টাইগার টেম্পল থেকে ১৪৭টি বাঘকে উদ্ধার করেছিল তাই সরকার, মেরে ফেলল ৮৬টি বাঘকে!

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৮৬টি বাঘ মারা গেল তাইল্যান্ডে! অভিযোগ, সরকারি গাফিলতিতেই মৃত্যু হয়েছে তাদের। তিন বছর আগে তাইল্যান্ডের টাইগার টেম্পল থেকে ১৪৭টি বাঘকে আটক করে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছিল সরকার।

    ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফাউন্ডেশনের অভিযোগ ছিল, বিনা অনুমতিতে টাইগার টেম্পলে খোলা ছাড়া থাকে বাঘগুলো। সেখানে পর্যটকেরা আসে, কোলে নেয় বাঘগুলিকে। দুধও খাওয়ায়, ছবি তোলে। বাঘের চরিত্রের সঙ্গে এই ধরনের কার্যকলাপ মানানসই নয়। তাই ওই টেম্পেলের ১৪৭টি বাঘকে অভয়ারণ্যে নিয়ে গিয়ে ছেড়ে রাখা হয়েছিল সরকারি বন দফতরের তরফে। তাদের মধ্যে ৮৬টিই মারা গেছে বলে জানা গিয়েছে সরকারি সূত্রে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বাঘগুলিকে আনার সময় থেকেই তাদের শরীরে রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা খুব কম ছিল। শেষমেশ ভাইরাসের সংক্রমণে মারণ অসুখে আক্রান্ত হয় তারা।

    এ ভাবেই পর্যটকেদের মনোরঞ্জন করত বাঘেরা।

    অভয়ারণ্য কর্তৃপক্ষের তরফে প্রকিত ভংশ্রীভট্টনকুল বলেন, “আমরা এখানে বাঘগুলিকে যখন এনেছিলাম, তখনই দেখেছিলাম তারা বেশ অসুস্থ। চিকিৎসাও চালাচ্ছিলাম আমরা। কিন্তু তার আগেই ওদের যা ক্ষতি হওয়ার হয়ে গেছে। তাই ১৪৭টির মধ্যে ৮৬টি বাঘই মারা গেছে। বাকিদের মধ্যেও অনেকে অসুস্থ।”

    ২০১৬-র আগে পর্যন্ত তাইল্যান্ডের টাইগার টেম্পল খুবই বিখ্যাত ছিল বাঘেদের জন্য। শুধু বাঘের সঙ্গে সেলফি তোলার জন্যই বহু পর্যটক যেতেন। কিন্তু তদন্তে ধরা পড়ে, বাঘ-পাচার চক্র চলছে সেখানে। এছাড়াও অভিযোগ ওঠে, বাঘগুলিকে মাদক খাইয়ে ঝিমিয়ে রাখা হয়, যাতে তারা নিরীহ আচরণ করে, পর্যটকদের কথা শোনে।
    অভিযোগ ছিল টাইগার টেম্পলের বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের বিরুদ্ধে।

    বন্যপ্রাণ আন্দোলনকারীরা মন্দির কর্তৃপক্ষের দিকে অভিযোগের আঙুল তোলে। দাবি করে, অবৈধ ভাবে ব্রিডিং করানো হচ্ছে তাদের। ড্রাগ দেওয়া হচ্ছে মাত্রাতিরিক্ত পরিমাণে। এর পরেই সচেতন হয় বন দফতর। জানায়, এ ভাবে বাঘেদের নিয়ে পর্যটন ব্যবসা করা যাবে না। ১৪৭টি বাঘকে উদ্ধার করে সরানো হয় অরণ্যে।

    বন দফতর সূত্রের খবর, একের পর এক বাঘের গলার স্বর ক্ষতিগ্রস্ত হতে হতে বন্ধ হয়ে যায়। স্বরযন্ত্র নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। এর পরে শুরু হয় তাদের নিঃশ্বাসের কষ্ট। এর পরেই ভাইরাল সংক্রমণে আক্রান্ত হয় তারা। বাঘগুলির অনিয়মিত ব্রিডিং, অত্রিক্ত মাদক দেওয়া এবং জায়গা বদল করা– এই সব ক’টিই মৃত্যুর কারণ বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে যখন ভাইরাল সংক্রমণ শুরু হল, তখন চাইলে তা রুখে দেওয়া যেতে পারত বলে দাবি তাঁদের। তাঁদের অভিযোগ, যথেষ্ট সতর্কতামূলক পদক্ষেপ করেনি বন দফতর।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More