শুক্রবার, ডিসেম্বর ১৪

ট্রাম্পের একছত্র আধিপত্য কি কমবে এই মিডটার্ম ইলেকশনের পর / ১

নভেম্বর মাসের ছয় তারিখে আমেরিকায় মিডটার্ম নির্বাচন।  শোনা যাচ্ছে এই ভোটে নাকি বেশি আসন পাবেন ডেমোক্র্যাটরা। আর সেটা হলেই কমবে ট্রাম্পের একছত্র আধিপত্য। সত্যিই কি তাই? আমেরিকার  মিডটার্ম নির্বাচন নিয়ে লিখলেন রানা আইচ আজ প্রথম কিস্তি। 

এই মিডটার্ম নির্বাচন নিয়ে কথা বলার আগে বরং একটু ফিরে যাই ২০০৮-০৯ সালের আমেরিকান অর্থনৈতিক মন্দার সময়ে।

তখন এ দেশের অর্থনীতিতে তুমুল অরাজকতা। শেয়ার মার্কেট পুরো তলানিতে – বিখ্যাত গাড়ির কোম্পানি ফোর্ডের শেয়ার ১ ডলারের তলায় নেমে গেছে। চাকরি হারাচ্ছেন বহু মানুষ। সময়মত গৃহঋণের মাসিক কিস্তি দিতে না পারায় লক্ষ লক্ষ পরিবারের সাধের বাড়ি ক্রোক করে নিচ্ছে বিভিন্ন ব্যাংক – তাদের নিজেদের অবস্থাও টলোমলো।

এই ডামাডোলের মধ্যেই বারাক ওবামা ২০০৮ এর নভেম্বর মাসে আমেরিকান রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন।  প্রেসিডেন্টের গদিতে বসলেন ২০০৯ এর জানুয়ারি মাসে। আর সেই বছরই আমেরিকান দেশের আর্থিক বৃদ্ধি কমতে কমতে গিয়ে দাঁড়াল -২.৮ শতাংশে।

আমেরিকান কংগ্রেসেও তখন ডেমোক্র্যাটরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ।

ক্ষমতাতে এসেই ওবামা সেই কংগ্রেসকে আমেরিকান দেশের স্বাস্থ্য পরিষেবা ঢেলে সাজনোর জন্য নতুন সর্বজনগ্রাহ্য আইন প্রণয়নের নির্দেশ দিলেন।

ওবামা ঠিক কী কারণে সেই তুমুল  অর্থনৈতিক মন্দার বাজারে এই আইন পাশ করানোর জন্য আদা জল খেয়ে পড়েছিলেন তা আমার মতো অনেকেই আজও বুঝতে পারেনি ।

আরও পড়ুন : কংগ্রেস, তৃণমূলে সিবিআইয়ের ‘অসুর নিধন’ উল্লাস কেন

কংগ্রেসে অনেক বাকবিতণ্ডার পর ২০১০ এর মার্চ মাসে অ্যাফর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট বা ওবামাকেয়ার পাশ করল। প্রেসিডেন্ট ওবামা সই করে সেই আইন চালু করলেন।

সেই বছরই আমেরিকান কংগ্রেসের ভোটের ফলপ্রকাশের পর দেখা গেল নতুন ছবি।  সেই নির্বাচনে রিপাবলিকানরা প্রায় সব জায়াগাতেই দুরমুশ করে দিয়েছিল ডেমোক্র্যাটদের।

কংগ্রেসে সেই যে তারা জমে বসলেন – আজ প্রায় আট বছর হয়ে গেল কংগ্রেসে তারাই সংখ্যাগরিষ্ঠতা বজায় রেখেছে। বেচারা বরাক ওবামা – তাঁর শাসনকালের শেষ ছয়টি বছর প্রায় ঠুঁটো জগন্নাথ হয়েই বসে ছিলেন – যাই করতে চেয়েছেন সংখ্যাগরিষ্ঠ রিপাবলিকান কংগ্রেস চোখ বুঁজে তার বিরোধিতা করেছে। এমনই ক্ষমতাহীন হয়ে পড়েছিলেন ওবামা যে শেষের দিকে যে তার নিজের পছন্দ মতো লোককে সুপ্রীম কোর্টের বিচারপতির চেয়ারে বসাতেও পারেননি।

সারা বিশ্বের ধারণা হল আমেরিকান প্রেসিডেন্টেই পৃথিবীর সব থেকে ক্ষমতাশালী লোক । কথাটা কিছুটা ঠিক। কিন্তু এর উল্টো উদাহরণও ভুরি ভুরি। আমেরিকান রাষ্ট্রপতি আসলে ক্ষমতাশালী তখনই যখন তাঁর পেছনে কংগ্রেসের পূর্ণ সমর্থন আছে।

