প্লাস্টিকের বিকল্প কী? তিনদিনের মধ্যে মতামত জানাতে হবে পেপসি-কোলাকে: রাম বিলাস পাসোয়ান

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো : সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘোষণা করেছেন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। সেই লক্ষ্যেই আরও একধাপ এগোল কেন্দ্র। পেপসি, কোকা কোলার মতো পানীয় সংস্থাকে জানিয়ে দেওয়া হলো প্লাস্টিকের বদলে কী ব্যবহার করলে পরিবেশ দূষিত হবে না, সে ব্যাপারে একটা বিকল্প তিনদিনের মধ্যে জানাতে হবে। তারপরেই সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।

    সোমবার খাদ্য ও উপভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রী রাম বিলাস পাসোয়ান বিভিন্ন পানীয় প্রস্তুতকারক সংস্থার সঙ্গে বৈঠক করেন। তিনি জানান, প্লাস্টিক কীভাবে ব্যান করা হবে সেই ব্যাপারে পরিকল্পনার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি তাদের সিদ্ধান্ত সরকারকে জানাবে। এ দিনের বৈঠকে উপভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রকের সচিব এ কে শ্রীবাস্তব ও অন্যান্য আমলারাও উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়াও ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ড, এফএসএসএআই ও আইআরসিটিসি-র আধিকারিকরাও হাজির ছিলেন বৈঠকে।

    বৈঠকের পরে সাংবাদিকদের সামনে রাম বিলাস পাসোয়ান বলেন, “পরিবেশ দূষিত করার ক্ষেত্রে একটা বিরাট ভূমিকা পালন করে প্লাস্টিক। এ ছাড়াও পশু-পাখিদেরও সমস্যা হয়। আমরা খবর পেয়েছি, আজকাল গরুদের পেটে প্রচুর পরিমাণে প্লাস্টিক জাতীয় দ্রব্য পাওয়া যাচ্ছে।” তিনি জানান, সেজন্যই রিসাইক্লিং ( পুনর্ব্যবহার ) না করে প্লাস্টিকের বিকল্প ব্যবহারের চেষ্টা করতে হবে।

    পাসোয়ান আরও বলেন, “এই বৈঠকে প্লাস্টিকের বদলে ঠিক কী ব্যবহার করা যেতে পারে সে ব্যাপারে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। তাই আমি সব পানীয় প্রস্তুতকারক সংস্থাকে বলেছি, ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাঁদের মতামত আমাকে জানাতে।” এই মতামত প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। শেষ সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমি সবার কাছে আবেদন করতে চাই, প্লাস্টিক থেকে দূষণ ও বিভিন্ন রোগ ছড়ায়। তাই পুনর্ব্যবহার না করে বিকল্প কিছু আমাদের খুঁজে বের করতে হবে। তার আগে যতটা সম্ভব কম প্লাস্টিকের ব্যবহার করুন সবাই।”

    প্লাস্টিক নিষিদ্ধ করলেও এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত লোকেদের সমস্যা হবে না বলেই মনে করেন খাদ্য ও উপভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, বিকল্প যে মাধ্যম বের হবে সেখানেও প্রচুর পরিমাণ লোক নিয়োগ হবে। ফলে বেকারত্ব বাড়ার কোনও প্রশ্ন নেই। শুধুমাত্র পানীয় প্রস্তুতকারক সংস্থা নয়, রেল মন্ত্রককেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ‘রেল নীড়’ ব্র্যান্ডের দিকে খেয়াল রাখতে। কারণ সেখানেও প্লাস্টিকের বোতল ব্যবহার করা হয়।

    এই বৈঠকের পর অবশ্য অল ইন্ডিয়া অ্যাসোসিয়েশন অফ ন্যাচারাল মিনারেল ওয়াটার ইন্ডাস্ট্রি-র সেক্রেটারি বেহরম মেহতা জানিয়েছেন, জলের বোতল বর্তমানে পলিথিলিন টেরিপথ্যালেট দিয়ে তৈরি হয় যা ৯২ শতাংশ পর্যন্ত রিসাইকল করা সম্ভব। সেটা ১০০ শতাংশ করার চেষ্টা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, প্লাস্টিক শিল্প বর্তমানে সাড়ে সাত লক্ষ কোটি টাকার ও এর সঙ্গে সাত কোটি মানুষ যুক্ত। তাই বললেই সঙ্গে সঙ্গে তা নিষিদ্ধ করা সহজ নয়। এতে অর্থনীতির উপর প্রভাব পড়তে পারে। তিনি আরও জানিয়েছেন, পেপার, কাঁচ কিংবা স্টিলও কিন্তু পরিবেশের বন্ধু নয়। এগুলো থেকেও পরিবেশ দূষণ হয়।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More