শুক্রবার, মে ২৪

কথা কবিতা গানে ‘ফ্রোজেন’ সুজয় প্রসাদের পনেরো বছর

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছবি নয়, এ যেন শব্দের কোলাজ। সেই শব্দ কখনও জয় গোস্বামীর গদ্যাংশের। কখনও বা অংশুমান কর বা জয়দেব বসুর কবিতা। কখনও বা আবার খুব ব্যক্তিগত, বন্ধুকে নিয়ে লেখা কিছু শব্দ।

আবার এই শব্দ কখনও সম্পূর্ণ মৌন। তার মুখরতা শুধুমাত্র নাচের শরীরী বিভঙ্গ।

মুহূর্তের পর মুহূর্ত নির্মাণ হয়। আর সেই সব খণ্ড-মুহূর্তেরা যেন জমাট, ‘ফ্রোজেন’ হয়ে থেকে যায় দর্শকের মনে। কবিতা, গদ্য, গানের শব্দ-ধ্বনিকে অন্য মাত্রা দেয় পেছনে স্টিল ফোটোগ্রাফদের অবিরাম যাওয়া আসা। অথবা স্টেজের এক প্রান্তে রাখা একটা বন্ধ দরজার ইন্সটলেশন। যার গা বেয়ে উঠেছে সবুজ লতারা।

আন্তর্সাংস্কৃতিক শিল্পের পথে পনেরো বছর অতিক্রম করলেন শিল্পী সুজয় প্রসাদ চট্টোপাধ্যায়। সেই মুহূর্তকেই ধরে রাখতে কলকাতার আইসিসিআর-এর সত্যজিৎ রায় অডিটোরিয়ামে বিশেষ অনুষ্ঠান ‘ফ্রোজেন’-এর আয়োজন করেছিলেন এসপিসিক্রাফট এবং এক্সপেমার্ক কমিউনিকেশন।

অনুষ্ঠানের সূচনা রোহিণী রায়চৌধুরীর রবীন্দ্রসঙ্গীতে। ‘আনন্দধারা বহিছে ভুবনে’। সেই আনন্দধারাই যেন প্রবাহিত হল কাঞ্চন মল্লিকের কম্প্র কণ্ঠে খালিল গিব্রানের উচ্চারণে। একই সঙ্গে বাঁধা হয়ে গেল অনুষ্ঠানের সুরও। আন্তর্সম্পর্ক শুধু শিল্পের সঙ্গে শিল্পের নয়। তা একই সঙ্গে শিল্পের আন্তর্জাতিকতারও।

অনুষ্ঠানকে আরও উঁচু মাত্রায় নিয়ে গেলেন বিজয়লক্ষ্মী বর্মন। প্রেমেন্দ্র মিত্র ও মণীন্দ্র গুপ্তের দু’টো কবিতার পাঠের মাধ্যমে। আর ঠিক সেখান থেকেই আবার যেন মগ্ন পাঠের জগতে ফিরিয়ে নিয়ে গেলেন সোহাগ সেন।

আনন্দধারা সত্যিই বইতে লাগল প্যাকড হল জুড়ে। সুজয়ের সঙ্গেই পাঠ করলেন অভিনেত্রী দেবলীনা দত্ত মুখোপাধ্যায়। আবার সুজয়কে নিয়ে নিজের লেখাটাই পাঠ করে শোনালেন অভিনেত্রী চান্দ্রেয়ী ঘোষ। ঠিক যেমন অনুষ্ঠানের একদম শুরুর লগ্নে করেছিলেন রীতা ভিমানি।

পারমিতা সাহা আবার সম্পূর্ণ মূক। তাঁর কথোপকথন পুরোটাই নাচের বিভঙ্গে।

ফেদেরিকো গার্সিয়া লোরকার ‘দ্য সিটি দ্যাট নেভার স্লিপস’-এর পাঠে সোহিনী সেনগুপ্ত আবারও আবিষ্ট করে দিলেন সবাইকে। ঠিক যেমন করলেন লোপামুদ্রা মিত্রর গান আর জয় সরকারের গিটার। কিংবা পালোমা মজুমদার। মন কেড়ে নিলেন এই মুহূর্তে গানে থিয়েটারের স্টেজ কাঁপানো শুভদীপ গুহও।

আবার অনুষ্ঠানের আন্তর্জাতিকতায় অনন্য সংযোজন কলকাতার জার্মান কনসুলেটের ডেপুটি কনসাল জেনারেল জুরগেন থমাস শ্রডের জার্মান কবিতা পাঠ। আবার তাঁর সঙ্গেই জয়দেব বসুর কবিতা পাঠ করলেন শ্রীজাত। দর্শকের অনুরোধে গাইলেনও দু’কলি।

অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন সুজয় প্রসাদকে প্রথমবার চলচ্চিত্রে ব্যবহার করা নির্দেশক জুটি শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়-নন্দিতা রায়। হাজির ছিলেন সুজয়কে প্রথমবার স্টেজে তোলা চৈতালী দাশগুপ্তও। বাংলা ভাষায় পাঠ করার রীতিতে সুজয় যে তাঁর যোগ্য উত্তরসূরি, সে কথাও বললেন চৈতালী। ছিলেন জয় গোস্বামী, শ্রাবণী সেন, চৈতি ঘোষালের মতো বিশিষ্টেরাও।

গোটা অনুষ্ঠানে সঙ্গীত সংযোজন করল শিবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিন্থেসাইজার।

আর সুজয় প্রসাদ। অংশুমান করের ‘সেই অখণ্ডতা আমি চাই না’ থেকে জয় গোস্বামীর গদ্য অংশ, অমৃতা প্রিতমের পাঞ্জাবী কবিতা, কিংবা অজ্ঞাতনামা কবির ‘ডিফারেন্ট কাইন্ডস অব লাভ’-এ অনন্য তিনি। পাঠ করলেন নিজের লেখা ‘রাজকুমারের চিঠি’ও।

আন্তর্সাংস্কৃতিক শিল্পের এই মাধ্যমটি এই শহরে শুরু হয়েছে সুজয় প্রসাদের হাত ধরেই। ‘ফ্রোজেন’ প্রমাণ করল শিল্পের এই নতুন মাধ্যমে মোটেও পিছিয়ে নেই কলকাতা।

Shares

Comments are closed.