রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৫

পাঁচটি কবিতা : হিয়া মুখোপাধ্যায়

  • 37
  •  
  •  
    37
    Shares

সাইমন! সাইমন!

যে ছেলেটি আংশিক ভাবে সাইমন অথচ পুরোপুরি সাইমন নয় সে হঠাৎ আজ ঘুম ভেঙে উঠে বসে প্রবল বিষ্ময়ে লক্ষ্য করলো তার চাবি হারিয়ে গ্যাছে সে অস্ফুটে বলতে চাইলো ভালোবাসার কথা সে অস্ফুটে বলতে চাইলো মিছিল আর রোদের উপসর্গের কথা কিন্তু যে ছেলেটি আংশিক ভাবে সাইমন অথচ পুরোপুরি সাইমন নয় তার গলা দিয়ে কোনো আওয়াজ নির্গত হল না তারপর কুয়াশার মত ভারী ও তৈলাক্ত কিছু যা কিছুটা বোধের অতীত আর কিছুটা মায়ের স্নানের মত পরিচিত তার খোলা জানলা দিয়ে ঘরে ঢুকে পড়লো সটান সেই আজগুবি রহস্যের উদরে বসে সে এই প্রথম লক্ষ্য করলো উন্মুক্তবক্ষা থলথলে মাই এর এক শ্যামবর্ণা নারী স্মিত হেসে যিনি তার দিকে এগিয়ে দিচ্ছেন গেলাসভর্তি সবুজ তরল আর বলছেন যা কদর্য তাই সুন্দর কারণ সৌন্দর্যের ধারণা আদতে একটি আর্থ সামাজিক নির্মাণ মাত্র ঠিক যেরকম ভাবে আংশিক ভাবে সাইমনের পুরোপুরি সাইমন হয়ে ওঠার প্রচেষ্টাও তখন আংশিক ভাবে সাইমন অথচ পুরোপুরি সাইমন নয় এমন যুবাটি বিরক্ত হলো যেহেতু ঘুম ভেঙে ওঠার পরেই  তার চাবিটি সে হারিয়ে ফেলেছে এবং সে কল্পনা করেছিল ঈশ্বর খুব প্রথাসিদ্ধ ভাবে ককেশীয় এক শুভ্রকেশ প্রৌঢ় যিনি অলীক আলোয় ভেসে দুধের পাত্র হাতে শুধুমাত্র পুরুষের কাছেই ধরা দেন তখন আকাশ চিৎকার করে উঠলো মাটি চিৎকার করে উঠলো আংশিক ভাবে সাইমন অথচ পুরোপুরি সাইমন নয় যুবকটি রক্তাভ আলোয় বর্তুল ভাবে খেপে উঠলো আর থলথলে মাই এর শ্যামবর্ণা সেই নারী অদ্ভুত ভাষায় হেসে উঠলেন কপাট খুলে দেখালেন তার গর্ভের নীলচে অন্ধকার দেখালেন রক্তের স্রোতের সাথে মিশে যাওয়া গাঢ় প্রত্যাখ্যান যা কিনা কোনো অবস্থাতেই আলো জ্বালতে সক্ষম হচ্ছে না ব্যর্থ ট্রাকের মত ঘুরপাক খাচ্ছে শুধু জরায়ুর আতুর গলিপথ বেয়ে আর দুই উরু ফাঁক করে তিনি দ্যাখালেন তার যোনির অভ্যন্তরে সেই অদ্ভুত জাদুবিন্দু যার চূড়ায় নিশ্চিন্তভঙ্গীতে জ্বলজ্বল করছে সোনালী বর্ণের একটি চাবি তখন আংশিক ভাবে সাইমন অথচ পুরোপুরি সাইমন নয় যুবাটি বিপুল ক্রোধে ফেটে পড়লো এবং আম্বিলিকাল কর্ড দিয়ে চাবুকের মত সজোড়ে আঘাত করলো নারীটির যোনিতে আর তন্মুহূর্তে পৃথুলা সেই শ্যামবর্ণের নারী উপহাসের মত মসৃণ ভাবে অদৃশ্য হয়ে গেলেন হাওয়ায় শুধু সামান্য ঘ্রাণের রেশ রেখে আংশিক ভাবে সাইমন অথচ পুরোপুরি সাইমন নয় এমন যুবক তখন লক্ষ্য করলো তার কন্ঠনালী এখন বেশ স্বাভাবিক বোধ হচ্ছে সে পুনরায় ভালোবাসার কথা উচ্চারণ করলো রোদ ও মিছিলের উপসর্গের কথা উচ্চারণ করলো এমনকী মায়ের কথাও উচ্চারণ করলো যথেষ্ট আস্বস্ত হলো এবং তখনই দিকে দিকে উদভ্রান্তের মত দুন্দুভি বেজে উঠলো দেবতারা প্রীত হলেন আংশিক ভাবে সাইমন তখন সার্থক ভঙ্গীতে পুরোপুরি সাইমন হয়ে উঠলো যদিও হারিয়ে যাওয়া চাবিটির কথা স্বাভাবিক নিয়মেই তার আর মনে থাকলো না