এই কারণেই আসন্ন আমেরিকান কংগ্রেসের নির্বাচন এতো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন : বন্ধুদের বাড়িই তো চেঞ্জ করার সব থেকে কমফর্টেবল জায়গা

একটু ভেবে দেখলেই বোঝা যাবে বর্তমান রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের কেন এতো হম্বিতম্বি। তার মূল কারণ ওঁনার পেছনে আছে সংখ্যাগরিষ্ঠ রিপাবলিকান কংগ্রেসের বরাভয়।

কেউ প্রশ্ন করতে পারে যে ওবামাকেয়ার যদি ভালই হবে তো জনগণ ২০১০ এ আমেরিকান কংগ্রেসের ভোটে রিপাবলিকানদের বিপুল ভোটে জিতিয়ে আনলো কেন? আসলে ভোটে জয় পরাজয়ের বহু কারণ থাকে।

এর মধ্যে একটা কারণ উল্লেখযোগ্য কারণ হল  আমেরিকান সংবিধানের ‘চেকস অ্যান্ড ব্যালেন্স’। এদেশের সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্টের টিকি বাঁধা আছে আমেরিকান কংগ্রেসের কাছে। প্রেসিডেন্ট যা খুশি তাই করতে পারেন না – এবং দেশের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারে তাঁকে কংগ্রেসকে জবাবদিহি করতে হয়। এমনকি অন্য রাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণাও কংগ্রেসকে জানাতে হয় এবং সেই প্রস্তাব পাশ করাতে হয়। আমেরিকার সংবিধান প্রণেতারাই এই ব্যবস্থা করেছিলেন। যাতে প্রেসিডেন্ট কোনওমতেই একছত্র ক্ষমতার অধিকারি হয়ে না ওঠেন।

একই ফর্মুলাতে প্রতি দু’বছর অন্তর আমেরিকান কংগ্রেসের হাউস অফ রিপ্রেসেনটেটিভদের নির্বাচন করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে জনসাধারণকে। ভারতের লোকসভা ভোটে যেমন দেশের জনগণ প্রতি পাঁচ বছর অন্তর ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

কিন্তু দেখা যাচ্ছে এই নতুন সহস্রাব্দে, এই দু’বছর অন্তর ভোট, বিশেষত এই মিডটার্ম ভোটে অংশগ্রহণ করার ব্যাপারে এদেশের লোকেরা আর বিশেষ আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।

নীচের চার্টে একটু চোখ বোলালেই বোঝা যাবে যে লোকেদের অনীহা কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে। শেষ মিডটার্ম ভোট হয় ২০১৪ সালে। সেই সময় প্রেসিডেন্ট ছিলেনবারাক ওবামা । সেবার মোটে ৩৬% লোক ভোট দিয়েছিলেন!

চার্টটি দেখলেই বোঝা যায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বছরগুলিতে ভোটদানের হার একটু বেশিই থাকে –৫৫ থেকে ৬০ শতাংশর আশেপাশে ঘোরাফেরা করে।

তা হলে কি দাঁড়ালো ব্যাপারটা? মোটামুটি ভাবে বলতে গেলে আমরা এই সিদ্ধান্তে আসতে পারি যে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের কট্টর সমর্থকেরাই এই মিডটার্ম নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন – এবং অধিকাংশ লোকরাই বুথমুখো হন না।

এই কট্টর সমর্থকেরা ব্যালটে ছাপ দেওয়ার আগে অবশ্যই সংবিধানের সেই ‘চেকস অ্যান্ড ব্যালেন্স’এর কথা মাথায় রাখেন। তাই তারা কংগ্রেসে সেই গোষ্ঠীকে নির্বাচিত করেন যাদের রাজনৈতিক অবস্থান প্রেসিডেন্টের উলটো দিকে।

প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন তার জমানার প্রথম দুই বছর সংখ্যাগরিষ্ঠ ডেমক্র্যাটিক কংগ্রেসের সমর্থন পেয়েছিলেন। শেষ ছয় বছর বারাক ওবামার মতো তাকেও রিপাবলিকান কংগ্রেসের সঙ্গে কাজ করতে হয়। এই ব্যাপারে বাগ্মী ক্লিনটন সাহেব যথেষ্টই সফল। তবে তার একটা বড় কারণ তখন পর্যন্তও রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট – আমেরিকান কংগ্রেস এই দুই দলের প্রতিনিধিরা সবাই মিলে মিশে কাজ করতেন। ইংরেজিতে যাকে বলে ‘বাইপার্টিজান স্পিরিট’ – তার কিছুটা হলেও তখনও অবশিষ্ট ছিলো। জর্জ বুশের আমলেও এই বাইপার্টিজানশিপ বজায় ছিলো নাইন ইলেভেনের পরের কিছু বছর।

