গুচ্ছ কবিতা : পেয়ালা – প্রশান্ত গুহমজুমদার

0

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    ৩৪। নুনের সাদাগুলি জানি। নুনের সহজ। সবটুকু তুমিও জেনেছ। অলিন্দের পাঠ-ও কিছু। তবু লুকোচুরি! চাদর। বিমর্ষ চিহ্ন। তুমি সবটুকু। নিয়মের অতিরিক্ত। এমন খেলায় কি শুরু থাকে! অবসান থাকে। পায়ে পায়ে। বিষন্ন, আলোছায়া, প্রহরী। তুমি জানো। ঝিনুকের অবশিষ্ট আলো। আমি তো অন্ধ। তুমিও কি তবে! একদিন অনুভবে সন্ধ্যা, কিছুটা অলীক। কই নীল, সে আশ্রয়! উঠে আসে মুঠো মুঠো কলহের হিম, মৃত চোখ, বহুল লবণ। শূন্য হতে থাকে, শূন্যই, করতল। এবং শুদ্ধতা ক্রমে, সাদা। হয়, চরাচরজুড়ে, বধির। প্রস্তুত একা বক। মাদুরটা স্বভাবেই কেউ গুটিয়ে নিচ্ছেন। বাতাস, মানুষ, সাংসারিক ঈশ্বর গোল হয়ে গোল হয়ে ঈষৎ, নাভিসম, দগ্ধ।

    ৩৫। চামচ সরিয়া যায়। রোদ্দুর। ওই চক্ষু, গলিত, ঈষৎ, যায়। বহু বছরের এই আয়োজন। বহু বর্ণ, পাতা মাখামাখি। আসিয়া বসিল এতদিনে! হায়, এতদিনে!

    ৩৬। অবসরের নিভৃতে সব অপেক্ষমান। পিঁপড়ে সকলকিছু বহন করিতেছে। সঙ্গীত, শুটি, মটরের। শীত। এ সকলও বার্তা? এই যে কেহ যাইতেছে এবং পুনরায় বাজারে আসিতেছে না, রৌদ্র, সেই স্নানঘর, ভাঙিতেছে! এই মাত্র অঙ্ক। এই ইঙ্গিত। এই-ই কেবল।

    ৩৭। বাতাবিলেবু। একা। অধিক স্পর্ধা নাই। পূবে কি অরুণোদয়? তবে উত্তরেও শীর্ণ পথ? লাল। অভ্যন্তরীণ। ওই বাতাবিলেবুর। পথেরও মাধুরী আছে। মাধুকরী। পরিণয়। খুব নিকট হইতে দেখিয়াছি, বহুতর রক্ত এবং মৃত্যুসংগীত। আহ্বান কি কেবল মধ্যরাত্রে?  তবে ঐ যে অস্পষ্টতালীন বাতাবিলেবুতে মেদুর! বৃষ্টিজল! পাতায় প্রগাঢ় অষ্পষ্টতা! মাধুরী দেখি পুনরায়। স্নান করি। পুরাতনী জলে। স্নান করি।

    ৩৮। এই ভাঁজ এবং ভাণসমূহ লক্ষ্য করা উচিৎ। অর্থাৎ অদ্যাবধি মনষ্ক নহে তুমি। বলিতেছি এই টেবিল এবং কাঁটাচামচ বিজড়িত ফুল বিষয়ে। উপপাদ্য বিষয়ে। সুতোসমস্ত যে আলপনায়, সেই বর্ণে তাহাদের উদ্বেগও অমূলক। যেহেতু জানালাটা খোলা। অযৌক্তিক, তবু কবে শেষ চিঠি? পথ যে কালে রূপকথায় মনোরম? আরো কিছু ছিল, সরল। যথা, আঙুল, সঙ্গভয়, আলো, অকিঞ্চিৎ সারমেয়। অতঃপর কত মৃত্যু চিত্র করিব!

    জন্ম ১৩৫৯ সনের আশ্বিন মাসের সংক্রান্তির রাত্রে। রানীবাগান, বহরমপুর, মুর্শিদাবাদ।  ছোটবেলা থেকেই নানাবিধ বই পড়ার অভ্যাস তৈরি হয়েছে মায়ের হাত ধরে। ১৯৭৪ থেকে সরকারি চাকরিসূত্রে পশ্চিমবঙ্গের ৯ টি জেলায় ঘুরে বেড়ানো প্রশান্ত গুহমজুমদারের শখ গাছ, ফটোগ্রাফি, পাখি দেখা এবং মানুষ। লেখালিখির শুরু সত্তর দশকে। প্রকাশিত প্রথম বই ‘জলে রাখো, শুদ্ধতায়’(অভিষেক, ১৯৮২)। এখনও পর্যন্ত প্রকাশিত হয়েছে আটটি কবিতাগ্রন্থ। অন্যান্য বই, ‘যাত্রাপুস্তক’ (কবিতা পাক্ষিক, ১৯৯৮), ‘প্রশান্ত পুণ্যশ্লোকের কবিতা’ (অপাবৃতা, ২০০০), ‘রম্যরচনা’ (কবিতা ক্যাম্পাস), ‘স্ববিষয়ে দু চার বাক্য’ (দীপ প্রকাশনী), ‘কাহাদের কথা’ ( কৌরব ২০০৮), যেখানে, প্রকাশকের কথায়, “প্রশান্ত গুহমজুমদার সেই ব্যতিক্রমী কবি যিনি প্রবীণ ভাষার ধ্রুপদী আচরণ অন্যথা করে তাকে ব্যবহার করেছেন নতুন কবিতা রচনায়।” অতঃপর ‘এইখানে যত শব্দ’ ( এখন বাংলা কবিতার কাগজ ২০১৬)। এবং সাম্প্রতিকতম প্রকাশ ‘ইতিবৃত্তের বেলুন’ (কৌরব,২০১৭)।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Leave A Reply

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More