বুধবার, আগস্ট ২১

জোকার

শুভ আঢ্য

হতে পারে রাশিয়ান মেয়েটি কখনও বেঁচে উঠবে,
জোকারের জোড়া ঠোঁটে রেখে উঠবে ত্রিভুজ তার …
আবার এ’ও খুব স্বাভাবিক যেখানে তাদের দেখা
হবে না, পলাশের বনে হিমেল হাওয়ায় বেঁচে ওঠা প্রেত
হয়তো বা বলে থাকবে, তাদের যৌনকর্ম আসলে প্রলাপ
আর তারা পাপেট মাত্র, চরম মিথ্যে তাদের অবস্থানটুকু,
ঘটনা মোহের ভেতর জলের বাড়িঘর যেখানে
জোকার ঢুকেছে, আর অণু অণু          অনুপ্রবেশকারী

প্রতিটা স্বপ্নই আসলে দীর্ঘস্থায়ী রাসায়নিক বিক্রিয়া
যারা অনুঘটকের প্রভাবে এতক্ষণ সক্রিয় ছিল
আসলে যাদের খুব বেঁচে ওঠার কথা, জোড়া করার কথা
ঠোঁট               তারা আদপেই খুব স্বাভাবিকভাবে প্রেতদেহ থেকে
বেরিয়ে এসেছে আগেই, যাদের ভেতরে কোনো
হিমেল হাওয়া অবশিষ্ট নেই আর

তোমার আজকের দিনটি ক্রমশই
ফ্যাকাসে হয়ে উঠবে – এমনটাই লেখা ছিল
সেখানে, আর কে যে কবেকার দেরাজে লুকিয়ে
রেখে যাবে বনস্পতির হাওয়া তারা জানে না, উভয়ত
তারা সরে আসে এবং পাতার তলায় নিজেদের চিনতে পারে
সঠিক,             ছুরিকাঁচি শান দেয়
অপরের শরীরে

ফলত তাদের আজকের দিনটি একটি সার্কাসি তাঁবুর ভেতর
ক’টা কমলা নিয়ে তারা কাটিয়ে দেয় নখ ও চুল,
ভুলে কাটিয়ে দেয় সেই সিনেমহল, সেই নোংরা অভিপ্রায়

অথচ দেখো তাদের দিন পয়দা করছে জোকারের হাসি
আর ক্রমশ সংখ্যাভিত্তিক হয়ে উঠছে তাদের ক্রোমজোম

তাদের বাইরে অপেক্ষারত তাদেরই আজকের দিন
যা ক্রমশ ফ্যাকাসে হয়ে উঠবে, রঙ জ্বলে উঠবে তার
তোমার আজকের দিন হয়ে উঠবে ক্রমশই

সে পারে না আর, তার ছোটো গড়ন
তার বনসাই চেহারা বাচ্চাগুলো নিজেদের বলে
পারে না ভেবে উঠতে, তার মাঝারি মাপের আলো
যেন প্রতিমুহূর্ত তাকে ঠেলে দিচ্ছে খাটো বাক্সে,
দম আটকে আসছে তার, প্রত্যেক মেয়ে সুরেলা আঙুলে
মেপে যাচ্ছে প্রমাণ সাইজের অরূপ রতন           সুগঠিত,
অথচ আধার যার মাঝারি মাপের… জোকার জানে
তার সবচেয়ে পছন্দের সময় গোধূলি, সেই
টোম্যাটো রঙের আলোয় সে দীর্ঘতম হয়ে উঠতে পারে,
মেয়েগুলির বুকে চেপে দিতে পারে মুখ, যখন তারা কেউ
তাকে সরিয়ে দেবে না, এই প্রচ্ছায়াই হতে তো
চেয়েছিল… খালি আকার থেকে বেরিয়ে এসে দেখে সে
তার আত্মাও মাঝারি মাপের, বুকে ফুটো, ঠোঁটে সেলাই

যে কোনো প্রণয়সরণী বেয়ে তার শববাহী গাড়ি
এগিয়ে যায়, সে কোনো প্রণয়সরণী বেয়ে
দেখে এগিয়ে যেতে তারই শববাহী গাড়ি, অথচ
পাশে সার্কাস চলছে, মুখের সেলাই ঘিরে সুতোর গান
চলছে দেখো কিভাবে রাশিয়ান, আমাদের সমস্ত রাশি
আমরা আকাশে টাঙিয়েছি, আর তার ফল ঝরে গেছে
রাশিয়ান মেয়েটির কোঁচড়ে, ভরে,       ভরে
ভরে তোলে ভর আর ভারের পার্থক্য      যেন এইভাবে ছবি
আর চলচ্ছবি ডিঙিয়ে যাবে এই স্টেজ, এতটুকু কথা
হবে না, হবে না এতটুকু ঘুম, শুধু বিনয়ের নীচে
তাদের প্রণয়ের ব্লুফিল্ম রয়ে যাবে – জোকার জানে,
আর জানে তাঁবুর ভেতর বাচ্চারা সেই আলোয় দেখে
উঠবে পুরুষ, কাল…         আজ নয়, কাল বা পরের দিন কোনো

ওটুকুই ব্যাপ্তি তার… আলোর ভেতর ঝিলমিলটুকু থাকা
আর শ্বেত কণিকার ঘুরে যাওয়া সোভিয়েত দেশ
জোকারের শোভন বলে কিছু নেই, তাপ্পি আলোয়ানের
তলায় একযুগ অন্ধকারের ভেতর বসে থাকা ছায়া তার

যদিও অবস্থান আর ব্যাপ্তির মাঝে আলো          জ্বলে
আর শরীরের ভেতর নিরেট আত্মা               চড়ে     নড়ে
ওই দ্বিমুখী সিদ্ধান্তে… হয়তো হাতের কমলা ফিলজফি
হয়ে যাবে, অথবা ফল… বা ফিলগুড ফ্যাক্টর
শুধু ওটুকুই, তবু… শুধু ঝিলটুকু দেখেছিল সে
মেয়েটির ভেতর, বাড়ির ছায়াটুকু দেখেছিল, ওখানে
যেন ব্যাপিত রয়েছে, রোপিতও রয়েছে সেখানে

 

Comments are closed.