পড়ুন দ্বিতীয় কিস্তি : ট্রাম্পের একছত্র আধিপত্য কি কমবে এই মিডটার্ম ইলেকশনের পর / ২

কিন্তু ২০০৪-০৫ নাগাদ এই দুই পার্টির মধ্যে ধীরে ধীরে বিস্তর ব্যবধান তৈরি হতে থাকে। এরই ফলস্বরূপ বুশ সাহেবকে তার শাসনকালে শেষ দুই বছর শুধু ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেসের সঙ্গে কাজ করতে হয়েছে। এখন এই বৈরিতা বাড়তে বাড়তে এক চুড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। লোকের মনে এক ধারণার সৃষ্টি হয়েছে যে কংগ্রেসে কোনো কাজ হয় না – এরা শুধুই ঝগড়া করে। ফলে হু হু করে নেমে আসছে কংগ্রেসের গ্রহণযোগ্যতা। এদেশের বিখ্যাত গ্যালাপ পোলের চার্ট দেখলে কিছুটা বুঝতে পারবেন। বর্তমান কংগ্রেসের গ্রহণযোগ্যতা ২০ শতাংশেরও কম!

চার্টটা একটু খুঁটিয়ে দেখলেই আরও একটা প্রশ্ন মনে আসা উচিত। আপনারা জিজ্ঞেস করতেই পারেন যে ২০১০ থেকে টানা আট বছর ধরে কংগ্রেসের গ্রহণযোগ্যতা ২০ শতাংশের কাছাকাছি হওয়া সত্ত্বেও জনগণ ঢালাও পরিবর্তন চাইছে না কেন?

এই প্রশ্নের জবাব দেওয়ার আগে আমেরিকার নির্বাচন ব্যবস্থাটা একটু বুঝে নেওয়া দরকার। ভারতের মতো এদেশেও কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন আছে – ফেডেরাল ইলেকশন কমিশন। মুশকিল হচ্ছে ভারতে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে এর কোনো মিলই নেই। এই ফেডেরাল ইলেকশন কমিশন কিন্তু ভোট পরিচালনা করে না – শুধু নির্বাচনী প্রচারে প্রার্থী কীভাবে জনগণ ও বিভিন্ন কোম্পানির কাছ থেকে চাঁদা তুলবে সেই সংক্রান্ত আচরণ বিধি তৈরি করে। সবরকম ভোট – তা সে কেন্দ্রীয়ই হোক আর রাজ্যই হোক বা পুরসভা, নিজেদের স্বরাষ্ট্র সচিবের দপ্তরের মাধ্যমে পরিচালনা করে বিভিন্ন রাজ্যগুলো।

এই স্বরাষ্ট্র সচিব কে? তিনি কি আমাদের দেশের আইএএস অফিসারের মতো? মোটেই নয় – শুনে চমকে যাবেন না – তিনি পুরোপুরি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব! যেমন আলেক্স পাডিয়া – ইনি ক্যালিফর্নিয়ার বর্তমান স্বরাষ্ট্র সচিব এবং ডেমোক্র্যাটিক পার্টির হোমড়াচোমড়া।

এখানেই শেষ নয়। প্রায় প্রতিটা রাজ্যেই দশ-কুড়ি বছর অন্তর তাদের নির্বাচনী কেন্দ্রের নতুন সীমানা ঠিক করে থাকেন রাজ্যের আইনসভার সদসরা। ভারতে এই কাজটি করে থাকে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন। ভারতের পরিপ্রেক্ষিতে ভাবলে মানেটা অনেকটা এরকম দাঁড়ায় – এন্টালি লোকসভার আসনটি উত্তর কলকাতা ও উত্তর পূর্ব কলকাতা আসনের সঙ্গে মিলে যাবে কিনা সেটা ঠিক করবে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার কোনও কমিটি! এই পর্যন্ত শুনে আপনি বিস্ময় প্রকাশ করতে পারেন – ধুর মশাই এ আবার কোনওদিন নিরপেক্ষ হয় নাকি! এইবার আপনি রহস্যটা একদম ধরে ফেলেছেন।

