বুধবার, অক্টোবর ১৬

আলো দেখার নেশা

অনিমিখ পাত্র

১.

চেষ্টা করেছি, তবু একটি ফুলের মতো ফুটে উঠতে পারিনি কখনো
আহত জিপের মতো অনেক খাদের নীচে আমার সে চেষ্টা পড়ে থাকে
আমি ছেড়ে গেছি। তবু, একটা দুটো বনফুল সঙ্গ দেয় তাকে

২.

আমিও বলিনি আর তুমিও শোনোনি, এই হল প্রকৃত শূন্যতা
জেন গল্পে এরকম আছে, যেন সহস্র ঘুলঘুলিওলা ঘর
হাওয়া আসে হাওয়া যায়। তুমি আর আমি সেই যুগ যুগ হাওয়া

৩.

নিজের প্রাণের কাছে পড়ে আছি কচ্ছপের মতো
শীত গ্রীষ্ম ঘুরে যায়, হাসি কান্না ওড়ে
আপন প্রাণের ধূপ লেখা হয়ে পোড়ে

৪.

বাহানাবনের মধ্যে ফুটে ওঠে অতিধীরে বসন্ত একক
সকলই ঋতুর দোষ, এই বলে তুমি প্রসঙ্গটি উলটে গেছ তুমি
যেরকম মেঘ বেশি ভারী হলে, বৃষ্টি তাকে হালকা করে দেয়

৫.

যে ঘরে দরজা নেই ঢুকেছ সে ঘরে
সে ঘরে আশ্চর্য তুমি শত সহস্র তুমিই রয়েছ
তুমি ভাবছ এই লেখা সম্ভব হলটা কী করে?

৬.

আশ্চর্য রাত্রির গায়ে ফুটে ওঠো তুমি বাংলা হরফের মতো
কুয়াশা না অক্ষরবাষ্প, আদি অন্ত্য চোখেই পড়ে না
যেন, দেহও প্রস্তুত আর মনও সম্মত

৭.

বড়ো স্বপ্নের ভেতরে এসে হাত-পা গুটিয়ে গেছে ছোটো স্বপ্নটির
এভাবে খোলে না ঝর্ণা। যৎসামান্য বাতাসায় প্রাণ মজে যায়
স্বপ্নের ভেতরে বাড়ে ভীড়। আজ, স্বপ্ন মানে ভীড়

৮.

আমার সমস্ত মন টিলায় দাঁড়ানো এক লোকের সন্তাপ
কখনো সমস্ত নয়, প্রত্যাহারময় আর আর স্তোকবাক্যে ঘেরা
আমার সমস্ত মন দিগবিদিকে পাখিপ্রস্তুতি

৯.

ফাল্গুনে, অঘ্রানে, ঘ্রাণে ছিন্ন ভিন্ন হৃদয়ের চিহ্ন আমার
সন্ধ্যার অল্প আগে মাতৃরূপের মতো আলো
কে যে কাকে খুঁজবে! সব রাস্তাঘাট খেয়ে ফেলে দ্রুত অন্ধকার

১০.

আসলে আমিই এক স্পেসশিপ। আলোকের বেগে
ছুটে তো যাবোই। কিন্তু আমি যে ছিলাম
সেই নমুনার জন্য শুধু আছি এই ভিনগ্রহে জেগে

অনিমিখ পাত্রর জন্ম পশ্চিম মেদিনীপুর। প্রকাশিত বই  সন্দেহপ্রসূত কবিতাগুচ্ছ (২০১৭)। পতনমনের কুর্সি (২০১৬)। কোনো একটা নাম (২০১৩)। যতদূর বৈধ বলি (২০০৯)।

Comments are closed.