মঙ্গলবার, মার্চ ১৯

এ কী বললেন দিলীপ ঘোষ! ‘মমতাই হতে পারেন প্রথম বাঙালি প্রধানমন্ত্রী’

দ্য ওয়াল ব্যুরো: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুভেন্দু অধিকারী, তৃণমূলের প্রথম সারির সমস্ত নেতাই প্রায় বলতে শুরু করে দিয়েছেন, এ বারা বাঙালি প্রধানমন্ত্রী চাই। কিন্তু এ যেন রথের চাকা উল্টোদিকে ঘুরতে শুরু করে দিল শনিবার সন্ধেবেলা। বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ মুখ্যমন্ত্রীকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলে দিলেন, মমতাই হতে পারেন প্রথম বাঙালি প্রধানমন্ত্রী। যা শুনে শুধু বাংলা বিজেপি কেন, দিল্লির বিজেপি নেতাদেরও শনিবার ভিরমি খাওয়ার অবস্থা!

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদিও ৫ জানুয়ারিকে নিজের জন্মদিন হিসেবে স্বীকার করেন না। অতীতে এমনও হয়েছে, এই তারিখে মুখ্যমন্ত্রীকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে দলের নেতারা ধমক খেয়েছেন। সে যাই হোক, বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর সুস্থ শরীর এবং সফল জীবন কামনা করে দিলীপ এ দিন বলেন, “তাঁর সাফল্যের উপর পশ্চিমবাংলার ভাগ্য নির্ভর করছে। সুস্থ থাকা এই জন্য প্রয়োজন। যদি কোনও বাঙালি প্রধানমন্ত্রী হন, তাহলে ওঁরই সম্ভাবনা আছে।” এখানেই থামেননি দিলীপ। বলেন, “আমরা জ্যোতিবাবুকে একটুর জন্য ফস্কেছি। ওঁর পার্টি হতে দেয়নি। তাই লিস্টে এখন ওঁর নামই (মমতার) উপরে রয়েছে। প্রণববাবু রাষ্ট্রপতি হয়েছেন। একজন বাঙালি প্রধানমন্ত্রী হওয়া উচিত।”

দিলীপ ঘোষ কি রসিকতা করলেন? নাকি কটাক্ষ?

এ দিনের সাংবাদিক বৈঠকে তাঁর কথা বলার ভঙ্গি দেখে এ কথা কেউই বলতে পারবেন না যে তিনি মমতাকে কটাক্ষ করে প্রধানমন্ত্রীর দাবিদার বলেছেন।

তাহলে?

পর্যবেক্ষকদের মতে, হতে পারে দিলীপবাবু নিতান্তই শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে এ কথা বলেছেন। রাজ্য বিজেপি-র সভাপতি হলেও দিলীপবাবুর শিকড় রয়েছে সঙ্ঘ পরিবারে। রাজনৈতিক মার প্যাঁচের তুলনায় সঙ্ঘ পরিবারের মতাদর্শ প্রচারে তিনি বেশি স্বচ্ছন্দ। তাই সৌজন্য দেখাতে গিয়ে কোথায় থামতে হবে হয়তো বুঝতে পারেননি তিনি। 

মজার ব্যাপার হল, দিলীপবাবুর কথা শুনে তৃণমূলের নেতারাও যেন বিশ্বাস করতে পারছেন না। অনেকেই ভাবছেন হয়তো হেঁয়ালি করেছেন দিলীপ। কাল ফের আলটপকা কী বলবেন কে জানে! তবে ঘরোয়া আলোচনায় তৃণমূলের একাধিক শীর্ষ নেতা রসিকতা করে বলেন, শত হোক দিলীপবাবু বাঙালি তো। তাই এক জন বাঙালিকে প্রধানমন্ত্রী পদে দেখার বাসনা রয়েছে। মনে মনে দিদি-র প্রতি সম্মান রয়েছে। 

যদিও দিলীপ ঘোষের এ হেন মন্তব্য শুনে, বাম-কংগ্রেস নেতারা বলছেন, ‘সেটিং।’ এক কংগ্রেস নেতার কথায়, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি-র স্বাভাবিক বন্ধু। সেই বাজপেয়ীর সরকারের সময় থেকে ওঁর সঙ্গে সুসম্পর্ক। রেল, কয়লা এমনকী দফতরবিহীন মন্ত্রীও থেকেছেন।”

তবে বাস্তব হল, দিলীপবাবুর কথায় রাজ্য বিজেপি নেতারা খুবই হতাশ। রাজ্য বিজেপি-র বহু নেতা এ দিন আক্ষেপ করে বলেন, এক জন রাজনীতিককে দলের সভাপতি না করার ফল ভুগছেন অমিত শাহরা। সঙ্ঘ পরিবার থেকে উঠে আসা নেতারা সংগঠন হয়তো বুঝতে পারেন। কিন্তু রাজনীতির পাঠ বা বুদ্ধি অনেকেরই নেই। বিরোধী রাজনীতি কী ভাবে করতে হয় তা বরং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের থেকে এক বার শিখে আসুন দিলীপবাবু।  

বাঙালি প্রধানমন্ত্রী হলে তালিকায় প্রথম নাম মমতারই : দিলীপ ঘোষ

The Wall এতে পোস্ট করেছেন শনিবার, 5 জানুয়ারি, 2019

Shares

Comments are closed.