রবিবার, নভেম্বর ১৭

গড়াপেটা নিয়ে বিস্ফোরক শোয়েব আখতার, নিজের দলের ১০ ক্রিকেটারের বিরুদ্ধেও লড়তাম

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কয়েকদিন আগে বাংলাদেশের অধিনায়ক শাকিব আল হাসানের হাত ধরে ফের ফিরে এসেছে ম্যাচ গড়াপেটার কালো স্মৃতি। শাকিবের ঘটনা সামনে আসার আগেই এই ব্যাপারে মুখ খুলেছেন প্রাক্তন পাক ফাস্ট বোলার শোয়েব আখতার। বলেছেন, শুধু বিপক্ষ দল নয় নিজের দলের বাকি ১০ জনের বিরুদ্ধেও খেলতে হত আমাকে।

সম্প্রতি একটা টক শোতে অতিথি হয়ে গিয়েছিলেন শোয়েব। সেখানেই উঠে আসে ম্যাচ গড়াপেটার প্রসঙ্গ। তাঁর খেলোয়াড় জীবনে মহম্মদ আসিফ, মহম্মদ আমির, সলমন বাটদের প্রসঙ্গ তুলে আনেন রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেস। ২০১১ সালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট চলাকালীন ম্যাচ গড়াপেটায় অভিযুক্ত হন পাকিস্তানের এই তিন ক্রিকেটার। পাঁচ বছরের নির্বাসন দেওয়া হয় তাঁদের। নির্বাসন কাটিয়ে আমির ফের পাকিস্তান দলে ফিরলেও বাকি দুই ক্রিকেটারের কেরিয়ার শেষ হয়ে যায়।

এই গড়াপেটার প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে শোয়েব আখতার বলেন, “আমি সবসময় ভাবতাম কখনও পাকিস্তানের সঙ্গে গদ্দারি করতে পারব না। তাই ম্যাচ গড়াপেটার কোনও প্রশ্নই আসেনি। সারাক্ষণ ম্যাচ গড়াপেটার সঙ্গে যুক্ত লোকেরা আমার চারপাশে থাকত। আমি বিপক্ষ দলের ১১ ক্রিকেটারের পাশাপাশি নিজের দলে ১০ ক্রিকেটারের সঙ্গেও লড়তাম। কারণ জানতাম না এদের মধ্যে কে ম্যাচ গড়াপেটার সঙ্গে যুক্ত।”

মহম্মদ আসিফ ও মহম্মদ আমিরের ম্যাচ গড়াপেটার বিষয়ে জানতেন শোয়েব। এদিন তিনি বলেন, “আমাকে আসিফ ও আমির সব বলেছিল। কী ভাবে কোন ম্যাচ ওরা গড়াপেটা করেছে সব জানতাম। ওদেরকে আমি বুঝিয়েছিলাম নিজেদের ট্যালেন্টকে নষ্ট করছে ওরা। আমার এত হতাশ লাগত আমি দেওয়ালে ঘুষি মারতাম। পাকিস্তান দলে সেই সময়ের সবথেকে ভাল দুটো বোলার এ ভাবে গড়াপেটার সঙ্গে যুক্ত থেকে নিজেদের কেরিয়ার নষ্ট করছে দেখে খারাপ লাগত। কিছু টাকায় নিজেদের বেচে দিয়েছিল ওরা।”

পাকিস্তানের হয়ে খেলার সময় অনেকবার শোয়েবের উপর অভিযোগ উঠেছিল যে তিনি বুকিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। কিন্তু কোনওবারই কিছু প্রমাণ হয়নি। তবে পাকিস্তান ক্রিকেটের সঙ্গে গড়াপেটার সম্পর্ক বহুদিনের। ইনজামাম উল হক, আজহার মেহমুদের মতো ক্রিকেটারের বিরুদ্ধেও আঙুল উঠেছিল। এমনকি পাকিস্তান ক্রিকেট দলের কোচ বব উলমারের মৃত্যুর ঘটনাতেও উঠে এসেছিল বুকিদের প্রসঙ্গ। যদিও তা প্রমাণিত হয়নি।

পড়ুন ‘দ্য ওয়াল’ পুজো ম্যাগাজিন ২০১৯ – এ প্রকাশিত গল্প

স্যার, খুন আমি করেছি

Comments are closed.