সিবিটি

‘Between the penis and the mathematical one… there exists nothing. Nothing! It is a vacuum.’
-Louis-Ferdinand  Celine
আমি বিশ্বাস করি থেরাপিস্টের সাথে একদিন আমার নিখুঁত সঙ্গম হবে টিপড ক্যান্ডেলের শ্লথ আলোয় সেই ক্লেদাক্ত কাউচ যে কিনা  সহস্র অসুখ আর সহস্রাধিক উপসর্গ ধরে রেখেছে তার মাথায় আমরা সেই অকুস্থলে জ্বলছি নিভছি গড়াগড়ি খাচ্ছি সিৎজোফ্রেনিয়ার বিকেলে চ্যাটচ্যাটে  বাদামী ফউক্স ফার আর মনোরগ বিশ্লেষণের অনুপম গ্রন্থতালিকা এরিনায় বসে তুমুল হাততালি দিচ্ছে এমন আমি বিশ্বাস করি রোরশ্যাক টেস্টের দুর্বোধ্য ইনক ব্লটে আমি এক এবং একমাত্র শিশ্ন দেখতে পাচ্ছি বিগ ব্যাং এর অনতিকাল পরেই যেসকল শাশ্বত অণু ও পরমাণু তৈরী হয়েছিল মহাবিশ্বে প্রথমবারের মত প্রাণশক্তি তৈরী করার জন্য নিটোল ও তরল সেই মুহূর্তে আমি শুধু ও শুধুমাত্র শিশ্ন দেখতে পাচ্ছি শিশ্নের ধারালো চোখ দেখতে পাচ্ছি শিশ্নের লোডিং স্টোনের ন্যায় জিভ দেখতে পাচ্ছি দেবদূতের মত থেরাপিস্ট মৃদু হাসছেন থেরাপিস্ট শ্বদন্ত বের করছেন ডিপ সাইকোলজিকাল ফিয়ার মাই ফুট আমার ফোবিয়ায় কোনো খেদ নেই এই সুতীক্ষ্ণ খোঁচা ও যথাসাধ্য ঝাঁকুনি আমার প্রিয়তম অসুখ ও ব্লাডি থেরাপিস্ট আমার কোনো ভূত নেই ভবিষ্যত নেই ঘুম নেই জাগরণ নেই শুধু আপনার অসুস্থ ও অসুখী লিঙ্গ আমি দেখতে পাচ্ছি চোখ বন্ধ বা খোলা অবস্থায় আর পুড়তে পুড়তে শেষ হয়ে যাচ্ছে প্রেসক্রিপশন পুড়তে পুড়তে শেষ হয়ে যাচ্ছে স্লিপিং পিলের  পাতা আমি কপাট হা হা খুলে দিচ্ছি ক্রিমসন বর্ণের সেই সিরাপী তরল পাইথনের নিশ্চিন্ততায় আপনার চেম্বার ভাসিয়ে দিচ্ছে  প্যানপটিকনের চূড়ায় বসে আপনি আমার স্বমেহন লক্ষ্য করছেন আপনি আমার কাউচ ভিজিয়ে ফ্যালা লক্ষ্য করছেন উদাসীন যৌনতা আপনাকে অস্থির করে তুলছে আপনি আমার নাভিতে জিভ দিয়ে লিখে রাখছেন গর্ভিনী সব অ্যানালিসিস আমি ছটফট করতে করতে মুঠোভর্তি ঘাস তুলে আনছি মুখে নিচ্ছি মায়ের হত্যার কথা মনে পড়ছে আহা মা আমায় ভালোবেসেছিল আন্তরিক ভাবে কিন্তু তীক্ষ্ণ লৌহ শলাকা দিয়ে আমি বার বার আঘাত করেছি মা কে ফ্যালিক চিহ্ন দিয়ে বারবার ক্ষতবিক্ষত করেছি মৃত্যুর আগের মুহূর্ত পর্যন্ত তারপর কোল্ড কাটের মত ভেসে এসেছি থেরাপিস্টের অতিলৌকিক চেম্বারে রিবকেজ উন্মুক্ত করে আমি শুধুমাত্র শিশ্নের জন্য বেঁচে থাকতে চাই শতাব্দীর পর শতাব্দী বিশ্বাস করুন আমি আপনাদের কাউকে হতাশ করবো না শুধু আপনারা পর পর সুশৃঙখল ভঙ্গীতে লাইনে দাঁড়ান আমি চাবুকের মত সপাট ভঙ্গীতে শুধু বারবার চিৎকার করে উঠবো ইরেক্ট ইরেক্ট আমার নীলাভ এই হিস্টিরিয়া আপনারা কেস স্টাডির বাদামী ফাইলে সযত্নে রেখে দিন আমার নিগূঢ়তম চরিত্র আপনারা স্থির করে দিন সুপারইগোর সাম্মানিক উপাসনালয়ে আমাকে নিঁখুত ভঙ্গীতে ছিঁড়ে ফেলুন আপনারা শুধু কথা দিন প্রিয় থেরাপিস্ট কোনো পরিস্থিতিতেই আপনি আমাকে ছাড়বেন না

