সোমবার, আগস্ট ২০

ল্যাপটপের ব্যাটারি থেকে লাগা আগুন নেভানোর ব্যবস্থাই নেই প্লেনে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ল্যাপটপ বা ইলেকট্রনিক গ্যাজেট অনেক সময়েই চেকড ব্যাগেজে রেখে দেন যাত্রীরা। কিন্তু সেই গ্যাজেটের অতিমাত্রায় গরম হয়ে যাওয়া ব্যাটারি থেকেই লেগে যেতে পারে আগুন। আর যদি লাগে, তা হলে সেই আগুন থামানোর জন্য যথেষ্ট নয় প্লেনের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা।

আমেরিকান ফেডেরাল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রাল এর এক নয়া গবেষণায় উঠে এসেছে এমনই তথ্য।

এত দিন ধারণা ছিল যে, প্লেনের কার্গোহোল্ডের ভেতর এমন কোনও আগুন লাগলে তা সহজেই নিভিয়ে ফেলবে অগ্নিনির্বাপণ গ্যাস।

কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, ইলেক্ট্রনিক যন্ত্রের ব্যাটারি থেকে লাগা আগুনের সঙ্গে যদি মেশে স্প্রে বা কসমেটিক্সের মতো কোনও জিনিস,তা হলে সেই আগুন নেভানোর মতো যথেষ্ট ব্যবস্থা নেই কোনও প্লেনে।

স্বভাবতই এই নিয়ে উদ্বিগ্ন বিশেষজ্ঞরা। কারণ কসমেটিক্স বা স্প্রের মতো জিনিস নিয়ে বিমানে ওঠেন অনেক যাত্রীই।

মোবাইল ফোন, ট্যাবলেট, ল্যাপটপের মতো অনেক কিছুতেই ব্যবহার হয় লিথিয়াম ব্যাটারি। দিনে দিনে বাড়ছে এর ব্যবহার।

কিন্তু এই ব্যাটারি থেকে আগুন লাগার সম্ভাবনা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই চিন্তিত নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। কিছুদিন আগেই পাইকারি হারে লিথিয়াম ব্যাটারি নিয়ে যাওয়া নিষিদ্ধ হয়ে গিয়েছে প্লেনে।

যাত্রীদের সঙ্গে নিয়ে যাওয়া কেবিন ব্যাগেজে রাখা কোনও কিছু থেকে আগুন লাগলে তা জল দিয়েই নিভিয়ে ফেলা যায়।

প্লেনের কার্গোহোল্ডে আগুন নেভানোর জন্য ব্যবহার করা হয় হ্যালন গ্যাস। কিন্তু পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে লিথিয়াম ব্যাটারি থেকে লাগা আগুন নেভাতে পারে না এই গ্যাস। তবে সেই আগুন কার্ডবোর্ড বা কাপড়জামায় ছড়ানো থেকে আটকাতে পারে হ্যালন।

কিন্তু লিথিয়াম ব্যাটারি থেকে লাগা আগুনের সংস্পর্শে যদি আসে স্প্রে বা কসমেটিক্সে রাখা এরোজ়ল তা হলে ঘটতে পারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ।

কিন্তু মাঝ আকাশে কার্গোহোল্ডে রাখা চেক-ইন ব্যাগেজ থাকে বিমানকর্মীদের আয়ত্তের বাইরে। ফলে তাতে আগুন লেগে গেলে সহজে নেভানোর কোনও সুযোগ থাকে না তাদের।

সন্ত্রাসবাদীরা ইলেকট্রনিক যন্ত্রে বোমা লুকিয়ে রাখতে পারে এই ভয়ে ২০১৭ সাল থেকে আমেরিকায় যাত্রীদের বেশিরভাগ ইলেকট্রনিক যন্ত্র কার্গোহোল্ডে পাঠানোর কথা ভাবা হয়েছিল।

এখন এই নতুন সমীক্ষার পর প্রশ্ন উঠছে সেই সিদ্ধান্ত নিয়েও।

Shares

Leave A Reply