জলঙ্গিতে আপনারাই গুলি চালিয়েছেন, সুজনকে বললেন মমতা

ঘটনার এতদিন পরেও মূল অভিযুক্ত ধরা পড়েনি। তাই বারবার বিরোধীরা এই বিষয়ে শাসকদলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন। তাঁরা প্রশ্ন তুলছেন, শাসকদলের দুষ্কৃতীরা যুক্ত থাকার ফলেই কি প্রশাসন তাদের আড়াল করার চেষ্টা করছে। সেই প্রশ্ন মুখ্যমন্ত্রীর সামনে উঠতেই কড়া হাতে তা দমন করার চেষ্টা করলেন তিনি। বিরোধীদের উপরেই দায় চাপালেন মমতা। 

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত ২৯ জানুয়ারি মুর্শিদাবাদের জলঙ্গিতে নাগরিকত্ব আইন বিরোধী মিছিলে গুলি চলে। গুলিবিদ্ধ হয়ে দু’জনের মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় তৃণমূলকে কাঠগড়ায় দাঁড় করায় বিরোধীরা। বারবার শাসকদলের সামনে প্রশ্ন ওঠে, জলঙ্গিতে কে গুলি চালাল? দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার? শুক্রবার বিধানসভাতেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে একই প্রশ্ন তোলেন বাম পরিষদীয় নেতা তথা যাদবপুরের বিধায়ক সুজন চক্রবর্তী। এই প্রশ্নের পরেই রেগে যান মমতা। জলঙ্গির এই ঘটনার জন্য বামেদেরই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

এদিন বিধানসভায় মমতাকে সুজন চক্রবর্তী প্রশ্ন করেন, জলঙ্গিতে কে গুলি চালাল? কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? তার উত্তরে মমতা বলেন, “কথায় কথায় তো আপনারা বনধের ডাক দেন। সরস্বতী পুজোয় কেন বনধ ডেকেছিলেন? পুজোর দিন বনধ ডাকছেন। আপনারা সাম্প্রদায়িক কার্ড খেলছেন। দুর্গাপুজোর দিন বনধ ডাকলে কেউ মেনে নেবে? ইদের দিন বনধ ডাকলে কেউ মেনে নেবে?” তারপরেই সুজনবাবু বলেন, গুলিটা তাহলে কে করল? তাতে মমতা আরও রেগে গিয়ে বলেন, “আপনারা করেছেন। সব কিছুর জন্য আপনারাই দায়ী।” তাতে সুজনবাবু মমতাকে রিপোর্ট জমা দেওয়ার দাবি জানান।

জলঙ্গিতে গুলি চলার পরে শাসক দল তৃণমূলকেই দায়ী করে বিরোধীরা। লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা অধীর চৌধুরী অভিযোগ করেন, “কোনও দলের পতাকা ছাড়া সিএএ-র বিরুদ্ধে প্রতিবাদ চলছিল। প্রতিবাদীরা বনধ পালনের ডাক দিয়েছিলেন। তৃণমূলের স্থানীয় নেতারা দুষ্কৃতী বাহিনী নিয়ে তাঁদের উপরে হামলা করেছে। এই ঘটনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপরেই প্রশ্ন উঠছে। উনি নিজে প্রতিবাদ করছেন অথচ অন্যদের প্রতিবাদের সময় তাঁর দলের লোকজন হামলা করছে!” বাম-বিজেপিও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে।

এই অভিযোগের পরে রাজ্যের মন্ত্রী ও তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেছিলেন, “আমাদের এক জন কর্মীও গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তৃণমূল কেন গুলি চালাতে যাবে? দেখতে হবে, এর পিছনে কারা আছে। কারা আন্দোলন ভেস্তে দিতে চাইছে? প্রশাসন তদন্ত করবে।” কিন্তু এই ঘটনার এতদিন পরেও মূল অভিযুক্ত ধরা পড়েনি। তাই বারবার বিরোধীরা এই বিষয়ে শাসকদলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন। তাঁরা প্রশ্ন তুলছেন, শাসকদলের দুষ্কৃতীরা যুক্ত থাকার ফলেই কি প্রশাসন তাদের আড়াল করার চেষ্টা করছে। সেই প্রশ্ন মুখ্যমন্ত্রীর সামনে উঠতেই কড়া হাতে তা দমন করার চেষ্টা করলেন তিনি। বিরোধীদের উপরেই দায় চাপালেন মমতা।

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.