মঙ্গলবার, নভেম্বর ১৯

ছ’টা কবিতা: শৌভিক দে সরকারের

শৌভিক দে সরকার

বিজন বাড়ি

সামান্য রক্তমাংস হোক
সামান্য শোকানল

সামান্য অন্ধত্ব খসে পড়ুক মেঘবর্ণ পাথর থেকে
নীচু হয়ে থাকা অক্ষর, প্রলাপ ও স্বেদ
নিষ্ক্রিয় পথনির্দেশকগুলির ওপর থেকে
উঠে যাক বর্ষাপ্রকল্পের শ্যাওলা
যৌথ দাগের ওপর বসে থাকুক
অতর্কিত প্রজাপতি
কলরব

বশ্যতার মাঝামাঝি পড়ে থাকা দরজার উল্টো দিকে
ঝরে পড়ুক বিন্দু, বিসর্গ
পৃষ্ঠার অধিকার
গর্হিত হাওয়ার ওপর ঝুলে থাকুক
অনুপ্রবেশের দিন ও তারিখ 

 

নো ফ্লাই জোন

সন্দেহপ্রবণ একটি মেঘের নীচে বাড়তি একটি মেঘ

মেঘ সংক্রান্ত পাঠগুলির দিনে এভাবেই
খুঁটিয়ে দেখতাম আমরা পতনকামনার শর্তগুলি
একটি সরলরেখার নীচে অন্য একটি সরলরেখা
সংকেত, সীমারেখা পার হয়ে যাওয়া অন্য শিবির
পরিচিত ক্রীতদাসদের টেনে আনা নিজস্ব বিগ্রহ
ভারী সীসা আর পেলেটবিদ্ধ জনাদেশ
আক্রান্ত চাকরিগুলিও তখন আকাশ থেকে নামত
পাথর আর লিফলেটের সঙ্গে নেমে আসত
আলোর রথ আর অর্থহীন হাড়গোড়

 

কুসুমবিল এফ ভি

পায়ের শিরার ওপর লেগে থাকে
অন্য কারও নীল রঙ

প্যাকিং বাক্সের বরফেও লেগে থাকে
ঐ আশ্চর্য নীল রঙ

বরফের কুঁচি ওড়ে
সস্তা কাঠের গুঁড়ো

রোদ ওড়ে
রোদের ভেতর উড়ে বেড়ায় সহ্য শেকড়
চিহ্নিত মাতৃভাষা 

 

নয়নতারা

প্রাপ্ত বাড়িটিও একটি গোপন সঙ্ঘের মত হয়ে ওঠে
চারণবিধি, অবতরণের শর্তগুলি খুলে দেখায়
নিয়ন্ত্রিত শার্সি, চর্চাবিরুদ্ধ চৌকাঠ
দৃষ্টি বিভ্রমের দিকে আরও কিছুটা এগিয়ে যায়
তোমার আলস্য, তোমার একশ বছরের জড়তা
হাই ওঠে আমার, অন্ধ হয়ে যাওয়ার অজুহাতে
কাঠের সাদা গেটটি খুলি
বর্ষাপ্রকল্পের পর রহস্যের কূল কিনারা জড়ানো গেট
শ্যাওলার বিবরণে হাত রাখি,
কেঁপে ওঠে পেট্রলদগ্ধ দেওয়াল

  

কুচলিবাড়ি আউটপোস্ট

যে তুমি, শর্তসাপেক্ষ একটি ভোরের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে
খুলে ফেলছ সীমারেখা, রহস্যপ্রণালী
যে তুমি, পরবর্তী স্মৃতি, সংগঠিত অপরাধ
যে তুমি, জলের অতলে দ্রুত নেমে আসা বিদ্যুৎবাহী তার
অতল অবধি গেঁথে যাওয়া বর্ণান্ধ চরাচর
মাটি খুঁড়ছ, মাটি খুঁড়ে দেখছ লবণের স্তর
স্থানচ্যুতির পর্ব, রক্তশূন্য কাটা কব্জির বিস্তার

 

সান্তালপুর মিশন

মাঠ হয়ে গিলে ফেলছ আমাকে
নীলের স্বাচ্ছন্দ্য, জটিল কার্পাস হয়ে
                গিলে ফেলছ আমার আয়ুরেখা
গত বছরের কয়েকটি লিফলেট
উড়ে বেড়াচ্ছে অভ্যাসবশত
ফড়িং-এর পুঞ্জাক্ষি, ডানার শিরা উপশিরায়
লেগে যাচ্ছে শাদা বসন্তের দাগ

মাঠের শেষ দিকে নেমে আসছে ক্রুশ কাঠের ছায়া
ঝাপসা পৃষ্ঠা আর সংশোধনী তালিকার খসড়া

 

শৌভিক দে সরকারের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘শীত ও বয়সন্ধির হাসপাতাল’ প্রকাশিত হয় ১৯৯৫ সালে। ‘একটি মৃদু লাল রেখা’, ‘যাত্রাবাড়ি’, ‘দখলসূত্র’, ‘অনুগত বাফার’ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ। ২০০৫ সালে ‘কবিতা পাক্ষিক সম্মান’ পেয়েছেন। ২০১৭ সালে ‘মল্লার সাহিত্য সম্মান’ পেয়েছেন। অনুবাদ ও সম্পাদনা করেছেন রবের্তো বোলানিওর কবিতা, খুলিও কোর্তাসারের কবিতা, রুদ্রমূর্তি চেরানের কবিতা, নামদেও ধাসালের কবিতা, সদত হসন মণ্টোর ‘স্যাম চাচাকে লেখা চিঠি’, ফেদেরিকো গারসিয়া লোরকার নাটক, ‘বেরনার্দা  আলবার বাড়ি’ ইত্যাদি।   

Comments are closed.