভে দিলেই বদলে যাবে মেজাজ। স্বাদকোরক নাকি বলে উঠবে, আহা!

একটা পাঁউরুটি বানাতে পোকা থুড়ি ঝিঁঝি পোকা লাগবে ৭০টি। টাটকা পোকা ঝাড়াই বাছাই করে শুকিয়ে রেখে দেওয়া হয় যত্নে। শুকনো পোকা বা পোকার গুঁড়ো দিয়েই তৈরি হয় পাঁউরুটি। বেকারির সিইও মার্কাস হেলস্টর্ম বলেছেন, ‘‘পোকা দিয়ে খাবার বানানোয় নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে ফিনল্যান্ড সরকার। আমরা তাই ফিনিশ খাবারে নতুন চমক চাইছি। স্বাদের সঙ্গে যা খেয়াল রাখবে পুষ্টিগুণেরও। ভবিষ্যতে খাবারে নতুন বিপ্লব ঘটাব আমরা।’’

খাবারে বিপ্লব কতটা ঘটবে বা ঘটেছে জানা নেই, তবে ঝিঁঝি পোকার পাঁউরুটি নিয়ে ইতিমধ্যেই ছোটখাটো ঝড় বয়ে গেছে নেটিজেনদের মধ্যে। মিশ্র প্রতিক্রিয়া শোনা গেছে খরিদ্দারদের মধ্যে। নানা মুনির নানা মত। যাঁরা পাঁউরুটি খেয়েছেন তাঁদের একাংশের দাবি, এই পোকা থেকে যদি পুষ্টি আসে তাহলে পরোয়া নেই। আবার নাক সিঁটকে চোখ রাঙিয়ে অনেক খরিদ্দারের দাবি, ‘‘আমরা না জেনেই এই পাঁউরুটি খেয়ে ফেলেছি। আমাদের ঠকানো হয়েছে।’’

১৮৯০ সাল থেকে চলছে ফেজার বেকারি। ফিনল্য়ান্ড, সুইডেন, রাশিয়া ও বাল্টিক দেশগুলিতে বেশ জনপ্রিয় এই বেকারির খাবার। প্রতিক্রিয়া যাই হোক না কেন, কর্ণধার হেলস্টর্মের অবশ্য তাতে বিশেষ হেলদোল নেই। পোকা শুকিয়ে বেকারিতে আরও ভ্যারাইটি আনতে তৎপর তিনি। বলেছেন, ‘‘আমাদের ব্র্যান্ড খাবারে নতুনত্ব আনার চেষ্টা করছে। স্বাস্থ্য সম্মতভাবেই বানানো হচ্ছে বেকারির প্রতিটা খাবার। তাই ভয়ের কিছু নেই।’’

বিদেশ বিভুঁইয়ে ঘুরতে গিয়ে এমন অভিজ্ঞতা অনেক মানুষেরই হয়ে থাকে।  বিশেষত ব্রাজিল, ঘানা, চিন বা থাইল্যান্ডে ঘুরতে গিয়ে পোকার রকমারি পদের সঙ্গে পরিচয় হয়নি বা চেখে দেখেননি এমন মানুষ বিরল। নাক কুঁচকে মুখ বেঁকিয়েছেন যাঁরা তাঁদের অনেকেই আজ রীতিমতো বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়েই পোকা খাওয়া শুরু করে দিয়েছেন।

‘ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন’-এর গবেষক স্টাল বলেছেন, আগে পোকা দেখলেই নাক সিঁটকাতেন অধিকাংশ মানুষ। বর্তমানে ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ জায়গায় ‘ইনসেক্ট ইটিং কালচার’ শুরু হয়েছে। বিশ্বে ২০০ কোটিরও বেশি মানুষ এখন নানা রকম পোকা খাওয়া শুরু করেছেন। পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, পিঁপড়ে (Ants), ছোট কীট বা পতঙ্গ (Bugs),  রেশম মথ (silkworm) এগুলির মধ্যে রয়েছে প্রোটিন, ভিটামিন, মিনারেলস এবং হেলদি ফ্যাট। পেট এবং হজমের সমস্যা দূর হয় নিয়মিত পোকা খেলে। অতিরিক্ত উত্তেজনা প্রশমিত হয় এবং নানা শারীরিক জটিলতা থেকে রেহাই মেলে।

একই মত ‘কলোরাডো স্টেট ইউনিভার্সিটি’র ফুড সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যান হেলথ বিভাগের গবেষক টিফানি ওয়েরেরও। তিনি বলেছেন, ‘‘পাশ্চাত্য ডায়েট থেকে পোকা খাওয়ার চল শুরু হয়ে গিয়েছে প্রাচ্যের দেশগুলিতেও। শরীরের ক্ষতিকর ব্যাকটিরিয়া মারতে এর থেকে পুষ্টিকর কিছু নেই।’’

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More