শনিবার, মার্চ ২৩

ধানের চারায় মুখ ঢেকেছে উত্তরবঙ্গের নদী, প্রমাদ গুনছেন পরিবেশকর্মীরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: জমি দখল তো আকছার শোনা যায়। তাই বলে নদী দখল! নদী আটকে দিব্যি চলছে ধান চাষ। হেলদোল নেই প্রশাসনের।
অভিযোগ, জলপাইগুড়ি রাজগঞ্জ ব্লকের ফারাবাড়ি গ্রামে শাহু নদীতে আল দিয়ে নদীর জল আটকে বিঘের পর বিঘে এলাকা দখল করে বোরো ধানের চাষ শুরু করেছেন এলাকার কিছু বাসিন্দা। এলাকায় গেলে দেখা যায় যে শাহু নদী পেরিয়ে হাতিয়ারডাঙা যাওয়ার পথে সেতুর নিচে রীতিমতো নদী দখল করে বোরো চাষের জমি তৈরি।  এর ফলে আটকে গিয়েছে নদীর গতিপথ। তাতে নদীর ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে আশঙ্কায় ভুগছেন পরিবেশবিদরা।

উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের প্রধান সুবীর সরকার জানান, গত কয়েক বছর ধরে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন ছোট নদীতে এই ভাবে চাষের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। চাষ করতে যে কীটনাশক ও রাসায়নিক সার দেওয়া হচ্ছে তা মিশছে নদীতে। ফলে নদী থেকে হারিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, পোকা ও অন্য প্রাণী। তিনি বলেন, “নদী আটকে চাষের ফলে প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট করার পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের ছোট মাছের ভান্ডারও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বাজারে মাছের আকাল দেখা যাচ্ছে।” এছাড়াও নদীতে আল দেওয়া বা কোনও এলাকায় মাটি ফেলে উঁচু করার ফলে নদী ভাঙনও বাড়ছে।
নদী চুরির এই খবর জানতেন না রাজগঞ্জের বিধায়ক খগেশ্বর রায়। বললেন, “বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আপনাদের কাছে শুনতে পেলাম। আমি জায়গাটা পরিদর্শন করব। বিষয়টি ভূমি রাজস্ব আধিকারিকেরও নজর আনব।”
বিষয়টি জানতেন না রাজগঞ্জের ভূমি রাজস্ব দফতরের আধিকারিক রূপক ভাওয়ালও। তাঁর কথায়, “এর আগেও সরকারি জমি দখল মুক্ত করা হয়েছে। যদি নদী দখল হয়ে থাকে তবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আজকেই আমি দল পাঠাবো।”
তবে নদীর গতিপথে বিঘের পর বিঘে আদৌ দখল মুক্ত হবে কি না তাই নিয়ে কিন্তু সংশয়ে পরিবেশকর্মীরা।

Shares

Comments are closed.