সোমবার, আগস্ট ২০

সিস্টেমের বিরুদ্ধে স্পষ্ট জেহাদের সময় এখন এসে গেছে

কলকাতার থিয়েটার মহলের অনেকের কাছেই এতদিন প্রান্তিক চৌধুরী পরিচিত ছিলেন অভিনেতা-নাট্যকর্মী হিসেবে। এইবার তাঁর প্রথম নির্দেশনা ‘একটি গাছ একটি প্রাণ’ মিনার্ভা থিয়েটারে মঞ্চস্থ হতে চলেছে আগামী ১৫ অগস্ট। নাটকের রেকর্ডিং-এর ফাঁকে তাঁর সঙ্গে কথা বলে এলেন পম্পা দেব।

২০০১ থেকে নাটকের সঙ্গে সম্পর্ক।  এই এতদিনের জার্নির মধ্যেই কোথাও নিশ্চয় প্রান্তিক চৌধুরীর নাট্য নির্দেশক হয়ে ওঠার ভাবনাটা ছিল। 

পম্পা দেব

প্রথম প্রশ্নটাই কিন্তু ভীষণ মজার হল পম্পা। ২০০১ এর প্রান্তিক চৌধুরী আর এই এখনকার প্রান্তিক চৌধুরী!

২০০১ সাল। তখন আমার বয়স ২১ বছর। শিলাজিৎদার (শিলাজিৎ মজুমদার) হাত ধরে গণকৃষ্টির রিহার্সাল রুমে প্রথম দেখা আমার থিয়েটারের গুরু ব্রাত্য বসুর সঙ্গে।
তারপর থেকেই ওঁর সঙ্গে। ‘শহর ইয়ার’-এ প্রথম অভিনয়। তারপর ‘১৭ই জুলাই’। আরও অন্তত কুড়িটা নাটকে অভিনয়। সব ব্রাত্য বসুর সঙ্গে।
আমার প্রথম সহনির্দেশকের কাজও ওঁর সঙ্গেই – ‘সিনেমার মতো’য়। প্ৰথম পোশাক পরিকল্পনার কাজ ‘গ্যাং’-এ।
তবে থিয়েটারের অনেক রকম কাজ করলেও এই ১৭ বছরে কখনও ইচ্ছাই করেনি নির্দেশনার কাজ করতে। আসলে সাহসেই কুলায়নি।
স্যারের (ব্রাত্য বসু) কাজ দেখে বড়ো হওয়ার জন্যই এটা খুব ভালো বুঝেছিলাম যে থিয়েটার নির্দেশনার কাজে যে মেধা লাগে তা আমার নেই।

‘একটি গাছ একটি প্রাণ’-এর পরিকল্পনা কী ভাবে হল?

একদম হঠাৎ। আসলে একদিন আড্ডা দিতে দিতে ‘একটি গাছ একটি প্রাণ’ নাট্যের নাট্যরূপ শুনি সুদীপদার (সুদীপ সিনহা) কাছে। আমার খুব ভালো লেগে ছিল। সেসময় দমদম চারুরঙ্গ দলের কর্ণধার মুক্তিনাথ চট্টোপাধ্যায়ও ওখানেই ছিলেন। ওঁরও খুবই পছন্দ হল। উনি বলেই ফেললেন, ওঁর দলের হয়ে এটি করতে চান।

এইসব তালেগোলেই ঠিক হয়ে গেল দমদম চারুরঙ্গ এই নাট্যের প্রযোজনা করবে এবং আমার দায়িত্বে নির্দেশনা। তাই এইটুকু বলতে পারি আমার প্রথম নির্দেশনার কাজ কিন্তু খুব প্ল্যান করে হাতে তুলিনি। কিছুটা আকস্মিক ভাবেই শুরু হয়ে গেল।

তাহলে হঠাতই নির্দেশক হয়ে গেলে?

দেখ, একবার কোনও কাজের দায়িত্ব তুলে নেওয়ার পরে আর কোনও ভাবেই সেখান থেকে পালানোর লোক কিন্তু আমি নই। যে প্রশ্নটা দিয়ে শুরু হয়েছিল,  এই ১৭ বছর আগের আমি আর আজকের আমির মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য খুঁজে পাইনি কখন।

সত্যি বলছি নির্দেশক হওয়ার খুব বেশি ইচ্ছা আমার কোনও দিনও ছিল না। তবে আমি এই ১৭ বছরে স্যারের থেকে যা শিখেছি সেই অভিজ্ঞতার উপর ভর করেই তৈরি করছি ‘একটি গাছ একটি প্রাণ’।

এটা এত পছন্দ হওয়ার কারণ?