সুপারস্টার

মা মা মাগো আমি অ্যান্ডির সাথে তুখোড় এক প্রেম করতে চাই কিন্তু অ্যান্ডি তো প্রেমে বিশ্বাস রাখে না শরীরেও না শুধু টেলিভিশন টাওয়ার আর দশ ডলারের বিলে বিশ্বাস রাখে অ্যান্ডি এ প্রজন্মের প্রথম ও শেষ এক অভ্রান্ত হাই প্রিস্ট অ্যান্ডি জানে কিভাবে তেত্রিশ কোটির এই দেশে যিশুর মুখায়বয়ব নিরুপম বদলে যায় মনরোর মত অ্যান্ডি বৈচিত্র অথবা প্রকৃতি কোনোকিছুই বিশ্বাস করে না শুধু সেলোফিনে বিশ্বাস রাখে শুধু অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলে বিশ্বাস রাখে আর বিশ্বাস রাখে ক্রমাগত লিপিবদ্ধকরণে যাতে কোনো প্লট অথবা সাবপ্লট নেই শুধু কার্যকারণহীন ঠাসবুনোটের এক অনবদ্য শব্দক্রম  মা মা মাগো অ্যান্ডি আমাকে নগ্ন করে প্রতিটা খাঁজকে ক্যামেরায় বন্দী করে রাখে আমি রিলের গভীরে গাঢ়ভাবে শায়িত হই ছুড়িকাঘাতের মত  ঈশ্বরী হয়ে উঠি অ্যান্ডির নিজস্ব ঈশ্বরী আমি অ্যান্ডির ব্যক্তিগত প্লেটয় হয়ে উঠতে চাই আমি চাই বালুঘড়ি অথবা নিতান্ত দেশলাই এর মত আমাকে ব্যবহার করা হোক জড় পদার্থের মত উলটে পালটে সাজিয়ে রাখা হোক মনোরম এক কাউচে আমি অ্যান্ডির ঔদাসীন্যর চোখে চোখ রেখে তেজষ্ক্রিয় হয়ে উঠতে চাই আমার বুলিমিয়াগ্রস্ত দুঃস্বপ্নে অ্যান্ডি তার আঠালো শুঁড় এগিয়ে দেয় ও ডিয়ার অ্যান্ডি রেবেলিয়ন আমার রক্তে ছিল কিন্তু সে তো বিগতজন্মে আমি প্রাথমিক ভাবে চেয়েছিলাম তোমার পরচুলা আর সানগ্লাস সটান উপড়ে নিয়ে লক্ষ্য করতে কোনো রক্তের যাতায়াত আছে নাকি স্রেফ বায়বীয় বোধ আর নিটোল পৌনঃপুনিকতা তোমায় বাঁচিয়ে রেখেছে অথবা বহু পূর্বেই তুমি মৃত নইলে ক্যানোই বা ত্রস্ত নেশার ঘোরে যে কিশোর বত্রিশ তলা থেকে ঝাঁপ দিলো সূর্যের দিকে উড়ে যাবে বলে তার সঠিক মৃত্যুমুহূর্তটিকে তুমি পোলারয়েডে বন্দী করতে চেয়েছিলে ভাবলেশহীন মাগো আমি অ্যান্ডির প্রেরণা বা প্রেয়সী কিচ্ছুটি হয়ে উঠতে পারিনি শুধু সিলভার ফ্যাক্টরির দেওয়ালে দেওয়ালে ঘনভাবে গেঁথে আছি বোধশক্তিহীন অযৌন ম্যানিকুইন হয়ে আমার খিদের কোনো পরিত্রাণ নেই মা তোমার ও তোমাদের গোটা সভ্যতার খিদে আমি শরীরে নিয়েছি শুধু ঘনঘন ফ্ল্যাশের ও টলটলে ফেমের খিদে আমার সঙ্গমমুহূর্তটিকে নিখুঁত ভঙ্গীতে টাইম স্কোয়ারের বুকে সম্প্রচার করা হোক আমার শীৎকার কুমারী যুবতীরা লেদারে লেদারে মেখে নিক আর অ্যান্ডি এক এবং একমাত্র অ্যান্ডি আমার অ্যাবসার্ড করিডোর কেননা সে প্রেম বা শরীর কোনোকিছুই বিশ্বাস করে না বাস্তব বা পরাবাস্তব কোনোকিছুর প্রতিই তার শ্রদ্ধা নেই অ্যান্ডি তাবৎ সুন্দরকে বিনির্মাণ করেছে তার কঠোর নিস্পৃহা দিয়ে তবু মা মাগো আমি বাতিল ল্যাম্পের মত পড়ে আছি সিলভার ফ্যাক্টরির রাঙতায় রাঙতায় এক আজগুবি সিল্কস্ক্রীন প্রিন্ট হয়ে কারণ অ্যান্ডি আমায় কথা দিয়েছে আমার যোনি থেকে নির্গত চ্যাটচ্যাটে স্রাব একদিন গোটা শহরের মুখ ঢেকে দেবে আমিও বন্দিত হব মোলখের উপাসনালয়ে অন্তত একবার অন্তত পনেরো মিনিটের জন্য হলেও

