বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ২১
TheWall
TheWall

গল্প: উইমেন আর ফ্রম ভেনাস

সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায়  

‘আমার স্ত্রী মানুষ নয়।’

বাইরে থেকে দেখলে লোকটাকে স্বাভাবিক বলেই মনে হয়। সিঁথি কেটে, পাট করে আঁচড়ানো চুল, পরিপাটি পোশাক-আশাক। চোখের চাহনিতেও কোনো অসুস্থতার চিহ্ন নেই।  ভালো করে নজর করছি দেখে আবার বলল, ‘বিশ্বাস করুন, আমার স্ত্রী গ্রহান্তরের জীব।’

আমি হেসে বললাম, ‘এ আর নতুন কথা কী? মেন আর ফ্রম মার্স, উইমেন আর ফ্রম ভেনাস।’

লোকটা কিঞ্চিৎ রেগে গেল। বলল, ‘হাসির কথা হচ্ছে না। সে সত্যিই অন্য গ্রহের জীব। মানুষ সেজে আমার সঙ্গে ঘর করছে।’

‘আপনি কি একা এসেছেন না সঙ্গে কেউ আছে?’

‘না, না, সেই নিয়ে এসেছে জোর করে। বাইরে বসে আছে, ডাকব?’

‘একটু পরে। আগে আপনার সঙ্গে কথা বলে নিই। কতদিন বিয়ে হয়েছে বললেন আপনাদের?’

‘তা সে অনেক দিন হল। শেষ যেবার হ্যালীর ধূমকেতু দেখা গিয়েছিল। বছর তিরিশ আগে।’

‘কবে থেকে বুঝছেন সে মানুষ নয়?’

‘মাস ছয়েক… বড় ছেলের বাচ্চা হল… তখন আমেরিকায় গিয়ে ছেলে-বৌয়ের সাথে ছিল মাস তিনেক। ফেরার পর বুঝলাম মানুষটা বদলে গেছে।’

সাইকিয়াট্রিতে রোগটার একটা নির্দিষ্ট নাম আছে – ক্যাপগ্রাস ডিল্যুশান। এই রোগের পেসেন্টদের মনে হয় কোনো ভণ্ড তাদের কাছের লোক সেজে বসে আছে, তাদের উঠতে বসতে ঠকাচ্ছে। আসল মানুষটাকে বেমালুম হাপিশ করে দিয়েছে। জিজ্ঞেস করলাম, ‘কী দেখে বুঝলেন বদলে গেছে?’

লোকটা কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর বলল, ‘মহিলার চোখের মণির রঙ বদলায়।’

‘কী রকম?’

‘এই ধরুন, বিরক্ত হলে সবুজ, রেগে গেলে কটকটে লাল। আজকাল বেশির ভাগ সময় রেগেই থাকে।’

‘অন্য রঙ দেখেননি?’

‘হ্যাঁ, নীল হতেও দেখেছি, তবে সে খুব কম।’

ভদ্রলোকের চোখের পাতা পড়ল কয়েকবার। স্বাভাবিকের থেকে বেশি দ্রুত। মনে হল সামান্য অস্বস্তিতে পড়েছেন। ঠিক কোন সময় চোখের মণি নীল হয় জিজ্ঞাসা করে তাঁকে অপ্রস্তুত করার ইচ্ছা হল না। প্রসঙ্গান্তরে গেলাম, ‘আর কোনো পরিবর্তন লক্ষ করেছেন কী?’

একটু ইতস্তত করে বললেন, ‘বোঝানো মুশকিল। কাছে গেলে একটা হালকা ফুলের গন্ধ পাই আজকাল। আগে কোনদিন পাইনি।’

‘ছেলের কাছে আমেরিকায় গিয়েছিল বলছিলেন। হয়তো কোনো বিদেশি পারফিউমের গন্ধ। ছেলে কিনে দিয়েছে মাকে। আজকাল ফ্লোরাল পারফিউম খুব পপুলার। কোন ফুলের গন্ধ চিনতে পারেন?’

