ধর্ষণকাণ্ডে অবশেষে গ্রেফতার বিজেপি নেতা চিন্ময়ানন্দ, ১৪ দিনের জেল হেফাজত

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো : ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পাঁচ দিন পর অবশেষে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী স্বামী চিন্ময়ানন্দকে গ্রেফতার করল পুলিশ। শুক্রবার গ্রেফতার করার পর তাঁকে কোর্টে তোলা হলে ১৪ দিন জেলের সাজা ঘোষণা করেন বিচারক।

পুলিশ সূত্রে খবর, শুক্রবার সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ গ্রেফতার করা হয় স্বামী চিন্ময়ানন্দকে। তাঁর আইনজীবী জানিয়েছেন, চিন্ময়ানন্দকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়নি। তাঁকে ‘ক্ষমতার অপব্যবহার করে যৌনসঙ্গম’-এর অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের সাজা ও আর্থিক জরিমানা হতে পারে তাঁর।

চিন্ময়ানন্দের বিরুদ্ধে অভিযোগ, এক বছর ধরে কলেজপড়ুয়া ওই তরুণীকে নানা ভাবে নিগ্রহ করেছেন তিনি। তরুণীর স্নান করার দৃশ্যের ভিডিও তুলে, হুমকি দিয়ে একাধিক বার ধর্ষণ করেছেন তিনি। এর পরেই চিন্ময়ানন্দের বিরুদ্ধে বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ জোগাড় করেন ওই তরুণী। অভিযোগ জানান পুলিশে। ফেসবুকে ভিডিও করে জানান ঘটনার কথা। তার পরেই আচমকা অপহৃত হন তিনি। ছ’দিন পরে রাজস্থান থেকে উদ্ধার করা হয় তাঁকে।

এর পরেই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বিশেষ তদন্তকারী টিম অর্থাৎ সিট তৈরি হয়। তারা তরুণীর হোস্টেল ঘুরে দেখেন। সাত ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেন অভিযুক্ত চিন্ময়ানন্দকে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত নাকি ধর্ষণের সপক্ষে কোনও তথ্যপ্রমাণ পাননি তাঁরা।

বুধবার প্রয়াগরাজে (এলাহাবাদ) সাংবাদিক বৈঠকে নিগৃহীতা অভিযোগ তোলেন, চিন্ময়ানন্দকে গ্রেফতার করার ব্যাপারে ইচ্ছা করে ঢিলেমি করছে পুলিশ। তিনি বলেন “দু’দিন হয়ে গেল আমি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে সব বলে এসেছি, এখনও চিন্ময়ানন্দকে গ্রেফতার করা হল না। মনে হচ্ছে চিন্ময়ানন্দকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে সিট এবং আমাদের বিপাকে ফেলার জন্য কিছু খুঁজছে। সরকার যদি আমার মৃত্যু চায়, তাহলে নিজের শরীরে কেরোসিন ঢেলে জীবন্ত পুড়ে মরব।”

নিগৃহীতা তরুণীর বাবারও অভিযোগ, সিট-এর তরফে কোনও এফআইআর দায়ের করা হচ্ছে না। দিল্লি পুলিশের কাছে ধর্ষণের অভিযোগ করে আসার পরেও তার কোনও গুরুত্ব দিচ্ছে না সিট।

সিট-এর তরফে জানানো হয়েছে, সংবাদমাধ্যম কী বলছে, চিন্ময়ানন্দের রাজনৈতিক প্রভাব কী– এগুলি তদন্তের বিচার্য বিষয় নয়। চিন্ময়ানন্দের বিরুদ্ধে যা অভিযোগ, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। সে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে সংবাদমাধ্যমে শুনানি শুরু না হওয়াই ভাল।

পুলিশের ইনস্পেক্টর জেনারেল তথা সিট-এর প্রধান তদন্তকারী নবীন অরোরা বলেন, “তদন্তকারী সংস্থার উপরে বিশ্বাস রাখতে হবে। যদি তদন্তে ভুল হয়, বা তদন্ত ভুল পথে চালিত হয়, তা হলে হাইকোর্ট সেটা দেখবে। তাদেরই দায়িত্ব, আমাদের বক্তব্য খতিয়ে দেখার। আমরা অন্য কারও কথায় বা সংবাদমাধ্যমের বিচারে প্রভাবিত হব না।”

তিনি আরও বলেন, “এফআইআর-এ কী বদল হয়েছে, আমি বলতে পারব না। এটুকুই বলতে পারি, আমরা তদন্ত চালাচ্ছি। বিভিন্ন জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছি। কাউকে গ্রেফতার করার মতো কোনও তথ্যপ্রমাণ পাইনি এখনও। মানুষ কী বলছে, তাই শুনে তো আমরা আমাদের তদন্তে পরিবর্তন আনব না! আমাদের কাজের ঠিক-ভুল নিয়ে কারও কাছে প্রমাণ দেওয়ার নেই আমাদের।”

বৃহস্পতিবার উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এক সভা থেকে বলেন, তাঁর সরকারের কাছে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হল মহিলাদের অধিকার ও সুরক্ষা বজায় রাখা। মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অবশ্য গ্রেফতার করা হল বিজেপির এই প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রীকে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More