হেলটার স্কেল্টার

আমাকে ভুলোনা তবে অ্যাডালেসিয়া
সেইসব চার্চমুখর সঙ্গতে যেভাবে আমরা একে অন্যের গ্লাসে ঝলমল করে উঠেছিলাম অলৌকিক ক্যাসেল থেকে কার যেন হুইসেলধ্বনি মুহুর্মুহু এল্ম ও পপলার ভেদ করে আমাদের স্নায়ুসমূহ ভিজিয়ে তুলেছিল  জিপসি সভ্যতার সনাতন ক্যাম্পফায়ারে তুমুল উত্তেজিত হয়ে ছটফট করতে করতে আমরা গ্যালন গ্যালন মুনশাইন গিলে নিয়েছিলাম মোমবাতির মত নরম ও উষ্ণ গিরিখাত বেয়ে আন্দালুশিয়ান ফ্লুটের মত ছুটে যেতে যেতেই বুকঝিম জোৎস্নায় নিথর বয়স্কাউটের ক্যাম্প আর তন্মুহূর্তে অন্তরীক্ষ থেকে মুঠো মুঠো নক্ষত্র অতিচেতনার মত খসে পড়ছিলো জিভের সোহাগে আমরা পরষ্পরকে টেনে নিয়েছিলাম শিরায় শিরায় অলৌকিক বশীকরণের মত জ্বলে  উঠেছিলেন জ্যানিস জপলিন উপদ্রুত অরণ্যে অব্যর্থ শীতের সোনাটা হয়ে আমাদের মাথায় ঝরে পড়েছিল গুচ্ছ গুচ্ছ গ্লোরিওসা সুপার্বা  নিজেদের ঈশ্বর মনে হয়েছিল  বিমুগ্ধ রাতে অ্যাম্ফিটামাইনের গনগনে আঁচে নিজেদের আত্মা সেঁকে নিয়ে আমরা অনায়াসে গড়িয়ে গেছিলাম উপর্যুপরি হত্যার দিকে আর সেসকল পবিত্র বিশৃঙ্খলা কশেরুকা বরাবর দাবানলের মত ছড়িয়ে পড়েছিলো কার্পাল টানেলে দাউ দাউ জ্বলে উঠেছিলো ঐশ্বরিক রেজোনেটর দুর্দান্ত নৈরাজ্যে ভর করে আমরা রাত্রির স্তনে এঁকে দিয়েছিলাম যথাসাধ্য উল্কির দাগ  সেইসব গর্ভিণী যাপনের কথা ভুলোনা যখন পরিপূর্নভাবে ধ্বংস হতে হতে আমরা একুশটি গান স্যালুটের মত বেজে উঠেছিলাম বিশুদ্ধ বিস্ফোরণে ফেটে পড়তে পড়তে স্বর্গের সিঁড়িতে ছেড়ে গিয়েছিলাম অনায়াস বিষ্ঠার দাগ মাটি কেঁপে উঠেছিল অন্তরীক্ষ দুলে উঠেছিল বজ্রপাতের মত সুষুম্নাকান্ড বরাবর পরম ব্রহ্ম নেমে এসেছিলেন আর দুই উরু ফাঁক করে আমরাও তাকে প্রবেশ দিয়েছিলাম নিশ্চিতভাবে জেনে আমাদের রাবিওসা শিখা  যুগান্ত পার করে একদিন ইথারে ইথারে ঠিক জ্বলে উঠবে যদ্দিন না এই সোডাক্যাপময় সভ্যতা পুরোপুরি ভাবে পর্যুদস্ত হয় যদ্দিন না এই গম্বুজময়  সভ্যতা নতজানু হয়ে প্রাণভিক্ষা করে আর সকল প্রার্থনা অগ্রাহ্য করে সেইদিন মাতাহারির মত উজ্জ্বল ভঙ্গীতে আমরা ব্রহ্মাণ্ড পিষে দিয়ে চলে যাবো মনে রেখো অ্যাডালেসিয়া আজ এই  ম্রিয়মাণ বিকেলের ফ্যাকাশে আলোয় আমাদের স্থানুবৎ বসে থাকা আদতে নিপুণ এক ক্যামোফ্লাজ মাত্র যেকোনো মুহূর্তেই এল নিনোর মত বিক্ষেপে ফেনরিরের তমোঘ্ন সাইরেন বেজে উঠবে যেকোনো মুহূর্তেই ঘন হয়ে উঠবে অর্নিবচনীয় সেই অ্যাম্বুশ মানুষের বাচ্চাদের কাছে এইরূপ প্রতিশ্রুতি রাখা আছে কদাপি ভুলো না সেকথা অ্যাডালেসিয়া