ভদ্রলোক অন্যমনস্ক ভাবে চোখ তুলে তাকালেন, ‘অষ্টমীর দিন সকালে বাজার করতে গঞ্জে গিয়েছিলাম। ফুলের দোকানের পাশ দিয়ে যেতে যেতে গন্ধটা পেলাম। একটা ভিজে ভিজে মিষ্টি গন্ধ। দেখলাম স্তূপ করে নাল শুদ্ধু পদ্ম বিক্রি হচ্ছে। গন্ধটা সেখান থেকেই আসছে।’

বলতে যাচ্ছিলাম, আপনি তো ভাগ্য করে এসেছেন, মশায়! পদ্মগন্ধা রমণীর সাহচর্য পাচ্ছেন, তারপরও আপত্তি? প্রোফেশনাল এটিকেটে আটকাল। তাছাড়া, বয়স্ক মানুষ। সদ্য পরিচয়। ছোকরা ডাক্তারের রসিকতা বুঝবেন, গ্যারান্টি কী? বললাম, ‘এসব নিয়ে আপনার স্ত্রীর  সঙ্গে আলোচনা করেননি? তিনি কী বলেন?’

‘আরে, জিজ্ঞাসা করেই তো বিপত্তি! আমার নাকি মাথা খারাপ হয়েছে। মা মেয়ে জোর করে আপনার এখানে টেনে আনল।’

‘আপনার ছেলে মেয়ে ক’টি?’

‘ওই দুজনই। ছেলে বড়, দু-বছর হল বিয়ে দিয়েছি। বৌ-বাচ্চা নিয়ে আমেরিকায় সেটেল্ড। মেয়ে  যাদবপুরে পড়ে – ইংরিজি অনার্স।’

‘সব বুঝলাম, তাহলে আপনি এখন কী করবেন মনস্থির করেছেন?’

‘ওই মহিলার সঙ্গে থাকা সম্ভব নয়। আমি আলাদা থাকতে চাই। ভাবছি ডিভোর্সের মামলা করব।’

‘আমার মনে হয় আদালতে আপনার কথা টিকবে না। আপনার স্ত্রী বলবেন তিনি রঙিন কন্ট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার করছেন আজকাল। আর ফুলের গন্ধটা পারফিউমের।’

‘তাহলে কী করি?’  ভদ্রলোকে অসহায় লাগল।

‘আপনাকে প্রমাণ করতে হবে উনি গ্রহান্তরের জীব। নাহলে চুপচাপ মেনে নিয়ে বাকি জীবনটা ওনার সঙ্গেই কাটিয়ে দিতে হবে।’

ক্যাপগ্রাস ডিল্যুশন অনেক সময় সাময়িক হয়। কিছুদিন পর নিজে থেকেই সেরে যায়। এমনিতে মানুষটিকে সুস্থ স্বাভাবিকই মনে হচ্ছে। কিছুদিন মেয়ে বৌয়ের সেবা যত্ন পেলে হয়তো ভুলটা ভেঙ্গে যাবে। বললাম, ‘আপনার স্ত্রী আর মেয়ের সঙ্গে একবার কথা বলে দেখি।’

ইন্টারকমে সহদেবকে বললাম, পেশেন্টের সঙ্গে যাঁরা এসেছেন তাঁদের নিয়ে এস। দুই নারী চেম্বারের দরজা ঠেলে ভিতরে এলেন। চোখ ধাঁধানো রূপ। দুজনেরই। জানি বলে বুঝলাম, মা মেয়ে। নাহলে দুই বোন বলে ভুল হত। দুজনকে বসতে বললাম। ভদ্রলোককে অনুরোধ করলাম চেম্বারের বাইরে অপেক্ষা করতে। আমি ওনার স্ত্রী ও মেয়ের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলতে চাই। ভদ্রলোক নিতান্ত অনিচ্ছাভরে উঠলেন।

সহদেব পিছনে এসে দাঁড়িয়েছিল। বলল, ‘আর কোনও পেশেন্ট নেই স্যার। আমি কি যাব?’

