‘করোনা’ গালি দিয়ে বেধড়ক মার মণিপুরী তরুণীকে! আতঙ্ক ও বিদ্বেষের শিকার, মাথায় চোট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি তিনি

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিন থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের প্রকোপে গোটা বিশ্বে এই রোগে এখনও পর্যন্ত মারা গেছেন তিন লক্ষেরও বেশি মানুষ। আক্রান্ত প্রায় ৫০ লক্ষ। ভারতও এড়াতে পারেনি বিপদ। ৮২ হাজারের বেশি মানুষ ইতিমধ্যেই আক্রান্ত। তবে ভাইরাসের প্রকোপের সঙ্গে সঙ্গেই এ দেশে ছড়িয়েছে হিংসা আর গুজবের বাতাবরণ। ফলে করোনাভাইরাসের বাহক সন্দেহে বা নিছক বিদ্বেষের কারণে ভারতের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের মানুষরা নানা হেনস্থার শিকার হয়েছেন দেশজুড়ে। তাঁদের চেহারার ও চোখমুখের গড়নের সঙ্গে চিনের মানুষদের মিল থাকার কারণে প্রায়ই গণরোষের মুখে পড়েছেন তাঁরা। গুড়গাঁওয়ে সেরকমই একটি ঘটনার শিকার হলেন এক মণিপুরী তরুণী।

অভিযোগ, ‘করোনা’ বলে গালিগালাজ করে তাঁকে প্রচণ্ড মারধর করেন স্থানীয় এক মহিলা ও তাঁর পরিবার। মাথায় লাঠির বাড়ি খেয়ে অজ্ঞান হয়ে য়ান তিনি। হাসপাতালে চিকিৎসা ও পরীক্ষা চলছে তাঁর। পাশাপাশি অভিযোগ উঠেছে, এই ঘটনায় প্রাথমিক ভাবে নিষ্ক্রিয় ছিল পুলিশ!

আহত মণিপুরী তরুণী চং হই মিসাও জানিয়েছেন, তিনি গুড়গাঁওয়েরই বাসিন্দা। বিশেষ প্রয়োজনে বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে ফৈজবাদে গেছিলেন তিনি। পথে হঠাৎ তাঁর পথ আটকে দাঁড়ান এক মহিলা। জানান, যেতে দেবেন না। সেইসঙ্গে তিনি নানা ভাবে অপমানও করতে থাকেন মিসাওকে।

তখনও কিছু বুঝতে পারেননি ২০ বছরের মিসাও। তিনি প্রথমে মহিলাকে অনুরোধ করেন পথ ছেড়ে দেওয়ার জন্য। কিন্তু অভিযোগ, ওই মহিলা আরও অভদ্র ভাষায় আক্রমণ শুরু করেন মিসাওকে। তাঁকে ‘করোনা’ বলে ডাকতে শুরু করেন বলে জানিয়েছেন মিসাও। এর পরেই তিনি এই আক্রমণের কারণ বুঝতে পারেন।

এর পরে মিসাও প্রতিবাদ জানালে ওই বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন মহিলার পুত্রবধূ। আরও কিছু সদস্য বেরিয়ে আসেন। এর পরে সকলে মিলে মিসাওকে লাঠি দিয়ে মারতে শুরু করেন। মাথায় লাঠির আঘাত লাগায় অজ্ঞান হয়ে যান তিনি।

northeastern manipuri

স্থানীয়দের সাহায্যেই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় মিসাওকে। তাঁরাই পুলিশেও খবর দেন। হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পরে খানিক সুস্থ হন মিসাও। তিনি আইনি পদক্ষেপ নিতে চান। অভিযোগ, সব শুনে স্থানীয় পুলিশ আধিকারিক তাঁকে বিষয়টি ‘ছেড়ে দিতে’ এবং ‘মিটিয়ে নিতে’ বলেন।

এর পরে বাধ্য হয়েই দিল্লির উত্তর-পূর্ব ভারত সহায়তা কেন্দ্রের হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করেন মিসাও। তাঁদের সবকিছু জানান। সেখান থেকে কিছু আধিকারিক ঘটনাস্থলে আসেন তার পরে। শেষে তাঁদেরই পক্ষ থেকে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা হয়।

উত্তর পূর্ব সহায়তা কেন্দ্রের পক্ষ থেকে নাম্বু রিয়ামেই জানান তাঁরা ডেপুটি পুলিশ কমিশনারের সাথে কথা বলে অভিযোগ দায়ের করেছেন। এর পরে মিসাওয়ের তরফ থেকেও আরও একটি অভিযোগ নেয় দিল্লি পুলিশ।আক্রমণকারী মহিলা ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয় এফআইআর।

মিসাও এখনও হাসপাতালে ভর্তি, সিটি স্ক্যান করা হয়েছে তাঁর। আপাতত স্থিতিশীল রয়েছেন তিনি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More