ম্যাড উওম্যান অফ অ্যাটিক

“I love you, but, because inexplicably I love in you something more than you – the object petit a – I mutilate you.” 
― Jacques Lacan
প্রতিআক্রমণের এই শহরে বসে আমি লিখে যাচ্ছি রাক্ষসী জন্মের ধারাবিবরণী লিখে যাচ্ছি পেড়েক ও উল্টোনো দূরবীনের গোপন আঁতাত সুখী কপোতের মত তেলতেলে মধ্যবিত্ততার মাথায় দুই উরু ফাঁক করে রক্তের ক্যাকোফনি ঝরাতে চাইছি অবিরত জানি কালশীটের মত এই সন্ধ্যে আমাকে স্থির থাকতে দেবে না ক্যাফেইন গণিকার গাঢ় আবেদন আমায় স্থির থাকতে দেবে না প্রতিটি শিশুপাঠ্য গ্রন্থের পাতায় পাতায় মনোক্রম হোর্ডিং পড়ে গ্যাছে বিক্রয়যোগ্যতাহীন সেইসব নিভন্ত বাগানে ক্রুশকাঠের মত আদিম শোকে মায়েস্ত্রো দীর্ঘশ্বাস ফেলছেন শুধু বাতিল আক্ষেপে অনতিদূরেই কোনো হিলহিলে সবুজ দরজা সজোড়ে বন্ধ হচ্ছে আর অশ্লীল অশ্লীল সেই শব্দ মগজে ইলেকট্রিক কড়াতের মত চিৎকার করে উঠছে আমি অপেক্ষা করছি কারণ আমি বিশ্বাস করি সব দরজাই একদিন অলীক বিস্ফোরণে উড়ে যাবে আর নিয়ন  মখমলের তলায় ঢেকে রাখা কলকাতার সেইসব দগদগে ঘা সটান উন্মুক্ত হবে শুধুমাত্র সেই মুহূর্তের জন্যই অ্যাটিকের গাঢ় তমসায় আমি বসে আছি সামরিক পোশাকে অপেক্ষা করছি অনাগত ভোর  আর ক্লিশে বড় ক্লিশে সেইসব উপমার জন্য অলৌকিক  স্ক্রলসমূহে আমি ভবিষ্যত দেখতে পাচ্ছি দেখছি বোর্ডিং স্কুল পালানো অ্যালবাইনো কিশোর নিপুণ দক্ষতায় বিস্ফোরক প্ল্যামফ্লেটের মত হৃৎপিন্ডের কাছাকাছি আমার কবিতা বয়ে চলেছে দেখছি এইমাত্র যার যোনি ছিন্নভিন্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে সেই নার্সিং যুবতী আমার কবিতাকে ধারালো ব্লোয়ারের মত ব্যবহার করে ঊর্ধ্বে আরো ঊর্ধ্বে ধাবিত হয়ে পুরুষতান্ত্রিক শব্দকোষের গায়ে অ্যাসিডের ন্যায় থুতু ছিটিয়ে দিচ্ছে দেখছি আকাশে আকাশে