আজ শনিবার। কাল ছুটি। সহদেব ঘরে যাবার জন্য উসখুস করছে। বললাম, ‘ঠিক আছে, যাও। এনাকে ওয়েটিং এরিয়ায় বসিয়ে যাও। আপনি চা বা কফি কিছু নেবেন?’

ভদ্রলোক মাথা নেড়ে না বলে বেরিয়ে গেলেন। আমার চোখের ইশারায় সহদেব চেম্বারের দরজাটা টেনে দিয়ে গেল। খুব সুন্দর মানুষ-জনের কাছাকাছি এলে একটা দমবন্ধ ভাব হয়। চিন্তা ভাবনা এলোমেলো হয়ে যায়। আমি একটু গুছিয়ে নিলাম। এক্ষেত্রে আক্রমণই আত্মরক্ষার শ্রেষ্ঠ উপায়। মা মেয়ের দিকে ফিরলাম, বললাম, ‘কী মতলব বলুন তো আপনাদের? বয়স্ক মানুষটাকে অযথা ব্যস্ত করছেন কেন?’

ভদ্রমহিলা হকচকিয়ে গেলেন। মেয়েটি আমার দিকে প্রখর চোখে তাকাল, ‘কী বলতে চান আপনি?’

আমি মেয়েটির দিকে এক নজর তাকিয়ে আবার ভদ্রমহিলার দিকে ফিরলাম,  ‘ওনাকে পাগল প্রতিপন্ন করে কী লাভ? কোনও সম্পত্তি টম্পত্তির ব্যাপার নেই তো এর মধ্যে?’

মুহূর্তের জন্য ভদ্রমহিলার চোখের মণি পান্নার মত সবুজ হয়ে জ্বলে উঠেই নিভে গেল, স্থির চোখে তাকিয়ে বললেন, ‘আমি আপনার কথা কিছুই বুঝতে পারছি না।’

আমি চমকালেও লাইনচ্যুত হলাম না, ‘আসল ব্যাপারটা কী একটু ঝেড়ে কাশুন তো।’

মেয়েটি কঠিন গলায় বলল, ‘আপনি মায়ের সঙ্গে এভাবে কথা বলতে পারেন না। আপনার কাছে আমরা সাহায্যের জন্যে এসেছিলাম। অনেক হয়েছে। মা, ওঠো।’

ভদ্রমহিলা মেয়েকে থামালেন। বললেন, ‘আমার স্বামী কী বলেছেন আপনাকে?’

‘ওনার হঠাৎ ধারণা হয়েছে, আপনি নাকি গ্রহান্তরের জীব। আপনার সঙ্গে থাকা ওনার আর পোষাচ্ছে না।’

ভদ্রমহিলার চোখের পাতা আর্দ্র হয়ে এল। চোখের মণির রঙ বদলাল আবার। বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের কুয়াশার মত ঘোলাটে সাদা। বললেন, ‘আপনার কাছে নিয়ে এসেছিলাম এই ভেবে যে আপনি ওঁকে বোঝাতে পারবেন উনি মানসিক ভাবে অসুস্থ। তাহলে আর কোনও ঝামেলা থাকত না।’

‘তার মানে?’

‘মানে, উনি একবর্ণ মিথ্যে বলেন নি। আমি সত্যিই পৃথিবীর মানুষ নই।  চার দেওয়ালের মধ্যে আপনি ব্যাপারটা জানলে ক্ষতি নেই। কারণ আপনি বাইরে চাউর করলেও আপনার কথা কেউ বিশ্বাস করবে না। ভাববে, মনের ডাক্তার নিজেই মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছে।’

এ তো আচ্ছা মুশকিল হল। ভদ্রমহিলাও প্রলাপ বকতে শুরু করেছেন। অথচ কথাবার্তা বেশ বুদ্ধিদীপ্ত। মানসিক রোগের রোগীদের কথাবার্তায় সাধারণত সাযুজ্য থাকে না। ইনি বেশ যুক্তি সাজিয়ে কথা বলছেন। তাছাড়া, চোখের মণির রঙ পরিবর্তনের ব্যাপারটা যে সত্যি, আমি নিজের চোখে দেখেছি। মেডিক্যাল সায়ান্সে এর কোনও ব্যাখ্যা আছে কিনা আমি জানি না। সামান্য ইতস্তত করে বললাম, ‘দেখুন, আমি মানসিক রোগের চিকিৎসক। এই চিকিৎসা বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতি মেনে চলে।’

‘আমাকে দোষারোপ করাও কি এই পদ্ধতির মধ্যে পড়ে?’

