শনিবার, মার্চ ২৩

বিশ্বভারতীতে জাল শংসাপত্রে চাকরি, দোষী সাব্যস্ত প্রাক্তন উপাচার্য সহ ৩

দ্য ওয়াল ব্যুরো, বীরভূম :  জাল শংসাপত্র দিয়ে চাকরিতে নিয়োগের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলেন বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য সহ- তিনজন। আগামীকাল এই মামলায় সাজা ঘোষণা করবে বোলপুর মহকুমা আদালত।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৭ সালের জানুয়ারিতে বিশ্বভারতীর অ্যাপ্লায়েড ম্যাথামেটিকসের অধ্যাপিকা হিসাবে যোগ দিয়েছিলেন মুক্তি দেব। সেই সময় বিশ্বভারতীর উপাচার্য ছিলেন দিলীপ সিনহা এবং কর্মসচিব ছিলেন দিলীপ মুখোপাধ্যায়। ২০০২ সালে মুক্তিদেবী বিশ্বভারতী থেকে পিএইচডি করার আবেদন করেন। তাঁর আবেদনের ভিত্তিতে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ, মুক্তিদেবীর স্নাতক এবং মাস্টার ডিগ্রির নথি চেয়ে পাঠায়। কিন্তু মুক্তিদেবী সেই নথি জমা দিতে ব্যর্থ হন বলে অভিযোগ ওঠে। এরপরই বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হওয়ায় তাঁর চাকরিতে যোগদানের নথি খতিয়ে দেখা হয়। তখনই বোঝা যায় মুক্তিদেবীর সমস্ত শংসাপত্র ভুয়ো এবং সেই ভুয়ো শংসাপত্রেই সই করেছেন তৎকালীন উপাচার্য দিলীপ সিনহা এবং কর্মসচিব দিলীপ মুখোপাধ্যায়।

কীভাবে ভুয়ো নথি জমা করে তিনি চাকরিতে যোগ দিলেন, এবং কেনই বা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং কর্মসচিব নথি খতিয়ে না দেখে তাতে সই করলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।

২০০৪ সালে তৎকালীন উপাচার্য সুজিত বসুর নির্দেশে কর্মসচিব সুনীল সরকার একটি মামলা রুজু করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে শুরু হয় তদন্ত। মামলার দায়িত্বভার তুলে দেওয়া হয় সিআইডির হাতে। তদন্ত শেষ করে ২০০৫ সালে সিআইডি আদালতের কাছে চার্জশিট জমা করে। তৎকালীন উপাচার্য দিলীপ সিনহা, কর্মসচিব দিলীপ মুখোপাধ্যায় এবং মুক্তি দেবের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৬৯, ৪৭১, ৪৭৪ এবং ১২০বি ধারায় মামলা রুজু হয়।

এরপর দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে মামলা চলার পর অবশেষে বুধবার তৎকালীন উপাচার্য দিলীপ সিনহা, কর্মসচিব দিলীপ মুখোপাধ্যায় ও মূল অভিযুক্ত মুক্তিদেবীকে দোষী সাব্যস্ত করে বোলপুর আদালত।  সিআইডির আইনজীবী নবকুমার ঘোষ বলেন, “জাল শংসাপত্র জমা নিয়ে মুক্তিদেবীকে চাকরি দেওয়ার মামলায় তিনজনকে বুধবার দোষী সাব্যস্ত করেছে বোলপুর মহকুমা আদালত। আগামীকাল তাঁদের সাজা ঘোষণা করা হবে।”

দিলীপবাবুদের আইনজীবী শ্যামসুন্দর কুঁয়ার বলেন, “সাজা যাই হোক, আমরা উচ্চ আদালতে যাব।”

Shares

Comments are closed.