তিলোত্তমার স্থাপত্যের ঐতিহ্যের উদযাপনে নতুন বই ‘কলকাতা হ্যাপেনিং সিটি’

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আসলে ওরা এই শহরটারই জেগে থাকা স্মৃতি। ওরা মানে এই শহরের পুরনো বাড়িগুলো।

কলকাতা বন্দরে একদিন আসত দেশবিদেশের বাণিজ্যতরী। লন্ডনের পরে কলকাতাই তখন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর।

এই শহর থেকেই আবার আফিমে ভর্তি হয়ে জাহাজ যেত চিনে।

পাকিস্তান থেকে বর্মা অবধি বিস্তৃত ব্রিটিশ রাজের রাজধানীও ছিল এই শহর। সেখানে বাস করতে এসেছিলেন ইহুদিরা, আর্মেনিয়ানরা।

বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজ আবার কামান দেগে মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছিলেন এই শহরে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুর্গ। এই শহরের নাম তখন ছিল আলিনগর।

এই শহরেই আবার একদিন বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে হেঁটেছিল বিরাট মিছিল।

তিনটে গ্রাম থেকে ধীরে ধীরে বড় হয়ে মহানগরে পরিণত হয়েছে এই তিলোত্তমা। ইতিহাসের পালাবাদলের স্বাক্ষর থেকে গিয়েছে এই শহরেরই স্থাপত্যে।

এই শহরের সেই স্থাপত্যের ঐতিহ্য নিয়ে নির্মাণ সংস্থা বেলানি গ্রুপ প্রকাশ করলেন একটি গ্রন্থের। নাম ‘কলকাতা হ্যাপেনিং সিটি’।

সম্প্রতি বইটার প্রকাশ হল একটি নামী হোটেলে। সঙ্গে অনুষ্ঠিত হল এই শহরের স্থাপত্যের ঐতিহ্য নিয়ে একটি আলোচনা সভারও।

আলোচনায় সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের মুখেও উঠে এল সেই ঐতিহ্যেরই কথা। একদিন বাইরে থেকে এই শহরে এসেছিলেন আজকের এই বিখ্যাত মানুষটি। কিন্তু সেদিনের না-চেনা শহরটার প্রতি তাঁর কৌতুহল যেন থেকে গিয়েছে আজও।

আরেক বক্তা ব্রাত্য বসুর মুখেও উঠে আসল এই এক কলকাতার মধ্যে লুকিয়ে থাকা বহু কলকাতার অনুষঙ্গ। একটা কলকাতা যদি হয় ব্রিটিশ আর রাজারাজড়াদের, আরেকটা কলকাতা তাহলে নিশ্চয়ই রাজনৈতিক মিছিলের। আবার এই কলকাতাই থিয়েটারের শহর,গল্পের শহর, কথকতার শহর।

প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অনুরাধা লোহিয়া আবার শোনালেন প্রাচীন এই প্রতিষ্ঠানের স্থাপত্যের ঐতিহ্য রক্ষা করার গল্প। জানা গেল, সংরক্ষণের সময় নাকি পাওয়া গিয়েছে একদা হিন্দু কলেজের নীচে ব্রিটিশদের বানানো বিরাট সুড়ঙ্গের কথা। আবার এই কলেজের রঙও বদলে গিয়েছে নানা যুগে। সংরক্ষণের সময় নাকি পাওয়া গিয়েছে দেওয়ালের গালে সাত-সাতটা রঙের পরত।

স্থাপত্যবিদ পার্থ রঞ্জন দাসের মুখে আবার সংরক্ষণের নানা দিকের কথা। যত প্রাচীন হেরিটেজ বিল্ডিং-ই হোক না কেন, দরকার শীতাতপনিয়ন্ত্রণ বা অগ্নিনিরোধক আধুনিক ব্যবস্থা। কিন্তু সেটা করতে গিয়ে যেন আবার বাড়িটির স্থাপত্য না ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সেটাও সুনিশ্চিত করতে হবে।

বেলানি গ্রুপের চেয়ারম্যান নন্দু বেলানি জানালেন, বিদেশের মতো এই দেশেও টুরিজমের স্বার্থে হেরিটেজ বাড়ির গায়ে দোকানপাট গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা।

বেলানি গ্রুপের প্রকাশিত বইটি ইতিহাস-স্থাপত্যের গবেষকদের পাশপাশি কলকাতাপ্রেমীদেরও বইয়ের তালিকায় অতি আবশ্যক সংযোজন এই নিয়ে সন্দেহ নেই।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More