‘কখনো কখনো রোগের মূলে পৌঁছনোর জন্য রোগীকে আঘাত করা অনিবার্য হয়ে পড়ে।’

‘কিন্তু আমি তো রোগী নই। তাছাড়া, আপনাদের বিজ্ঞান তো চেতনার সীমান্তে এসে থমকে দাঁড়িয়ে পড়ে। ওই বিজ্ঞান দিয়ে আমায় বুঝতে পারবেন না। আজ থেকে তিরিশ বছর আগে আপনাদের পৃথিবীতে এসেছিলাম একটি সায়েন্টিফিক রিসার্চ টিমের মেম্বার হয়ে। আমাদের কাজ ছিল আপনাদের… মানে পৃথিবীর মানুষদের জীবন প্রণালী ভালো করে স্টাডি করা। আমাদের জিন কোডে একটা টেম্পোরাল চেঞ্জ করা হয়েছিল। আমরা সাময়িকভাবে সম্পূর্ণ মানুষ হয়ে গিয়েছিলাম। তবে জানতাম ওই বদলটা ঠিক তিরিশ বছর স্থায়ী হবে। ওইটাই ছিল আমাদের মিশন টাইম। তারপর আমরা আবার না-মানুষ হয়ে যাব, আমাদের ফিরে যেতে হবে… অথচ ফিরে যেতে পারছি কই?’

শেষ বাক্যটা মনে হল অন্যমনস্ক স্বগতোক্তি। ভদ্রমহিলা দম নেবার জন্য থামলেন। ঠিক তখনি যে ঘটনাটা ঘটল তার জন্য আমরা তিনজনের কেউই প্রস্তুত ছিলাম না। হুড়মুড় করে চেম্বারের দরজা ঠেলে ভদ্রলোক ঢুকে পড়লেন। আঙ্গুল তুলে বললেন, ‘অ্যায়, দেখেছেন তো! আগেই বলেছিলাম। তখন মানছিলেন না। এখন বিশ্বাস হল তো ও মানুষ নয়।’

ভদ্রমহিলা বললেন, ‘ছিঃ, ছিঃ! তুমি আড়ি পেতে সব শুনছিলে?’

ভদ্রলোক বললেন, ‘শুধু শুনিনি,  দেখছিলামও। আমি দেওয়ালের মধ্যে দিয়ে দেখতে পাই। তিন মাইল দূর থেকে কথার আওয়াজ শুনতে পাই।’

‘সে কী?’

‘এতদিনেও বোঝোনি? এই বুদ্ধি নিয়ে তুমি মানুষের জীবন প্রণালী স্টাডি করবে? মূর্খ স্ত্রী-জীব! আমিও এই পৃথিবীর মানুষ নই।’

‘হা ঈশ্বর! আমার তিরিশ বছরের রিসার্চ জলে গেল।’

‘বেশ হয়েছে। তুমি আমার তিরিশ বছর নষ্ট করনি?’

‘নষ্ট করেছি?  কী পাওনি তুমি? কী দিইনি তোমায়?’

‘ভালবাসা… ভালবাসা পাব বলেই পৃথিবীর মেয়েকে বিয়ে করেছিলাম। মানে…  পৃথিবীর মেয়ে ভেবে তোমায় বিয়ে করেছিলাম। বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডে আর কোনও গ্রহের জীব ভালবাসতে জানে না যে।’

