শুক্রবার, নভেম্বর ১৬

‘ঠগস অব হিন্দোস্তান’ থকে গেলেন না ঠকে গেলেন দর্শক?

দ্য ওয়াল ব্যুরো:  প্রচারে বিরাট হুলুস্থুল। শেষমেশ ছড়িয়ে একদম ঝুল?

সবাই ভেবেছিল দীপাবলীর মরসুমে বাহারি আতসবাজির মতোই চোখ ধাঁধানো হবে ‘থাগস অব হিন্দোস্তান’। আতসবাজি ফাটলই বটে। তবে ফাটালেন রিভিউয়াররা। কেউ দিলেন এক। কেউ দিলেন দুই। কেউ মেরে কেটে আড়াই।

রাজা সেন যেমন। হিন্দি ছবির এই নামী সমালোচক সর্বভারতীয় মিডিয়ায় লিখলেন, ‘কেউ আমাকে প্রাচীনপন্থী ভাবতেই পারে। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি জলদস্যুদের নিয়ে সিনেমা হলে সেখানে কালো চোখ ঢাকা প্যাচ থাকা উচিত। এই ছবিতে ছিল না। কী লজ্জার কথা! থাকলে ছবিটা দেখার অভিজ্ঞতা অনেক বেশি ভালো হতে পারত। কারণ আমি দু’চোখে দুটো পরে এই ছবিটা দেখতাম।’

অথচ যশ রাজ ফিল্মের বৃহত্তম বাজেটের ছবি ছিল এটাই। বাজেট ৩০০ কোটি টাকা। অমিতাভ বচ্চন, আমির খান, ক্যাটরিনা কাইফ, সঙ্গে দঙ্গল খ্যাত ফাতিমা সানা শেখ। নির্দেশকও ধুম খ্যাত বিজয় কৃষ্ণ আচার্য।

এই ছবির প্রমোশনেও কোনও কসুর রাখেননি অমিতাভ-আমির।

কিন্তু রিলিজের দিনেই সমালোচকদের মুখে ছ্যা ছ্যা রব। সবারই মোটামুটি এক বক্তব্য। গল্পের কোনও মা-বাবা নেই সিনেমায়। ততোধিক খারাপ সংলাপ। এমন সংলাপ যেখানে অমিতাভ বচ্চনকেও বোরিং মনে হয়। আর আমির খানের চরিত্র? সেটা নাকি দাগ কাটতেই পারেনি।

ক্যাটরিনা যথারীতি মোহময়ী। কিন্তু কিছুক্ষণ অন্তর অন্তর নাচ করা ছাড়া তাঁর বিশেষ কিছু করার নেই।

শুধু মাত্র হলিউডের বিখ্যাত সিনেমা ‘পাইরেটস অব ক্যারিবিয়ান’-এর ব্যর্থ নকল। রাজা সেন অবশ্য সেখানেও খোঁচা দিতে ছাড়ছেন না। বলছেন, ক্যারিবিয়ান বিহীন পাইরেটস অব ক্যারিবিয়ান।

তবে সমালোচকরা শুধু নন, ফ্যানেরাও কিন্তু ছেড়ে কথা বলছেন না সিনেমাটা নিয়ে।

ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় মিমের ছড়াছড়ি। কেউ বলছেন শুধুমাত্র এই সিনেমার দর্শকদের কথা ভেবেই মাথা ব্যথার ওষুধের ওপর ব্যান তুলে দেওয়া উচিত সরকারের।

কেউ আবার বলছেন নভেম্বর মানেই ভারতীয় জনতার ভোগান্তি। এই নভেম্বর মাসেই নোটবন্দীর জেরে নাকাল হতে হয়েছিল সবাইকে। তেমনি এবারও দর্শকদের কপাল পুড়বে ‘থাগস অব হিন্দোস্তান’ দেখে।

কেউ কেউ তো আবার বলিউডের ছবিরই কান্নার দৃশ্য তুলে দিচ্ছেন টুইটারে ফেসবুকে। এই সিনেমা দেখলে এমন করেই নাকি কাঁদতে হবে।

সমালোচকরা বলছেন গল্পকে কম প্রাধান্য দিয়ে অতিমাত্রায় ভিজ্যুয়াল এফেক্টস নির্ভর হওয়াতেই এই অবস্থা ছবিটার। নির্দেশক অ্যাকশন দৃশ্যগুলোতে স্লো মোশান ব্যবহার করতে যতটা ব্যস্ত ছিলেন, তার সিকিভাগও যদি গল্প এবং চরিত্রটাকে ফোটাতে ব্যবহার করতেন, তাহলেও হয়ত এই অবস্থা হত না।

তবে একটা বিষয়ে সকলেই একমত, যতই বাজেট হোক তিনশো কোটি, অমিতাভ-আমির-ক্যাটরিনাকে নিয়েও ‘বাহুবলী’ বানাতে গিয়ে ডাহা ফেল বলিউড।

 

Shares

Comments are closed.