নেরোকাকে গোলের মালা, প্রেম দিবসে সমর্থকদের বড় উপহার বাগানের

৬-২ ব্যবধানে জয়ের এই আনন্দের মধ্যেও একটাই খারাপ খবর বাগান সমর্থকদের জন্য। লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হল ধনচন্দ্র সিংকে। সেইসঙ্গে ড্যানিয়েল সাইরাস না থাকায় ডিফেন্স নিয়ে উঠল কিছু প্রশ্ন।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: অশ্বমেধের ঘোড়ার মতো ছুটছে মোহনবাগান দল। সামনে যে প্রতিপক্ষই আসুক, তাকে গুঁড়িয়ে দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। কল্যাণীতে ফের একবার সেই ছবিটা দেখা গেল। নেরোকা এফসিকে ৬-২ গোলে হারিয়ে আইলিগের শীর্ষে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করল কিবু ভিকুনার ছেলেরা। তবে এই সাফল্যের মধ্যে একটাই খামতি দেখা গেল। লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হল বাগানের লেফট ব্যাক ধনচন্দ্র সিংকে। সেইসঙ্গে ড্যানিয়েল সাইরাস না থাকায় কিছু প্রশ্ন উঠে গেল বাগান রক্ষণ নিয়ে।

    এদিন খেলার প্রথম ১৫ মিনিটেই ম্যাচ নিজেদের পকেটে পুড়ে নেয় মোহনবাগান। শুরু থেকে একের পর এক আক্রমণ। ১০ মিনিটের মাথায় বেইতিয়ার কর্নার থেকে হেডে গোল করে বাগানকে এগিয়ে দেন ফ্রান গঞ্জালেজ। দু’মিনিট পরেই ফের বেইতিয়ার কর্নার থেকে তুরসুনভের ভলিতে হেড করে ব্যবধান বাড়ান ফ্রান মোরান্তে। দেখে মনে হচ্ছিল মোহন ফুটবলারদের সুনামি আছড়ে পড়ছে নেরোকা বক্সে। ২৩ মিনিটে ফের বেইতিয়ার ক্রসে হেডে গোল করে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোল করেন ফ্রান গঞ্জালেজ। ২৫ মিনিটেই নিজের হ্যাটট্রিক পেতে পারতেন গঞ্জালেজ। তাঁকে বক্সের মধ্যে ফাউল করায় পেনাল্টি দেন রেফারি। কিন্তু গঞ্জালেজের শট আটকে দেন মার্ভিন।

    ১০ মিনিট পরেই অবশ্য ব্যবধান ৪-০ করেন পাপা বাবাকার দিওয়ারা। ডান প্রান্ত ধরে সুহেরের চিপ বুক দিয়ে নামিয়ে ডান পায়ের ভলিতে নিজের প্রথম গোল করেন বাবা। দেখে মনে হচ্ছিল নেরোকাকে প্রথমার্ধেই গোলের মালা পরাবে মোহনবাগান। কিন্তু ৪০ মিনিটের মাথায় কাউন্টার অ্যাটাকে উঠে শঙ্কর রায়ের বাঁ দিক দিয়ে জোরালো শটে গোল করে নেরোকার হয়ে প্রথম গোল দেন ফিলিপ আদজা।

    প্রথমার্ধের শেষ সময়ে বেইতিয়ার ক্রস থেকে ডান পায়ের ছোট্ট টোকায় নিজের হ্যাটট্রিক করেন গঞ্জালেজ। তারপরের মিনিটেই ফের খেলায় ফেরে নেরোকা। গোল করে ব্যবধান ২-৫ করেন সুভাষ সিং।

    দ্বিতীয়ার্ধেও একই ছবি দেখা যায়। বাগান ফুটবলাররা নিজেদের মধ্যে পাসিং ফুটবল খেলতে থাকেন। তারমধ্যেই ধাক্কা খায় বাগান ডিফেন্স। বক্সের মধ্যে ফাউল করায় লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় বাগান অধিনায়ক ধনচন্দ্র সিংকে। পেনাল্টি পায় নেরোকা। আদজার পেনাল্টি বাঁচিয়ে দেন শঙ্কর। তারপরে দলে কিছু বদল ঘটান সবুজ-মেরুন কোচ কিবু ভিকুনা।

    নওদম্বা নওরেমের জায়গায় রোমারিও জেসুরাজকে নামান কোচ ভিকুনা। পরিবর্ত হিসেবে নেমে প্রথম টাচে গোল করে বাগানের হয়ে ৬ নম্বর গোল করেন রোমারিও। তারপরেও দুই দল গোল করার অনেক চেষ্টা করে। কিন্তু গোল আসেনি। শেষ পর্যন্ত ৬-২ ব্যবধানেই মাঠ ছাড়লেন বাগান প্লেয়াররা।

    এদিনের জয়ের ফলে ১২ ম্যাচে ২৯ পয়েন্ট হল বাগানের। দ্বিতীয় স্থানে থাকা পাঞ্জাব এফসির থেকে ১১ পয়েন্টে এগিয়ে গেল গঙ্গাপাড়ের ক্লাব। বেইতিয়াদের জয়ের পরে যেভাবে আন্দোলিত হল কল্যাণীর গ্যালারি, তাতে বোঝা যাচ্ছে ইতিমধ্যেই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন মোহন জনতা। সত্যিই তো স্বপ্নের ফুটবল খেলছে সবুজ-মেরুন জার্সিধারী ১১জন ফুটবলার। স্বপ্ন দেখাচ্ছেন কিবু ভিকুনা। বাগান সমর্থকদের প্রিয় ‘গডফাদার’।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More