প্রথম কারণ বোধহয়  – অসম্ভব ট্রাজেডিকে খুব বুদ্ধিদীপ্ত কমেডির মোড়কে ঢাকা। দ্বিতীয়ত অত্যন্ত সময় উপযোগী। মূল গল্পটা অবশ্য ‘কৃষণ চন্দর’-এর। তাছাড়া আমার মনে হয় সিস্টেমের বিরুদ্ধে খুব স্পষ্ট জেহাদের সময় এখন এসে গেছে। এইসব কারণেই এই নাট্যটির নির্মান। আর আমার মনে হয়েছিল কথাগুলো বলার সবথেকে ভালো দিন বোধহয় আমাদের স্বাধীনতার দিন। তাই আমাদের প্রথম অভিনয় ১৫ অগস্ট মিনার্ভা থিয়েটারে সন্ধ্যে ৭টা।

মিউজিক নিয়ে যে ডিজাইন করেছ, সেটা নিয়ে কিছু বলো।

তুমি এত খবর পাচ্ছ কিভাবে বলতো পম্পা!

তবে শুধু মিউজিক নয় আমার এই নাট্যের অনেক বিষয়ই বেশ নতুন। কারণ এই টিমটার প্রায় সবাই একদম নবীন। মঞ্চভাবনা ভাস্কর ও সৌম্যজিত। আলো দীপঙ্কর। আবহ দেবরাজ। রূপসজ্জা তন্ময় ও সুরজিৎ। পোশাক রাই। আর পুরো বিষয়টা একসূত্রে গাঁথছে পল্লবী। ফলে যেটা হয়েছে যে নতুন মানুষেরা তাদের একদম নতুন নতুন ভাবনা দিয়ে এই নাট্যটি সহযোগিতা করেছেন। তবে আজ যে তুমি এই স্টুডিওতে এসেছ এখানে আজ আমাদের গান রেকর্ডিং হচ্ছে। এই গানটি গাইছেন আমার খুব কাছের বন্ধু অনন্যা ভট্টাচার্য, আমার সবচেয়ে কাছের মানুষ আমার স্ত্রী রুম্পি পালচৌধুরী এবং এই নাট্যের সংগীত যিনি করেছেন সেই দেবরাজ। তিন জনই খুব ভালো গাইছে। আমি নিশ্চিত গানটা অবশ্যই লোকের মুখে মুখে ফিরবে। দেখে নিও।

এই যে এত নতুন ছেলে মেয়েদের নিয়ে কাজ করছ, কেমন অভিজ্ঞতা?

খুব ভালো। নতুনরাই তো পারে আগামীকে ভালোবাসতে। আমার এই টিম এর দু-তিনজন ছাড়া সবাই প্রায় নবীন। সহযোগীদের কথা তো বললামই অভিনেতারাও প্রায় সবাই নবীন। এদের মধ্যে কিছুজন নবীন কিন্তু অভিজ্ঞ অভিনেতা। যেমন প্রসেনজিৎ বর্ধন, দীপ্ত, মৃন্ময়, পলাশ, সুমন নন্দী, শান্তনু, সুপ্রিয়, দেবরাজ, প্রীতমরা।এছাড়া অভিজ্ঞতা কম থাকলেও এদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে শ্রীজিতা, জয়ন্ত, আত্রেয়ী, তন্ময়, শ্রীতমা, সৃজনী, ঈশানি, মিনাক্ষীরা। এদের মধ্যে আবার শ্রীজিতা আমার সহনির্দেশক আর জয়ন্ত প্রপ এর দায়িত্বে। আর মুক্তিনাথ চট্টোপাধ্যায়, রজতদা, দিলীপদা, সুভাষদারা প্রবীণ হলেও এখনো মানসিক দিক দিয়ে ভীষণ নবীন। খুব ভালো লাগছে আমার এদের সঙ্গে কাজ করতে। যে কোনও কাজে আন্তরিকতা খুব প্রয়োজন । এই টিমে সেটা প্রবল ভাবে আছে।

 স্বাধীন নির্দেশক এইবার। খুব কঠিন লাগছে? 

খুব কঠিন। একজন থিয়েটারের নির্দেশককে প্রতিটি বিষয়ে সমান গুরুত্ব দিতে হয়। সব দিকে সবসময় লক্ষ্য রাখা কিন্তু খুবই কঠিন। তবে এই কঠিন কাজ করতে পারছি তার কারণও টিমের সবার সহযোগিতা। সত্যি ইচ্ছা করছে এবার আরও নির্দেশনার কাজ করার। এর একটা অন্য রকম মজা পাচ্ছি।

পম্পা দেব থিয়েটার কর্মী ও কবি। 

Shares

Leave A Reply