ভদ্রমহিলা চুপ করে বসে রইলেন। তাঁর চোখের মণির ঘোলা রঙ হালকা হয়ে নীলের ছোঁয়া লাগল, যেন কেউ জলরঙে ছবি আঁকছে, ভিজে রঙের ওপর তুলির ডগায় অন্য এক রঙ চাপিয়েছে।  নিজের সঙ্গে কথা বলছেন, এমন ভাবে বললেন, ‘জানি,  মানুষের মেয়েরা ছাড়া আর কেউ ভালবাসতে জানে না। কিন্তু সমস্যাটা কী বলত, তিরিশ বছর পার করেও আমি তোমায় ছেড়ে যেতে পারছি না। যখনি ভাবি ফিরে যাব, বুকের মধ্যে টনটন করে ওঠে। যাক, আমার কাজটা তুমি সহজ করে দিলে। তুমি আমার সঙ্গে থাকতে চাও না যখন আমি চলেই যাব। আর একটু সময় দাও। মেয়েটা পাশ করুক। আমি… ।’ ভদ্রমহিলার গলা ভারি হয়ে এল।

ভদ্রলোক বললেন, ‘আহা! কাঁদ কেন?  আমি সেভাবে বলিনি।’

‘কীভাবে বলেছ?’

আমি আর ওঁদের মেয়ে খুব আগ্রহ নিয়ে এই মান অভিমান পর্বটি পর্য্যবেক্ষণ করছিলাম। মেয়েটি উঠে দাঁড়াল, ‘অনেক হয়েছে। এবার তোমাদের ঝগড়া ঝাঁটি থামাও। ঘরে চল।’

‘দেখ্‌ না, তোর বাবা…।’

ভদ্রলোক বিব্রত মুখে দাঁড়িয়ে ছিলেন। মেয়েটি মায়ের কাঁধ জড়িয়ে চেয়ার থেকে উঠতে সাহায্য করল। তারপর তিনজনে আমায় সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে চেম্বারের দরজা খুলে বেরিয়ে গেলেন। আমি হাঁদার মত চেয়ে রইলাম।

 

 

পরের দিন দুপুরের দিকে ফোনটা এল, ‘চিনতে পারছেন? গতকাল সন্ধেবেলা বাবা মাকে সঙ্গে করে আপনার চেম্বারে এসেছিলাম।’

আমি উৎসুক হয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, ‘কেমন আছেন ওনারা?’

‘ভালোই। আপনাকে ধন্যবাদ। দুজনে বেশ ভাব হয়ে গেছে। তাড়াহুড়োয় আপনার ফিজটা দেওয়া হয়নি। আজ কি আপনার চেম্বার খোলা আছে?’

‘না, আজ তো রবিবার।’

‘বাবা খুব ব্যস্ত করছে,  ফিজটা মিটিয়ে দেবার জন্য। বাইরে কোথাও দেখা করা যায়?’

এ যে মেঘ না চাইতেই আঝোর বর্ষা, ‘কোথায়?’

‘বিকেলের দিকে একবার ফ্লুরিজে যাব। ওখানে আসতে পারবেন কি?’

সে এল। পাশে চেয়ার টেনে বসে আমার দিকে তাকাল। চোখে ঘন মেঘের কালো। কথা বলতে বলতে রঙ বদলে অতলান্ত নীল। ভয় হল ডুবে যাব। ঠিক তখনই গন্ধটা পেলাম। কেক পেস্ট্রির গন্ধ ছাপিয়ে একটা ভিজে ভিজে মিষ্টি গন্ধ। সব চেনা গন্ধর থেকে আলাদা, অথচ খুব চেনা।  মেয়ে মায়ের ওপর গেছে।

শিবপুর থেকে ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, বম্বে আইআইটি থেকে এম টেক এবং পরে হোমি ভাবা থেকে পিএইচডি। তিরিশ বছর ধরে মুম্বাইয়ের বাসিন্দা। লিটল ম্যাগাজিনে কবিতা লেখা দিয়ে শুরু নব্বইয়ের দশকে। বর্তমানে বম্বেডাক ওয়েব পত্রিকার সঙ্গে সক্রিয় ভাবে যুক্ত। কাগুজে এবং ওয়েব পত্রিকায় লেখালেখি অব্যাহত, ২০১৭ সালে দেশ পত্রিকায় দুটি গল্প প্রকাশিত হয়েছে।

Leave A Reply