হারপুণের মত তীক্ষ্ণভাবে বেজে উঠছে জিব্রাইলের অনিন্দ্য বাঁশী আর শুকনো রক্তের মত বেগুনী হয়ে আসা চরাচর যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে কারণ যুদ্ধ প্রয়োজনীয় ও অবশ্যম্ভাবী যুদ্ধ পবিত্র ও চাঁদের ফলার মত বীভৎস সুন্দর ক্যাবিনেট ভেঙে আমি শান্তিচুক্তির সব হলদেটে প্রস্তাবনায় মুতে দিয়ে চলে যাবো কলকাতা কারণ ফাউন্টেন পেনের বেয়নেট আমি অ্যাটিকের প্রাগৈতিহাসিক জানলা দিয়ে সরাসরি তোমার সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেমের দিকে তাক করে রেখেছি আর প্রতিটা অক্ষরে গানপাউডার গুঁজে আমি ছুঁড়ে দিচ্ছি অন্ধ শিশুদের প্রেয়ারে প্রেয়ারে তুমি আলবাত স্নিফার নামাবে সহজাত পাপবোধে কেঁপে উঠে চালাবে চিরুণী তল্লাশী কিন্তু শাশ্বত এই ডেলিরিয়াম বিনা গ্যাস মাস্কেই আমাকে বাঁচিয়ে রাখবে আরো সহস্রকাল আর টাইম ক্যাপসুলে পুরে প্রতিটা অক্ষরে আমি অজর অমর নিষেকের কোষ ছেড়ে যাচ্ছি দেওয়ালে দেওয়ালে আমি ছেড়ে যাচ্ছি মাসিকের স্রাব কিম্ভুত এই সংক্রমণ তোমাদের একদিন ঠিক গিলে নেবে আঃ কলকাতা প্রিয়তমা আমি মসৃণভাবে সরাসরি ডুবে যেতে ইচ্ছুক তোমার উদরের আঠালো জেলিতে আমি সরাসরি তোমার রন্ধ্রে রন্ধ্রে আঁশটে ঘ্রাণের মত মিশে যেতে ইচ্ছুক আর শহীদ মিনার থেকে হুইসেল বাজিয়ে আমি কবিতা ছড়িয়ে দেবো প্রপাগান্ডার মত আণবিক স্পর্ধায় অপেক্ষা করো কলকাতা আমি প্রস্তুত হচ্ছি অ্যাটিকের তমসায় সামরিক পোশাকে আর ফাউন্টেন পেনের বেয়নেট আমি সটান তাক করে রাখছি তোমার সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেম লক্ষ্য করে যেহেতু তোমাকে ঘেন্নার মত  ভালোবাসা ছাড়া আমি আর কিছুই শিখিনি
হিয়া মুখোপাধ্যায়ের জন্ম কলকাতায়। প্রকাশিত কবিতার বই- মোহময় পেস্ট্রির দিন।বর্তমানে পদার্থবিজ্ঞানে গবেষণারত।

Comments are closed.