মুকুলের বড় জয়, ‘তৃণমূল থেকে যাঁরা আসছেন, তাঁদের আপন করে নিতে হবে’: দলের বৈঠকে কৈলাস

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: লাভপুরের তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলাম বিজেপি-তে যোগ দেওয়ার পর দলের মধ্যেই কেমন তোলপাড় হয়েছিল মনে আছে? শুধু মনিরুল কেন, তৃণমূল থেকে আসা অনেক বিধায়কের সঙ্গেই বিজেপি-র জেলার নেতারা মিলেমিশে চলছেন না বলে অভিযোগ।

    পরিস্থিতি যখন এমনই তখন শনিবার রাজ্য বিজেপি-র রুদ্ধদ্বার সাংগঠনিক বৈঠকে কৈলাস বিজয়বর্গীয় পষ্টাপষ্টি জানিয়ে দিলেন, তৃণমূল বা অন্য দল থেকে যাঁরা বিজেপি-তে যোগ দিচ্ছেন তাঁদের আপন করে নিতে হবে। মন বড় করলে তবেই দল বড় হবে।

    সূত্রের খবর, এ কথা বলতে গিয়ে এ দিন মুকুল রায়-অর্জুন সিংহের উদাহরণ দেন বিজেপি-র সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা পশ্চিমবঙ্গের পর্যবেক্ষক কৈলাস বলেন, জানেন তো মুকুল রায়ের সঙ্গে অর্জুন সিং-এর আদায় কাঁচকলায় সম্পর্ক ছিল। কিন্তু অর্জুন সিং যখন বিজেপি-তে যোগ দিতে চাইলেন, আমি মুকুল রায়কে প্রশ্ন করেছিলাম, আপনার আপত্তি নেই তো? মুকুলদা এক কথায় বলেছিলেন, না আমার সমস্যা হবে কেন? ভাল কথা তো অর্জুন বিজেপি-তে আসছে। ও বিজেপি-তে এলে উত্তর চব্বিশ পরগনায় দলের সংগঠন অনেক শক্তিশালী হয়ে যাবে।

    কৈলাস বিজয়বর্গীয় যখন এ কথা বলছেন, তখন সাংগঠনিক সভার মঞ্চে বসেছিলেন মুকুলবাবু। সেই সঙ্গে ছিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ, সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক সুব্রত চট্টোপাধ্যায় ও সহ পর্যবেক্ষক অরবিন্দ মেনন।

    বিজেপি-র একাংশ নেতার মতে, কৈলাসের এই বার্তা আসলে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ-র ফরমান বলেই ধরে নিতে হবে। বিজেপি-তে মুকুলবাবু যোগ দেওয়ার পর ঘরোয়া বৈঠকে বহুবার বলেছেন, দল এমনি এমনি বড় হবে না। বিজেপি-তে মঙ্গল গ্রহ থেকেও লোক আনা যাবে না। অন্য দল থেকে লোক আসবেই। তাদের মেনে নিতে হবে। অতীতে এই সূত্রেই তৃণমূল বড় করেছিলেন মুকুলবাবু। তৃণমূলে সেই ট্র্যাডিশন এখনও চলছে।

    কিন্তু লাভপুরের তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলামকে তিনি বিজেপি-তে সামিল করার পরেই অশান্তি শুরু হয়। দলের একাংশ মুকুলবাবুর পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন। একই সঙ্গে জোরালো সওয়াল করেন সঙ্ঘ পরিবারের কয়েকজন নেতাও। কিন্তু তখনই একবার অমিত শাহ বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন, এ রকম অসহিষ্ণু হলে দল বড় হবে না। তাতে যে খুব কাজ হয়েছিল তা নয়। তাই কৈলাস শনিবার বিষয়টি ফের উত্থাপন করে দলের অবস্থান স্পষ্ট করে দেন বলেই মনে করা হচ্ছে।

    পর্যবেক্ষকদের মতে, কৈলাসের এই কথায় আরও একটি রাজনৈতিক সম্ভাবনার ইঙ্গিত রয়েছে। তা হল, আগামী দিনে তৃণমূল, কংগ্রেস বা বামেদের থেকে আরও নেতা কর্মী ভাঙিয়ে গেরুয়া শিবিরে সামিল করার চেষ্টা চালাবেন মুকুল রায়-কৈলাস বিজয়বর্গীয়রা। লোকসভা ভোটের সময় বাংলায় প্রচারে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দাবি করেছিলেন, তৃণমূলের অন্তত চল্লিশ জন বিধায়ক তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। মুকুল রায়দের দাবিও তেমনই। কৈলাসের সবুজ সঙ্কেতের পর সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিজেপি এ বার জোর দেবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More