নির্বাচন কেন্দ্রের এই নতুন করে সীমানা নির্ধারণ করার এদেশে একটা গালভরা নাম আছে – জেরিম্যানডারিং। এই জেরিম্যানডারিং এর নামে প্রায় সব রাজ্যেই শাসকদলের প্রতিনিধিরা একপ্রকার গা জোয়ারি করে নিজেদের সুবিধে মত নিজেদের কেন্দ্রের সীমানা নির্ধারণ করে নিচ্ছেন। অবশ্য, চক্ষুলজ্জার খাতিরে কোনও কোনও রাজ্য নিরপেক্ষ কমিটি গড়েছে – কিন্তু এতেও সমালোচনা বন্ধ করা যায়নি।

একটা ছোটো উদাহরণ দিয়ে এই জেরিম্যানডারিং ব্যাপারটা খুব সহজেই বোঝা যাবে। যদিও আগেই বলে নেওয়া ভালো বাস্তবে এই প্রক্রিয়াটি আরও  জটিল। ধরা যাক পাঁচটি নির্বাচন কেন্দ্র ৫০ টি থানা নিয়ে গঠিত এবং প্রতিটি কেন্দ্রে ১০ টি করে থানা আছে।

সৌজন্য: উইকিপিডিয়া

প্রথম ছবিটি দেখাচ্ছে যে এই এলাকার নাগরিকেরা ৬০ শতাংশ হলুদ পার্টিকে সমর্থন করেন ও বাকি ৪০ শতাংশ সবুজ পার্টিকে সমর্থন করেন। দ্বিতীয় ছবিটি দেখাচ্ছে কীভাবে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা গায়ের জোরে এই পাঁচটি কেন্দ্রের নতুন করে সীমানা নির্ধারণ করা যায়। এই ছবিটিতে শাসক হলুদ পার্টি এমন করে সীমানা নির্ধারণ করলো যাতে সব কটি আসনেই তাদের সমর্থক বেশি থাকে। তৃতীয় ছবিটিতে শাসক হচ্ছে সবুজ পার্টি – কিন্তু এদের কাছে খবর আছে এই পাঁচটি কেন্দ্রে তাদের সমর্থকরা সংখ্যায় কম। তাই তারা এমন প্যাঁচ কষে এই পাঁচটি কেন্দ্রের এমন সীমানা নির্ধারণ করল যে তাদের সমর্থকরা পাঁচটার মধ্যে তিনটেতেই সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়। শেষ দুটি ছবি দেখাচ্ছে কী ভাবে এই পাঁচটি আসন সমর্থকদের সমানুপাতে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া যায়।

আমেরিকার নির্বাচনের এই হচ্ছে মোদ্দা গল্প। এই উপরোক্ত কারণের জন্য দীর্ঘ দিন ধরে কোনও কেন্দ্রে রিপাবলিকানেরা জিতে আসছে তো অন্য কোনও কেন্দ্রে নির্বাচিত হচ্ছে ডেমোক্র্যাটরা। এই জন্য কংগ্রেসের প্রতি আস্থা না থাকলেও অধিকাংশ আসনে দিনের পর দিন একই পার্টির প্রতিনিধিরা নির্বাচিত হয়ে চলেছে। সাম্প্রতিক ওপিনিয়ন পোলে ৪৩৫টি কেন্দ্রের যে ছবি ধরা পড়ছে সেটা দিলেই আরও ভালো করে বোঝা যাবে।

ডেমোক্র্যাটদের রং নীল আর রিপালিকানদের লাল। রং যত গাঢ় তত জেতার সম্ভাবনা। এর মধ্যেই পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে ১৯১টি আসনে ডেমোক্র্যাটদের জয় কেউ রুখতে পারবে না। রিপাবলিকানদের জন্য এমন আসনের সংখ্যা ১৩১। মাঝখানে যে ধুসর রং দেখা যাচ্ছে ওইখানেই লুকিয়ে আছে আমেরিকার রাজনৈতিক চালচিত্রের প্রাণভোমরা – সাদা বাংলায় যাকে বলে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই বা সেয়ানে সেয়ানে টক্কর তা হবে ৪৩৫টির মধ্যে মাত্র ওই ২১ টি আসনেই।

(চলবে) 

মতামত লেখকের ব্যক্তিগত 

লেখক সিলিকন ভ্যালিতে কর্মরত 

The Wall-এর ফেসবুক পেজ লাইক করতে ক্লিক করুন 

Shares

Comments are closed.